Showing posts with label পুতুল. Show all posts
Showing posts with label পুতুল. Show all posts

Thursday, 10 March 2022

মন্দাকিনী পুতুল

আজ জানাবো মন্দাকিনী পুতুল এর কথা।সাত গ্রাম নিয়ে জনপদ গড়ে তুলেছিলেন বন্দোপাধ্যায় জমিদাররা এখানে, জমিদার পেয়েছিলেন, জাহাঙ্গীর কাছ থেকে। ইংরেজরা উচ্চারনে ভুল করে হয়েগেলো #সাউথগরিয়া । পথ নির্দেশনা চাইবেন জানি এখনই। এই জমিদারদের  বিনোদন  জন্য এখানে আনা হয় চম্পাবতী কে। সেই থেকেই চপ্পাহাটী , চম্পাহাটি নাম নিশ্চিত চেনা। এই বন্দোপাধ্যায় জমিদাররা ঠাকুর বানানোর জন্য কৃষ্ণনগরের থেকে মৃৎশিল্প দের নিয়ে এসে গড়ে তোলেন পাল পাড়া।  তারাই তৈরী করে আসছে এই পুতুল কে।



ছাঁচ তৈরি পুতুল। আলাদা করে রং করা হয় না এই পুতুল কে। উত্তর প্রদেশের গ্রামীণ পুতুল গুলো ঠিক এই ভাবে ই তৈরি হয়। পুতুল আগুন পুড়িয়ে তে রঙ হয় তাতেই এগুলো বেশ ভালো লাগে। রানী পুতুল মতো দেখতে এই মন্দাকিনী পুতুল তৈরি করলেন  এখানে এই পালেরা। এদের পুতুল গুলো কিন্তু ভিক্টোরিয়া মতো দেখতে  না।  বরং একটু আধটু বাঙালি মুখ। বোধহয় চপ্পাবতী এরকম দেখতে ছিলো।
জাফর পুরের কাছে গ্রামটি। স্থায়ী মেলাতে বিক্রি হয় সব পুতুল গুলো। আলপনা পাল একা এই পুতুল গুলো বানাচ্ছেন। যোগাযোগ করতে পারেন। করোনা প্রভাবে কাজ বন্ধ করে দেবে ভাবছেন উনি।


Friday, 28 January 2022

বৌ পুতুল

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরের শিখরবালি গ্রাম, বিখ্যাত মৃৎশিল্পী মহিতপালের বাড়ি।কথায় বলে " মাটি টাকা , টাকা মাটি, " কিন্তু মৃৎশিল্প আজ মুল্য পায় না।    বারুইপুর, কাছে শাশন  নাম শুনেছেন। সেখানের কাছে ,  শিখরবালি, পালপাড়া আমাদের গন্তব্য। পথে বহু বাড়ি চোখে পরবে  যেখানে মাটির টব, মালসা, হাড়ি, প্রদীপ স্টেন্ড, ঘট, তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আমার খোঁজ বৌ পুতুল।ছাঁচ তৈরি হয় কিছু পুতুল,  তবে কিছু  পুতুলগুলি হাতে টিপে টিপে ও তৈরি, তবে আগুনে পুরিয়ে পরে রঙিন করে করা হয়। পুতুলগুলি নির্মানে গ্রামীণ ছোঁয়া আছে। 
Sagar Chattopadhyay স্যারের বইতে উল্লেখ শিখরবালি গ্রাম নাম ধর্মমঙ্গলের পুঁথিতে শিহরবালি বলে উল্লেখ ছিল লেখকের গ্রাম্য ভনিতাতে৷ 

এখন তাঁরা গ্রামের নাম শিকারবালিও বলছেন৷ 
গ্রামের নালতের হাঁট গায়েন পাড়ায় পাশাপাশি তিনটি আটচালা পরিতক্ত মন্দির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ৷ গ্রামটিতে পালেদের বহুপত্রাকার খিলানসহ দুর্গাদালান এখন আর নেই ৷ আছে বিশশতকের প্রথমে তৈরী ব্যতিক্রমী শীতলা মন্দির 
বারুইপুর কাছে,শিখরবালি পালপাড়ায়  এখানে তৈরি হতো আগে, ঘরে ঘরে।আজ তা হয় মাত্র দুই টি ঘরে। শিয়ালদহ থেকে লক্ষীকান্তপুর ডাউন লোকাল ধরে বারুইপুরের পরের স্টেশন শাসন৷  সাইকেল ভ্যান ও অটো করে শিখরবালি গ্রামে গ্রামের পালেদের শীতলামন্দিরের সামনে নেমে উল্টো দিকে  পাড়াতুতো রাস্তা ধরে একটু এগিয়ে  স্থানীয় মানুষ দেখিয়ে দেবে বাড়ির টা।এলাকায় এখানে প্রায় সব বাড়িতে মাটির জিনিস পত্রের তৈরি হয়।  আগে কম বেশি সব পালপরিবারের মহিলা রা, বৌপুতুল এবং পুতুল বানানোর সাথে যুক্তছিল৷ এখন যদিও দুইটি ঘর পুতুল বানায়। এক দিদা, আর বয়স্ক স্বামী-স্ত্রী তারা অবশ্য এখন অসুস্থ্য। গ্রামে আর কেউ এই বউপুতুল বানায় না৷
 তাই হয়তো মাটির পুতুলগুলি দ্রুত হারিয়ে যাবে। শিল্পীরা অর্থনৈতিক কারনে, বাজারের অভাবে, অপ্রকাশ্যে বিক্রেতার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে শিল্প। 
কারণ গ্রামীণ। মেলা গুলো একমাত্র  নির্ভর  করে থাকে এরা।তাই শুধু ডাসা পিয়ারা জন্য নয় , মৃৎশিল্প জন্য একটা প্রচারের আলোয় আসা উচিত শিয়ার বালীকে।

আবার শিখর বালির কথা বলতে ই হয়।১৭০০ খ্রীষ্টাব্দে বারুইপুরের শিখরবালি গ্রাম কথা শোনা যায়। জগাদি ঘাটায় নদীর দুপাশে ঘনবন জঙ্গল  পরিষ্কার করে গড়ে উঠেছিল জনবসতি ধনবেড়িয়া গ্রাম। এলাকায় বার বার মহামারী  হয়ে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয় ।আশে পাশের অনেক গ্রাম মানুষ শূন্য হয়ে যায়। ডাক্তার বৈদ্য কোথায় তখন ।মহামারী রোগকলেরা,হাম,বসন্ত,সাপের কামড়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে সেই সময় গ্রামের মোড়ল মাতব্বররা ঠিক দেবদেবীকে সন্তুষ্ট করে পূজো দিলেই এমন সব বিপদের হাত থেকে নিস্তার মিলবে। ২০০ বছর আগে গ্রামবাসীরা  এলাকার মোড়লরা মাতব্বরদের নিয়ে জগাদিঘাটায় 
জঙ্গল লাগোয়া নদীর তীরে একটি বট ও অশ্বথ গাছের নীচে পুরাতন  সুন্দরবনে প্রাচীন লৌকিক দেবদেবী প্রকৃতির  ‘মা শীতলা’  পূজা শুরু করেন। সাথে সুন্দরবনের  বাদাবনের লৌকিক দেবদেবী ‘ঘন্টাকর্ণ’(শীতলার স্বামী),‘জরাপাত্র ও বসন্ত’(শীতলার দুই পুত্র), ‘রক্ত প্রতীম’(শীতলার দাসী, ‘মনসা’ ,‘বনবিবি’ , ‘সজঙ্গুলি’ , ‘পদ্মাবতী’ , ‘পঞ্চানন’ , ‘দূর্বাবতী’ ,  ‘কালী’ সহ  দেবদেবীরা পুজো পাওয়া শুরু করলেন।উল্লেখ্য ফকির সম্প্রদায়ের এই জগাদি ঘাটে বনবিবি পূজা করে থাকেন  । নিয়ম অনুযায়ী এই পুজোর দিনে এলাকার প্রতিটি পরিবারে অরন্ধন পালিত হয়।
ঐতিহাসিক জগাদিঘাট  থাকলেও প্রবাহমান নদী মজে গিয়েছে।তবে প্রাচীন সেই বটবৃক্ষ আজও প্ দাঁড়িয়ে আছে। এমানুষজন নানান সমস্যা,বিপদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রাচীন বট গাছে আজও মানত করে কাপড়ের গীট(আঞ্চলিক ভাষায় “মুদো”) বেঁধে আসেন। উদ্ধার হলেই পুনরায় সেই কাপড়ের গীট খুলে যাঁকজমক ভাবে পুজো দিয়ে থাকেন।
যাইহোক আমি শিখরখোলা এসেছি বৌপুতুলের খোঁজে। এখানে পালরাও শীতলা মন্দির তৈরি করেছিল তবে সেটা ১৯৪০ সালে।
শিখরবালীর ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনের এক প্রতিফলন এই শীতলা মন্দির গুলি।
 এখানে মুনাসা পূজা ও বিখ্যাত।শিখরবালী তুলোরবাদা মনসা মায়ের পূজাতে বিশাল নরনারায়ণ সেবার আয়োজন  করা হয়। শিখরবালীর সমগ্র অধিবাসীবৃন্দের রইল আমন্ত্রণ।মহাদেবের মানস কন্যা ও সর্প কুলের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা মনসা । সাপের সঙ্গেই  ঘর করতে হয় গ্রামগঞ্জের মানুষকে, তাই মনাশা পূজা র চল আছে এখানে।আগের রাতে অমাবস্যা তিথি তে  বাড়ির সবাই একত্রিত হয়ে সারা রাত ধরে কুটনো, বাটনা, রান্না ও পর দিন মা মনসাকে নিবেদন করে তবে খাওয়া।  বাংলার নিতান্তই এই আন্তরিক অরন্ধন ব্রত বা রান্না পূজা । জগদ্ধাত্রী পূজা, হয় ।এখানে এখনো চলে, বারোমাস তেরো পার্বণ, চলে গ্রামীণ মেলা ,  যা এই অঞ্চলের পুতুল শিল্পের ফুসফুস বলতে পারেন।
Manab Mondal

Saturday, 4 December 2021

ঝুলন পুতুল

ঝুলন মানেইউঠোনে, সিড়ির নীচে, বারান্দার এক কোণে কাদা মাটির পাহাড় সাজিয়ে সৈন্য জড়ো করে কিংবা গুহা রাঙিয়ে সেখানে সিংহ-বাঘকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ছেলেবেলায় ঝুলনে মেতেছেন অনেকেই। সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে ছুটেছে কল্পনার উড়ান। 

ঝুলন যাত্রা বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম বড় উত্‍সব রাধা কৃষ্ণের প্রেমের উদযাপন হয় এই উত্‍সবের মধ্যে দিয়ে। ছোট ছোট পুতুল দিয়ে এদিন বাচ্চারা ঝুলন সাজায়। বিভিন্ন আচার ও সাবেক প্রথা জড়িয়ে আছে বাঙালি সমাজের এই উত্‍সবটির সঙ্গে।বাঙালির যেমন ঝুলন, তেমনি অবাঙালি মারোয়াড়ি সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মাষ্টমী তে এই পুতুল সাজিয়ে নবজাতক কৃষ্ণের জন্মোৎসব পালন দেখা যায়। তবে এখন পুতুলের পসরা কমে গেছে। দুবছর আগেও প্রচুর বেনারসের কাঠের পুতুল, রাজস্থানী লোক শিল্পের পুতুল আসতো। সেই সাথে কৃষ্ণনগর থেকে কৃষ্ণলীলা র বিভিন্ন মডেল।

অনেক হয়তো এখন ছেলে বেলার কথা মনে পরবে। একটা ধর্মীয় উৎসব কিন্তু পুতুল শিল্প চাঙ্গা করে তুলতে পারে। ঝুলন শুধু উৎসব নয় নিছক। ধর্ম আসলে সমাজ বিজ্ঞান। ঝুলন সাজানো সাথে সাথেই আমরা বুঝতে পারতাম বাস্তুতন্ত্র। অর্থাৎ যে সব  পশুপাখি আজকাল বিপন্ন হচ্ছে। তাই হতো না আজকে যদি ঝুলনের মতো উৎসব দিয়ে বাস্তুতন্ত্র খেলার ছলেই বুঝতে পেরে যেতো ছোটরা।

এই পুতুলগুলি দুইভাবে তৈরি করা হয়। কখনও ছাঁচে আলাদাভাবে দুই খোলে বানিয়ে জোড়া দিয়ে, আবার কখনো হাতের আঙুলে টিপে টিপে। পুতুল বানাতে ব্যবহার করা হয় মজে যাওয়া এঁটেল মাটি ও বেলে মাটি। কাঁচা মাটির পুতুল রোদে শুকিয়ে তারপরে দেওয়া হয় রঙের প্রলেপ। রং করতে এলামাটি বা খড়িমাটির সঙ্গে মেশানো হয় গুঁড়ো রং এবং গদের আঁঠা। এইভাবেই মাটির পুতুলগুলি আস্তে আস্তে রঙিন হয়ে ওঠে।  মাছ-ধরা পুতুল,  সৈন্য পুতুল, হরেক রকমের পুতুল।

ঝুলনে সৈন্য, ঘোড়া, গরু, সব্জি, মাছ বিক্রেতা— এ ধরনের পুতুলের চল বেশি। কিন্তু আগের মতো পুতুল বিক্রি হয় না।চাহিদা না থাকায় বাড়েনি পুতুলের দামও। তবে ঘর সাজানোর জন্যে পুতুল বিক্রি হলেও ঝুলনের জন্য আলাদা করে পুতুলের চাহিদা নেই। আসলে বোধহয় আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ইঁদুর দৌড়ে ব্যাস্ত। তবে যৌথ পরিবার গুলো ভেঙে গেছে। এখন সব ফ্ল্যাট বাড়ি, ঝুলন বা কোথায় করবো আমরা । ঝুলন পুতুল তাই হয়তো হারিয়ে যাবে একদিন।

Monday, 29 November 2021

চীনা মাটির পুতুল

পরিব্রাজক গবেষক সায়ন রায়ের সংগ্রহ এর চীনা মাটির প্রদীপ, রুই মাছ দেখে মনে পরে গেলো , বাংলায় একসময় চীনামাটির পুতুল  তৈরি হতো খুব। পুতুল আসলে কি পরিস্কার করে বলে নেওয়া উচিত।পুতুল কখনও মানুষের চেহারার কাছাকাছি আবার কখন কোনো পশুর চেহারার অনুকরণে হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে বৃহত্তর দৃষ্টিতে মাটি, কাঠ, মোম, প্লাস্টিকের বানানো পশুপাখি থেকে ফল, গাছ সব কিছুকেই পুতুলের শ্রেণিভুক্ত করা যায়। 
এবার চীনা মাটির পুতুল এর কথা য় আসা যাক। চীনা মাটির নাম থেকে ই বোধহয় বুঝতে পরেন এটি বাংলার মাটি নয়। চীনামাটির সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয়।চীনারা সর্বপ্রথম মাটি দিয়ে পাত্র তৈরি করে।  এটি একটি সাদা মাটি  আর এ কারণেই এ মাটিকে চীনামাটি নামে নামকরণ করা হয়। তবে ক্যাওলিং টিলা থেকে সংগ্রহ করার জন্য কোথাও কোথাও এটি ক্যাওলিন বলা হয় । চীনামাটি হচ্ছে বিশেষ ধরনের মাটি, যা বিভিন্ন দ্রব্য তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়। এই মাটিতে আছে ৪৬ শতাংশ বালু, ৪০ শতাংশ অ্যালুমিনা ও ১৪ শতাংশ জল থেকে।
উচ্চ তাপে আগুনে পোড়ালে চীনামাটি সাদা, মসৃণ ও চকচকে হয়। এ বৈশিষ্ট্যের জন্যই এ মাটি দিয়ে কাপ, প্লেট, বাটি ইত্যাদি তৈরি করা হয়।
এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার খনি থেকে প্রচুর পরিমাণে চীনামাটি সংগ্রহ করা হয়। পশ্চিম ইংল্যান্ডে কর্নওয়ালে ও পশ্চিম ডেভনে চীনামাটির পলি তলানি পাওয়া যায়। এ জন্য এসব এলাকায় নানা ধরনের মৃৎশিল্প গড়ে উঠেছে। মৃৎশিল্প বা মাটির তৈরি শিল্পের পাশাপাশি চীনামাটি কাগজ, রাবার, রঙ, প্রসাধনসামগ্রী ইত্যাদি তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়।
তবে এই মাটির ও একটা ইতিহাস আছে। মনে হয় সুকুমার রায়ের কোন প্রবন্ধে পড়ে ছিলাম।দশ হাজার বৎসর আগে মিশরে  মাটির বাসন তৈরি হত, তাহ্ সুন্দর সুন্দর দেখতে ছিলো। বাসনগুলি সমস্তই হাতে গড়া, কারণ, কুমারের চাকে মাটি গড়িবার কায়দা সে সময়ে   জানা ছিল না। কিন্তু এ কাজে তাহাদের হাত এমন সাফাই ছিল যে, বড় বড় জালার মতো পাত্রগুলির গড়নেও কোথাও খুঁত ধরিবার যো ছিলো। বড় বড় জাহাজী নৌকা করিয়া এক সকল বাসন দেশ-বিদেশে রপ্তানি ও হতো । বাসনগুলির উপর চকচকে কালো পালিশ থাকিত, তার গায়ে সাদা রঙের কারুকার্য করা থাকতো।

মাটির বাসন নানারকমের। আমাদের দেশে সাধারণ 'মেটে বাসন' যা অল্প আঁচে পুড়িয়ে তৈরি হতো। গেলাস, ভাঁড়, সরা, মালসা  আরম্ভ করে কুঁজা, জালা পর্যন্ত ভারতবর্ষের প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায় এখনো। কিন্তু 'সাধারণ মাটির' জিনিসও যে কত সুন্দর হইতে পারে, তাই নিয়ে ই আমাদের চর্চা।

আর একরকম মাটির জিনিস হয় ভারতে, তাহাকে পাথুরে মাটি বলা যায়। এগুলোকে কড়া আগুনে পোড়ালে পাথরের মতো মজবুত হয় এবং তাহাকে অসংখ্য প্রকার দরকারী কাজে লাগান যায়। বাড়ি বানাইবার টালি, ড্রেনের পাইপ, নানারূপ খেলনা প্রভৃতি কত জিনিস তৈয়ারি হয়। তাহাতে আবার নানারকম রং দেওয়া ও ইচ্ছামত পালিশ ধরান চলে।

সাদা মাটির বাসন কথায় আসি এবার চীনে মাটির বাসন এক সময়ে কেবল চীন দেশেই ত পাওয়া যেতো। প্রায় সাত শত বৎসর আগে মুসলমান সম্রাট সালাদিনের কাছে চীন সম্রাট কতগুলো উপহার পাঠিয়েছিলেন, তাহার মধ্যে কতগুলা চীনা মাটির বাসন ছিল। তেমন বাসন কেউ চোখে দেখেননি। পাতলা ঝিনুকের মতো স্বচ্ছ, ডিমের খোলার মতো হালকা, সে আশ্চর্য বাসনের কথা চারিদিকে রটে গেল।

গ্রীস প্রভৃতি দেশে এক সময়ে অতি সুন্দর মাটির ঘড়া ও ফুলদানি তৈয়ারি হইত কিন্তু গ্রীক ও রোমান সাম্রাজ্য ধ্বংস হইবার পর এই শিল্প নষ্ট হইয়া যায়। এই সময় আবার দক্ষিণ ইউরোপে, বিশেষত ইটালিতে নানারূপ শিল্পের বাসন তৈরি আগ্রহ দেখা দিতে থাকলো। তখনও তাহারা চীনা মাটি গড়িতে পারে নি কিন্তু মাটির উপর সাদা পালিশ চড়াইয়া তাহার চমৎকার নকল করেছিলেন। বহুদিন পর্যন্ত এই ব্যবসায় ইটালির একচেটিয়া ছিল। যাহাদের চেষ্টায় ও যত্নে এই শিল্পের ব্যবসা ইউরোপের চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তাদের মধ্যে প্যালিসির নাম বিশেষভাবে করা যায়। 
তাই সাত কান্ড রামায়ণ বলে যেটা প্রমান করতে চাইছিলাম, বাংলার হস্তশিল্প ও সংস্কৃতি  কৃতিত্ব এটাই যে এই চীনা মাটি দিয়ে বাংলার শিল্পী রাত কিন্তু গেয়ে তুললো নানা ধরনের পুতুল। যা একটি শৈল্পিক নিদর্শন। সবচেয়ে বড় কথা যা আবার বাংলার সংস্কৃতি প্রতীক, যেমন বাঙালি র প্রিয় মাছ রুই, ভুড়িওয়ালা বৈষ্ণব, না খেতে পাওয়া রাগা শিব ঠাকুর।
চীনামাটির পাত্র বা পতুল তৈরি সহ কাজ নয়। চীনামাটির পুতুল তৈরির জন্য প্রথমে কোয়ার্টজ ও ফেলসপার চূর্ণ চীনামাটির সাথে মেশাতে হয়। পরে জল দিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয়। সে মণ্ড থেকে তৈরি হয় নানা ধরনের মৃৎপাত্র বা পুতুল এর আকার দিতে হয়। এরপর পাত্রগুলো শুকানোর পর ১৩০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়  পোড়ানো হয়। এরপর সেগুলোতে দেয়া হয় কাচের প্রলেপ; সেই সাথে বিভিন্ন ধরনের রঙ ব্যবহার করে নকশাও করা হয়। এভাবেই চীনামাটি থেকে পাওয়া যায় বিভিন্ন দ্রব্য মানে পুতুল বাসন পত্র। এগুলো বেশ জনপ্রিয় এখনো।
Manab Mondal