Posts

Showing posts from March, 2022

জয় নগরের দোল উৎসব

Image
“ডাহিনে অনেক গ্রাম রাখে সাধু চালা । ছত্রভোগ উত্তরিলা অবসান বেলা ॥ মহেশ পূজিয়| সাধু চলিল| সত্বর। অম্বুলিঙ্গে গিয়া উত্তরিল সদাগর ॥” বৈষ্ণব পদাবলী এই চার টি লাইন যথেষ্ট প্রমাণ দেয়, এককালে সুন্দর বন শুরু বাদ বন ছিলো না এখানে বানিজ্য সমৃদ্ধ জনপদ ছিলো। কিন্তু সুলতানদের শাসন কালে কলিকাতা যখন ইংরেজরা বন্দর তৈরি করলে, তখনই ডাচদের  বানিজ্য স্বার্থ  খালকেঁটে   আর সরস্বতীর সাথে যুক্ত করে দেওয়া গঙ্গার ধারাকে। গঙ্গার ধারাকে কেটে কিছুটা পশ্চিমে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাই একে  কাঁটিগঙ্গা বলা হয়। প্রসঙ্গত বলি  এই অংশের থেকে গঙ্গার জল কোনো পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে লাগে না এই জন্য।  কিন্তু এই কাটি গঙ্গা আদি গঙ্গার মজে যাওয়ার প্রধান করান। এবং এর সাথে গঙ্গা র অন্যান্য নদী গুলি বিপদে পরায়। নদী নির্ভর শীল, বাংলার কৃষি  বানিজ্য শিল্প প্রভুত ক্ষতি হয়। বৰ্ত্তমান হেষ্টিংসের দক্ষিণে ও খিদিরপুরের উত্তরে আদিগঙ্গা খুব প্ৰশস্ত ছিল এবং তথা হইতে শাকরাইল পৰ্য্যন্ত কোন নদী ছিল না । শাকরাইলের দক্ষিণে সরস্বতী  বইতো । সে আরো দক্ষিণ গিয়ে  দামোদর, রূপনারায়ণ ...

মজিলপুরের দোল উৎসব

Image
মুর্শিদকুলি খাঁ যখন বেতরের কাছে খাল কেটে গঙ্গার মূল ধারা ঘুরিয়ে সরস্বতী নদীর মরা খাত দিয়ে বজবজ, রায়চক, ফলতা, ডায়মণ্ডহারবারের পাশ দিয়ে সাগরের মুড়িগঙ্গায় নিয়ে গিয়ে মিশিয়ে ছিলেন তখনই থেকে কালিঘাট , বারুইপুর, জয়নগর হয়ে ছত্রভোগ বন্দর অবধি যে আদিগঙ্গা বয়ে যেতো, তার মৃত্যু হয়ে যায়।১৭৭৫ খ্রীঃ কর্নেল টালি আদিগঙ্গার সঙ্গে বিদ্যাধরী নদীর যোগ স্থাপন করে শেষ রক্ষা করতে পারলেন না আদি গঙ্গার। আর আদিগঙ্গার মজা গর্ভে সতেরো শতকে থেকেই  জনবসতি গড়ে উঠেছিল বলে , দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর পার্শ্ববর্তী  অঞ্চলের নাম মজিলপুর। মজিলপুরের নাম বলেই পুতুল মেলা আলো করে বিরাজ করা আহ্লাদী পুতুল, বাবু পুতুল, বেনেবউ পুতুল আর নানাধরণের পশুপাখির পুতুলের কথা মনেপরে। বাবু পুতুল তো নিছক পুতুল নয়,  বাংলার বাবুদের কৃত্রিমতা ও ঔদ্ধত্যের প্রতি মজিলপুরের পুতুল   ব্যঙ্গ করে শিল্পীরা তৈরি করে ছিলো এই পুতুল। মজিলপুরে পুতুলশিল্প গড়ে ওঠার একটা ইতিহাস  ঘাটলে দেখা যাবে এখানকার জমিদার দত্ত পরিবার এসেছিলেন ওপার বাংলার যশোর থেকে এই শিল্পীদের। এক সময় সাহিত্য সম্রাট...

মহেশপুর দোল উৎসব

Image
শোলা শিল্পের জন্য ব দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার মহেশপুরের দেশ জোড়া খ্যাতি তার শোলা শিল্পের জন্য।     মহেশপুর গ্রামের বিখ্যাত দোল উৎসব-মেলার জন্য ও। মহেশপুরের  দোল মঞ্চটি মাটির।তিন হালদার পরিবারের তিন মন্দিরের বিগ্রহ নিয়ে দোল উৎসব এবং মেলা।   তবে এর আয়োতন তা যে কোনও মানুষের মনে বিষ্ময় জাগিয়ে তোলে । মঞ্চে র সামনেই এক বিশাল দিঘি আছে।  দিঘিটা কাটার পর, তার পাহাড় প্রমাণ মাটির সদব্যবহার করার প্রয়োজনেই এই মঞ্চের পরিকল্পনা মনে এসে ছিলো বলে মনে হতে পারে ই।  দোলযাত্রার দিন তিনেক আগের দোলমঞ্চ।। স্থানীয় মানুষজনের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠেঝক্ ঝকে চেহারা দোলমঞ্চ ওঠে । নব কলেবর তার মনোমুগ্ধকর গড়ন! অনেক টা পিরামিডের মতো।  দোল উৎসব সাথে  দেখা র মতো নিদর্শন বড়ো তরফের গোবিন্দচন্দ্রজীর মন্দিরের কাঠেরথাম। যা একসময় ভেঙে পড়া মূল মন্দিরের চালার ভার রক্ষা করতো। এমন আপাদমস্তক অলঙ্কৃত এগারোখানি থাম রয়েছে এ মন্দিরে।  এছাড়া আছেন মেজো হালদারদের মন্দিরের কষ্টিপাথরের  কৃষ্ণ ঠাকুর ও পিতলের রাধিকা সামনে কষ্টিপাথরের গোপাল ও প্রায় আট ইঞ্চি শালগ...

শোভা বাজার রাজবাড়ি র দোল উৎসব

Image
রাজা নবকৃষ্ণ দেব শোভাবাজার রাজ বাড়ি র ঠাকুরদালানে শ্রীশ্রী গোবিন্দ জিউর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন ১৭৬৬ খ্রিস্টাব্দে। তখন থেকেই শোভাবাজার রাজবাড়িতে  মহা সাড়ম্বরে দোল উৎসব পালিত । দোলের আগের দিন হয় নেড়া পোড়া বা চাঁচর  বা  বহ্ন্যুৎসব করা হয়। এটাকে আমরা বুড়ি ঘর বললেও এটি শ্রীবিষ্ণুর অসুর দমনের  বিজয়োৎসবের প্রতীক।  বহ্ন্যুৎসব  আসলে হোলিকা দহন, এটাকে আমরা বুড়ি ঘর বললেও এটি শ্রীবিষ্ণুর অসুর দমনের  বিজয়োৎসবের প্রতীক। প্রহ্লাদকে বাঁচাতে বিষ্ণুর দ্বারা হোলিকা বধকে উদ্‌যাপন করা হয় এই উৎসব এর মাধ্যমে।    বৈষ্ণব মতে, ফাল্গ‌ুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনেরং খেলায় মেতেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ আবির বা গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীগণের সঙ্গে ।শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দজির পুজো, আরতি ও হোমে হয় সন্ধ্যায় , তার পর হোমের জ্বলন্ত কাঠ দিয়ে মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে  বুড়ির ঘরে আগুন ধরানো হয়।  দেবদোল বা নারায়ণের দোলদোলের দিন সকালে হয়।  পুজোর পর নারায়ণকে  আবির দেওয়া হয়,  অভিষে...

সাউথ গরিয়া দোল উৎসব

Image
দোল উৎসব নিয়ে কথা বলে গিয়ে, আজ বলতে হবে দূর্গা পূজা র কথা। আজ যে জমিদার বাড়ি দোল উৎসব কথা বলবো সে পরিবারের দূর্গা পূজাতে ই লর্ড ওয়ারেন হেস্টিং সস্ত্রীক এই আসতেন প্রতিবছর পুজো দেখতে । হূ ঠিক ধরেছেন সাউথ গড়িয়ায় বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের দূর্গা পূজার কথা বলছি আমি ‌। ১৬৬৫ সালে এখানেই শুরু হয় দেবী দুর্গার আবাহন। মুঘদের প্রধান খাজাঞ্চি রাজকিশোর বন্দ্যোপাধ্যায় এই জমিদারির সূচনা করেছিলেন । ষোড়শ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ বারাসত থেকে সাউথ গড়িয়ার আসেন এই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার এবং সাতটি পরিবার তথা সাতটি ঘর নিয়ে এই জনপদের সূচনা হয়েছিল । সাত ঘর থেকেই সাউথ গরিয়া নাম এসেছে ইংরেজদের ভুল উচ্চারণ ফলে।   লোক মুখে শোনা যায়, এখনকার শ্রীশ্রী জনার্দন জীউ ঠাকুরকে কে উদ্ধার করা হয় , বিদ্যাধরী নদীর মজে যাওয়া অংশ একটি পুকুর থেকে থেকে। মূর্তি বহু মূল্যবান কষ্টি পাথরের হওয়ায় শুধু মাত্র দোল উৎসব এর দিন এটি দেখার সুযোগ মেলে।  দোল উৎসব বিভিন্ন জমিদার বাড়িতে ই হয়। কিন্তু বন্দোপাধ্যায় জমিদারদের কথা একটু আলাদা , কারণ এই পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন , দূর্গাদাস বন্দোপাধ্...

জয়নগর বিবি মায়ের থান

Image
"বদি" বলতে বুঝি ভক্ত ব্রতীদের গলায় খড়ের মালা  পড়া প্রথা। আবার অনেকে দাঁতের ফাঁকে একটি খড়ের টুকরো রাখতেন যাকে কুটি বলা হত ।প্রাচীন প্রথা ক্রমে অবলুপ্ত হচ্ছে।এখন কম দেখা যায়, বর্তমান প্রজন্মের  বৌ - মেয়েরা এই পুরোন প্রথাই জানেন না হয়তো।   প্রসঙ্গত বলা যায়। কোনভাবে গরু জলে ডুবে , কিংবা গলায় ফাঁস লেগে,  বা অন্য কোন দুর্ঘটনায়, মারা যায়।  তাহলে গরুর মালিক গলায় খড়ের ফাঁস পরে, দাঁতে খড় কামড়ে বাড়ি বাড়ি মাগন ভিক্ষা করে গরুর শ্রাদ্ধ করত। মাগন বা  ভিক্ষা নিতে ঐ বেশে উঠোনে দাঁড়িয়ে গরুর মতো হাম্বা রবে ভিক্ষা চাইতো লোক জন আগে বাংলার পাড়া গাঁয়ে দিকে।       নিদৃষ্ট দিনে  মান শনিবার এবং মঙ্গলবার পৌঁছে গেলে‌। দেখতে পাবেন ,জয় নগর মজিলপুরের ,বিবি মা থানে  ভীড় উপছে পড়ছে । বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের ভীড় এখানে চোখে পরে।৫০ বছর ধরে পূজা দিতে আসছেন এই প্রবীনারাও। বামে বিবি মা ও ডানে রক্তা খঁ গাজীর মাটির স্তূপ প্রতীক।রক্তা খাঁ পাড়া,জয়নগর।আনুমানিক ২৫০ বছরের বেশী প্রাচীন এই থান।এই বিবি মার থানের হাজোৎ কা...

বাওয়ালি নিয়ে কিছু কথা

Image
লোকবিশ্বাস অনুসারে বাউলেরা নাকি বাঘ-বাঁধা মন্ত্র জানে। #বাওয়ালি কথা অর্থ সুন্দরবনের কাঠকাটা মানুষ । এরা কাঠ কাটার সময় হিংস্র জন্তুর আক্রমণ ও অন্যান্য দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা বাউলদের সাহায্য নেয় বলে এদের নাম হয়েছে বাওয়ালি। তবে এ বাওয়ালি, কথাটা এসেছে 'বনে এলি গেলি’— থেকে । তবে এখানকার অধিবাসীরাও বাওল সম্প্রদায়। বন-জঙ্গলের ওপরই ছিল তাঁদের জীবন নির্ভরশীল। দীর্ঘ অবহেলায় মন্ডল জমিদারদের প্রতিষ্ঠিত মন্দিরের হাল খুব খারাপ ছিলো একসময়। গোবিন্দজী এবং লক্ষ্মী-জনার্দনের মন্দির, দ্বাদশ শিবমন্দির,স্থাপত্য আর ঐতিহ্যের বাহক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাওয়ালি। ধন্যবাদ স্থানীয় মানুষের উদ্যোগ কে। বাওয়ালির মণ্ডলরা কিন্তু আসলে রায় ।মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনকালে শোভা রাম রাই বা রায় বাংলার দস্যুদের বিদ্রোহ দমন করেন। তখন তখন হিজলি রাজসরকারের সেনাপতি ছিলেন শােভারাম রায়। রাজবাহাদুরের কাছ থেকেবজবজ অঞ্চলে পঞ্চাশটি গ্রামের সনদ এবং মণ্ডল তিনি উপাধিটি পান । শােভারাম অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দশকে বাওয়ালিকে তার জমিদারির মূল কর্মকেন্দ্র হিসেবে ঠিক করেন। তবে অনেক বল...

মন্দাকিনী পুতুল

Image
আজ জানাবো মন্দাকিনী পুতুল এর কথা।সাত গ্রাম নিয়ে জনপদ গড়ে তুলেছিলেন বন্দোপাধ্যায় জমিদাররা এখানে, জমিদার পেয়েছিলেন, জাহাঙ্গীর কাছ থেকে। ইংরেজরা উচ্চারনে ভুল করে হয়েগেলো #সাউথগরিয়া । পথ নির্দেশনা চাইবেন জানি এখনই। এই জমিদারদের  বিনোদন  জন্য এখানে আনা হয় চম্পাবতী কে। সেই থেকেই চপ্পাহাটী , চম্পাহাটি নাম নিশ্চিত চেনা। এই বন্দোপাধ্যায় জমিদাররা ঠাকুর বানানোর জন্য কৃষ্ণনগরের থেকে মৃৎশিল্প দের নিয়ে এসে গড়ে তোলেন পাল পাড়া।  তারাই তৈরী করে আসছে এই পুতুল কে। ছাঁচ তৈরি পুতুল। আলাদা করে রং করা হয় না এই পুতুল কে। উত্তর প্রদেশের গ্রামীণ পুতুল গুলো ঠিক এই ভাবে ই তৈরি হয়। পুতুল আগুন পুড়িয়ে তে রঙ হয় তাতেই এগুলো বেশ ভালো লাগে। রানী পুতুল মতো দেখতে এই মন্দাকিনী পুতুল তৈরি করলেন  এখানে এই পালেরা। এদের পুতুল গুলো কিন্তু ভিক্টোরিয়া মতো দেখতে  না।  বরং একটু আধটু বাঙালি মুখ। বোধহয় চপ্পাবতী এরকম দেখতে ছিলো। জাফর পুরের কাছে গ্রামটি। স্থায়ী মেলাতে বিক্রি হয় সব পুতুল গুলো। আলপনা পাল একা এই পুতুল গুলো বানাচ্ছেন। যোগাযোগ করতে পারেন। করোনা প্রভাবে কা...

রাজ পুরের দোল মঞ্চ

Image
হুসেন শাহের পুত্র গিয়াসুদ্দিন মহম্মদ শাহের ষোড়শ শতাব্দীতে    রাজপুর সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জমিদারি লাভ করেছিলেন   কৃষ্ণদাস দত্ত। রাজপুরের রাজা মদন রায় ছিলেন এই কৃষ্ণদাসের তৃতীয় পুত্র । তাঁর পৌত্র দুর্গাচরণ রাজবাড়িকে সুরক্ষিত করতে পরিখা  নির্মাণ করেছিলেন। গড়িয়া (গড়+ইয়া) স্থানের নামকরণ এসেছে এখান থেকে। দুর্গাচরণের পুত্র রাজবল্লভ কম্পানির সনদে রায়চৌধুরী  উপাধি লাভ করেন। যদিও ইংরেজদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনের জন্য রাজবল্লভ  তাঁর রাজপুর ও হরিনাভি গ্রাম দুটির জমিদারি হারান। এই দুই গ্রামের নিলামে  হয়ে গেলে #বারুইপুর এর কাছারি বাড়িতে চলে আসেন।  এদিকে ইংরেজদের নিমক মহলের দেওয়ান জনার্দন করের পুত্র দুর্গারাম করচৌধুরি ত রাজপুরে জমিদারির কিনে নেন । এই করচৌধুরি বংশ ধর ধর্ম পরায়ন ছিলেন। তবে রায়চৌধুরী রা চলে গেলে ও তাদের স্থাপিত মন্দির গুলো  এখানে  এখনো আছে।তাদের প্রতিষ্ঠিত শিব মন্দির এখনো বর্তমান আছে। আছে রাধাকৃষ্ণ মন্দির । এবং দোল মঞ্চ ও। #রাজপুরের #দোলউৎসব কে অনেক বেশি প্রানবন্ত রঙীন করে তোলে এই দুইশত বছরের বেশি পুরনো মন্দির প্রাঙ...