Posts

বাংলার দুর্গাদালান ও চণ্ডীমণ্ডপ: ঐতিহ্য, স্থাপত্য ও সমাজজীবনের দুই অধ্যায়

Image
 বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে দুর্গাদালান ও চণ্ডীমণ্ডপ। ইট-পাথরের এই প্রাচীন স্থাপনাগুলি শুধু ধর্মীয় উপাসনার ক্ষেত্র নয়, বাংলার সামাজিক জীবন, লোকাচার ও স্থাপত্য-ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য। তবে নাম ও ব্যবহারে কাছাকাছি মনে হলেও দুর্গাদালান ও চণ্ডীমণ্ডপের মধ্যে রয়েছে কিছু মৌলিক পার্থক্য। দুর্গাদালান: বনেদি বাংলার দুর্গোৎসবের কেন্দ্র দুর্গাদালান মূলত বনেদি বাড়ি ও জমিদারবাড়ির দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশেষ স্থাপত্য-প্রাঙ্গণ। খিলানযুক্ত স্তম্ভ, প্রশস্ত উঠোন, অলংকৃত দেওয়াল এবং প্রতিমা স্থাপনের উপযোগী বেদি এর পরিচিত বৈশিষ্ট্য। পুজোর সময় এই প্রাঙ্গণ পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় মানুষের মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠত। দুর্গাপুজোর আচার-অনুষ্ঠান, ভোগ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক পরিসরের মধ্য দিয়ে দুর্গাদালান পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক হয়ে উঠেছে। চণ্ডীমণ্ডপ: ধর্মীয় আরাধনা থেকে গ্রামীণ সমাবেশ চণ্ডীমণ্ডপের পরিচয় মূলত চণ্ডী বা দেবীর আরাধনার সঙ্গে যুক্ত। বাংলার বহু গ্রামে এই ধরনের মণ্ডপ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সমাবেশের ক্ষেত...

বিলুপ্তির পথে দুই বাংলার সুপ্রাচীন ঐতিহ্য ‘আলপনা’ শিল্প

Image

বীরভূমের ঘোষগ্রামে সুপ্রাচীন দারুবিগ্রহে পূজিতা মা লক্ষ্মী, শস্যসমৃদ্ধির কামনায় বিশেষ আরাধনা

Image
বীরভূম: বাংলার গ্রামীণ লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক উল্লেখযোগ্য নিদর্শন বীরভূমের ময়ূরেশ্বরের ঘোষগ্রামের মা লক্ষ্মীর মন্দির। এখানকার আরাধ্যা দেবী সুপ্রাচীন দারুবিগ্রহে পূজিতা। ধনসম্পদের দেবী হিসেবে নয়, শস্যদায়িনী মাতৃকা হিসেবেও দেবীর আরাধনা এই মন্দিরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। স্থানীয় জনশ্রুতি ও প্রচলিত কাহিনিতে জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। কথিত আছে, কৃষক দয়াল ঘোষের জমিতে চাষ করার সময় একটি পদ্মফুলকে কেন্দ্র করে দেবীর আরাধনার সূত্রপাত হয়। সাধক কামদেব ব্রহ্মচারীর সাধনা এবং দেবীর স্বপ্নাদেশের কাহিনিও এই মন্দিরের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। নিমকাঠের দারুবিগ্রহে দেবীর পুজোকে ঘিরে আজও ভক্তদের মধ্যে রয়েছে গভীর শ্রদ্ধা। ঘোষগ্রামের লক্ষ্মী আরাধনায় কৃষিজীবনের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বাংলার গ্রামীণ সমাজে লক্ষ্মী কেবল ধনসম্পদের প্রতীক নন, তিনি শস্য, উর্বরতা ও গৃহস্থের মঙ্গলকামনারও প্রতীক। সেই বিশ্বাস থেকেই ভক্তেরা দেবীর কাছে ফসলের প্রাচুর্য, সংসারের সমৃদ্ধি ও পরিবারের কল্যাণ প্রার্থনা করেন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ডাক সংক্রান্তির দিন এখানে শস্যদায়িনী মাতৃকা হিসেবে মা লক্ষ্ম...

মহাষ্টমীতে মাগুর মাছের ভোগ, বিসর্জন হয় না দেবীর! বৈকুণ্ঠপুরের জয়দুর্গা পুজোর পাঁচ শতকের ঐতিহ্য

Image
পূর্ব বর্ধমান: মহাষ্টমীতে দেবীর ভোগের জন্য মাগুর মাছের ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না। সেই সময় এক বৃদ্ধার মাধ্যমে মাছ পৌঁছে যাওয়ার কাহিনি আজও লোকমুখে প্রচলিত। পরিবারের বিশ্বাস, বৃদ্ধার রূপ ধরে স্বয়ং দেবী জয়দুর্গাই ভোগের ব্যবস্থা করেছিলেন। পূর্ব বর্ধমানের বৈকুণ্ঠপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির প্রায় পাঁচ শতকের পুরোনো জয়দুর্গা পুজোকে ঘিরে রয়েছে এমনই নানা জনশ্রুতি ও স্বতন্ত্র আচার। পঞ্চমুণ্ডির আসনে দেবী আরাধনা পারিবারিক ঐতিহ্য ও প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, পরিবারের এক তান্ত্রিক পূর্বপুরুষ পঞ্চমুণ্ডির আসনে দেবীর আরাধনা শুরু করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বর্ধমানের মহারাজ কীর্তিচাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় পুজোর পরিসর বিস্তৃত হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সন্ধিপুজোর সময় মহারাজের নামে সংকল্প করার রীতিও এই পুজোর ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত। দশমীতেও হয় না বিসর্জন বৈকুণ্ঠপুরের এই জয়দুর্গা পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য, দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না। মন্দিরে দেবীর নিত্যপুজো চলে সারা বছর। দেবীর প্রতিমাও প্রচলিত দুর্গামূর্তির তুলনায় আলাদা। এখানে দেবী চতুর্ভুজা; তাঁর সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক বা গণেশের ...

কলকাতার হারিয়ে যাওয়া কাঠ খোদাই শিল্প

Image
হারিয়ে যাওয়া। কাঠ খোদাই গুরুত্ব জানেন?? আজ বলবো পুরাতন কোলকাতার গল্প। আজ আপনার মোবাইলে বই পেয়ে যান pdf আকারে। কিন্তু সেই সময়টা ছিলো আলাদা।ছাপাখানায়। একটি একটি অক্ষর সাজিয়ে , ছাপিয়ে তুলে ধারা হতো বই। হ্যারিসন রোড হয়ে চিৎপুর , এখানেই চাপা পরে আছে বই ছাপানোর রূপকথা গল্প জিয়োন কাঠি। হ্যা এখানেই থেকেই উনিশ শতকের কাঠ খোদাই বা wood carving কাজ হতো। ছোটো ছোটো ঘুপচি ঘরতে এক নাগাড়ে কিছু মানুষ কাঠের উপর কাঠ রেখে বাটালি আর হাতুড়ির ঘা মেরেই চলতো রাত দিন। চারপাশের কি চলছে তা নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা ছিলো না। এখানে খদ্দেরের ভিড় তেমন নেই,। কাঠের উপর উল্টো অক্ষর কাটচলেছে, কোনও ঘরে আবার কাপড় ছাপার নকশা তোলা হচ্ছে। কোন ঘরে আবার সন্দেশের জন্য কাঠের ছাঁচ কাটার কাজ হতো। উত্তর কলকাতার এই রাস্তার স্মৃতি মনে পড়ে কি আপনার ? সেই সময় বাড়িতে যে পঞ্জিকা আসত, তা এই কাঠের ব্লক থেকেই ছাপা । দারুণ সব ছবি, বিশেষ করে মনে করে দেখুন ফুল ফলের এমনকি বীজের বিজ্ঞাপন থাকতো। নিখুঁত ছবি,বড় লাল মূলা তার মধ্যে একটি ফুল, আবার ফুলকপি, বাঁধাকপির ছবি,, এসবই ছিল কাঠের ব্লক থেকে তৈরি করা। আর ওইসব অন্ধকার ছোটো ছোট...

গণপুর গ্রাম রামেশ্বর শিব মন্দির

Image
গণপুর গ্রাম রামেশ্বর শিব মন্দির কমপ্লেক্স কথা জানান কি আপনি? পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার সিউড়ি সদর মহকুমা মহম্মদ বাজার সি ডি ব্লকের একটি পুরানো গ্রাম গণপুর । গণপুর গ্রাম রামেশ্বর শিব মন্দির কমপ্লেক্স কথা অনেকটাই প্রচারে আড়ালে। বীরভূমের সিউড়ি রামপুরহাট রাস্তার ধারে গণপুর পৌঁছে যেতে পারেন আপনি। চারিদিকে শাল জঙ্গলে ঘেরা গণপুর। ডেভিড জে ম্যাককাশন তাঁর Temples of Bengal, (1972), বই লিখেছেন গণপুরে অনেকগুলি ছোট ছোট চার চালা মন্দির আছে ।যেগুলি ইঁটের তৈরি এবং তাদের সম্মুখভাগ সমৃদ্ধভাবে খোদাই করা ভাস্কর্যে। তিনি ১৭৬৯ সাল নাগাদ প্রতিষ্ঠিত একটি বিষ্ণু মন্দিরেরও উল্লেখ করেছেন ।এটি মণ্ডল পরিবারের দ্বারা নির্মিত একটি আট চালা মন্দির, এবং ইঁট দিয়ে নির্মিত। কয়েকটি পাথর দ্বারা নির্মিত মন্দির ছাড়া বীরভূম জেলার অধিকাংশ মন্দিরই ইট দ্বারা নির্মিত। যে ঐতিহাসিক পটভূমিকায় এই সমস্ত মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় সেইসময় এইগুলির নির্মাণে আশানুরূপ অর্থ সাহায্য রাজকোষ থেকে পাওয়া যায়নি। সাধারণ জমির অধিকারী, পণ্ডিত, ব্যবসায়ীদের দ্বারা অধিকাংশ মন্দিরই প্রতিষ্ঠিত হয়। আগে বীরভূম ছিলো নানা শিল্পে উন্নত। গণপুর, মল্লারপুর...

লক্ষ্মীর বাহন কি শুধু মাত্র পেঁচা?

Image
বাংলার সব পূজা উৎসবে কিছু ব্যাতিক্রম ঘটনা দেখা যায়। যেমন রামকানালী, গঙ্গাজলঘাটিতে লক্ষী পূজাতে পূজা হয় গজলক্ষ্মীর। তবে এই পুজোর প্রচলন হয়েছিল প্রায় ১৪০ বছর আগে। তখন বাঁকুড়ার বেশ কিছু জায়গায় হাতি আক্রমণ করত প্রায়শই, প্রচুর শস্যহানি হতো। তখন তাই গ্রামবাসীরা গজলক্ষ্মীর পূজা করে। এখানে লক্ষ্মীর বাহন রূপে পেঁচা নয় হাতিকে রেখে পুজো করেন। সকলের কাছে তাই তিনি গজলক্ষ্মী।  এদিকে হিন্দু পৌরাণিক গল্প, গজলক্ষ্মী সমুদ্র মন্থনের সময় আবির্ভূত হয়েছিলেন । তিনি ইন্দ্রের হারানো সম্পদ এবং ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছিলেন। তিনি দেবীর রূপ যিনি পশু সম্পদ এবং সম্পদের অন্যান্য প্রতীক যা শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সেক্ষেত্রে কিন্তু মূর্তি ফারাক আছে। দেবীর পায়ের কাছে দুটি সিংহ আছে, আবার দুটি হাতি তাকে জীবনদানকারী জল দিয়ে স্নান করাছে এবং তার বাম এবং ডান পাশে দুটি মহিলা পরিচারক চামর ধরে আছে। তবে গুপ্ত রাজা বৈষ্ণব ছিলেন এবং দেবী লক্ষ্মীকে সর্বোচ্চ সম্মান করতেন।তাদের শাসনামলে বেশিরভাগ মুদ্রায় দেবী লক্ষ্মী সিংহবাহিনী হিসাবে দেখা যায়।গুপ্ত শাসক প্রকাশ দিয়ার শাসনামলের মুদ্রায় গরুড়ধ্বজা এবং উল্টোদিকে লক্...