Posts

Showing posts from April, 2022

বহুড়ু দূর্গা মঞ্চ

Image
আজকের বহড়ু গ্রাম মধ্যযুগের 'বড়ুক্ষেত্র'।রায়মঙ্গল কাব্যে উল্লেখ আছে 'বড়ুক্ষেত্র'-এর। ঊনবিংশ শতকের প্রথম ভাগে জনৈক নন্দকুমার বহড়ুর জমিদার বসু  লাভ করেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লবণ বিভাগের দেওয়ান হিসাবে । ইনি কিছুসময়,  জয়পুর  রাজপুতানাদর দেওয়ান ছিলেন।  উল্লেখ্য তিনিই বৃন্দাবনের তিন প্রধান দেবতা গোবিন্দ, গোপীনাথ ও মদনমোহনের জন্য তিনটি মন্দির নির্মাণ করেন জয়পুরের রাজার অনুমতিতে।১৮১৯ থেকে ১৮২১ সালের মধ্যে তিনি জয়পুরে তিনটি মন্দির নির্মাণ করেন।তিনি স্থির করেন যে তার বৃদ্ধা মায়ের জন্য বহড়ুতেই মথুরা-বৃন্দাবন স্থাপন করবেন। সেই মত তিনি জয়পুর রাজ্যের চুনার থেকে পাথর ও স্থপতি আনিয়ে বহড়ুতে শ্যামসুন্দরের মন্দির নির্মাণ করেন। ১৮২৫ সালে মন্দিরের গাত্রে দেওয়ালচিত্র অঙ্কন করেন বর্ধমান জেলার দাঁইহাটের শিল্পী গঙ্গারাম ভাস্কর। পরবর্তীকালে বসু পরিবার বহড়ুতে পাঁচটি শিব মন্দির নির্মাণ করেন এখানে। তবে এই অঞ্চলে একটি দোল মঞ্চ আছে। কিন্তু দূর্ভাগ্য আমাদের এখানে একটি দূর্গা দালানো ছিলো। বর্তমানে এটি ধংস স্তূপের পরিনত হয়েছে। আমি বাংলার পাঁচ ছয়টি পুরাতন ...

শ্রী শ্রী মদন মোহন জীউ                 বনমালীপুর।

Image
শ্রী শ্রী মদন মোহন জীউ                  বনমালীপুর।  বনমালী পুরের দোল উৎসব নিয়ে কিছু বলতে গেলে , বলতে হবে, মদন মোহন মন্দির টি চারশো বছরের পুরনো ঐতিহ্য বাহী মন্দির। সম্ভাব্যত জয়নগর রাজবল্লভ মন্দির এটির সমসাময়িক। তাই বাংলার অন্যান্য দোল উৎসব মতো একটি খুব জনপ্রিয়। তবে অপরূপ রাধাকৃষ্ণ যুগল দারুবিগ্রহ  নাকি বসন্ত রায়ের খাড়ি মহলে পূজিত হত বলে কথিত আছে। কোম্পানির আমলে এই বিগ্রহকে বিষ্ণুপুরের কোনো এক বৈষ্ণব মোহান্তের থেকে জয়নগরের বনমালীপুরে বর্তমান পূজারী সেবাইত চক্রবর্তীদের হাতে আসে বলে জানা যায়।  ১৯৬০ সালে মহাদেবী লোহিয়া এই মন্দির নতুন করে প্রতিষ্ঠা করেন।ফাল্গুনী পূর্ণিমার চতুর্থীর দিন অনুষ্ঠিত এই বিগ্রহের দোল ও মেলা জয়নগরের প্রাচীন ঐতিহ্যে এবং জনপ্রিয়।এখান নাম কীর্তন সাথে সাথে , আতস বাজীও ফাটানো হয়। গত ৩০ বছর ধরে বাজি তৈরি করে,  চরনের জাঙ্গালিয়া গ্রাম থেকে ফাটাতে আসেন এখানে ডান দিকে প্রবীন তোরাব আলি মোল্লা (৭৫) এবং তাঁর ভাই নজরুল মোল্লা (৭০)দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ধর্মীয়  সমন্বয়ের এক নিদর্শন এটি।...

সুন্দর বনের লৌকিক দেবী নারায়নী

Image
শহরের কৃত্রিমতা মধ্যে লোক-সংস্কৃতির প্রতি একটা অনুরাগ সবার থাকে, সুযোগ পেলে নিজ গ্রামের আশপাশে, লোক-সংগীত শুনেছি  বিভিন্ন জায়গায়  চেষ্টা করেছি বাংলার লোক সংস্কৃতিকে ।বাংলার লৌকিক দেবতা , ব্রতকথা, গ্রামের মানুষদের কাছে শুনে শুনে বড় হয়েছি বার মাসে তের পার্বনের না না কাহিনী। আর তখন শুনতাম হিন্দুদের ৩৩ কোটি দেবতা।   আর এ কথা সত্য মনে হত যখন দূর্গা, কালি, স্বরস্বতি ইত্যাদি বড় পূজার পাশাপাশি  এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে এই লৌকিক দেবতার দু একজনের  নাম অজানা বিভিন্ন দেবতার পূজা করতে দেখতাম। লৌকিক দেবতাদের পূজা-পার্বণ মূলত  শহর থেকে দূরে পল্লী এলাকায় হিন্দু মানুষদের  মাঝে শুধু নয় এদের পূজায়  অংশগ্রহণ করেন মুসলিমরাও।    অশাস্ত্রীয় এবং নিম্নবর্ণের দ্বারা অধিক-পূজ্য অতএব ইহারা চাষা-ভূষাদের দেবতা এই সব লোক দেবতার ।। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এ বিষয়ে যে বলেছেন--- দেশের লোক-সংস্কৃতির মধ্যে অতীত যুগের সংস্কৃতির এমন বহু নিদর্শনাদি সংগুপ্ত আছে যেগুলি আমাদের জাতির পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনার মূল্যবান উপকরণ হতে পারে,।ভারতবর্ষে বসবাস রত প্রত্যে...