Posts

Showing posts from October, 2023

লক্ষ্মীর বাহন কি শুধু মাত্র পেঁচা?

Image
বাংলার সব পূজা উৎসবে কিছু ব্যাতিক্রম ঘটনা দেখা যায়। যেমন রামকানালী, গঙ্গাজলঘাটিতে লক্ষী পূজাতে পূজা হয় গজলক্ষ্মীর। তবে এই পুজোর প্রচলন হয়েছিল প্রায় ১৪০ বছর আগে। তখন বাঁকুড়ার বেশ কিছু জায়গায় হাতি আক্রমণ করত প্রায়শই, প্রচুর শস্যহানি হতো। তখন তাই গ্রামবাসীরা গজলক্ষ্মীর পূজা করে। এখানে লক্ষ্মীর বাহন রূপে পেঁচা নয় হাতিকে রেখে পুজো করেন। সকলের কাছে তাই তিনি গজলক্ষ্মী।  এদিকে হিন্দু পৌরাণিক গল্প, গজলক্ষ্মী সমুদ্র মন্থনের সময় আবির্ভূত হয়েছিলেন । তিনি ইন্দ্রের হারানো সম্পদ এবং ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছিলেন। তিনি দেবীর রূপ যিনি পশু সম্পদ এবং সম্পদের অন্যান্য প্রতীক যা শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সেক্ষেত্রে কিন্তু মূর্তি ফারাক আছে। দেবীর পায়ের কাছে দুটি সিংহ আছে, আবার দুটি হাতি তাকে জীবনদানকারী জল দিয়ে স্নান করাছে এবং তার বাম এবং ডান পাশে দুটি মহিলা পরিচারক চামর ধরে আছে। তবে গুপ্ত রাজা বৈষ্ণব ছিলেন এবং দেবী লক্ষ্মীকে সর্বোচ্চ সম্মান করতেন।তাদের শাসনামলে বেশিরভাগ মুদ্রায় দেবী লক্ষ্মী সিংহবাহিনী হিসাবে দেখা যায়।গুপ্ত শাসক প্রকাশ দিয়ার শাসনামলের মুদ্রায় গরুড়ধ্বজা এবং উল্টোদিকে লক্...

কলিকাতার গয়না বাড়ি

Image
কোলকাতার গহনা বাড়ি চেনেন?? বামাচরণ ভড় ঠাকুরবাড়ি গয়না বাড়ি হিসেবে পরিচিত।উত্তর কলকাতার নীলমণি সরকার লেনে বামাচরণ ভড়ের বসতবাড়িকে ব্রজকিশোর ঠাকুরবাড়ি বলে চেনে । সরু গলি, বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, কী অপূর্ব স্থাপত্য কারুকার্য অপেক্ষা করছে এই বাড়ির ভেতরে। ইংরেজ আমলে বামাচরণ ভড় এক সফল ব্যবসায়ী। বামাচরণের জন্ম ১৮৫১ সালে। তিনি কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন না। ইংরেজদের পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতা তখন উদীয়মান নগরী, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের পীঠস্থান হয়ে যখন ওঠেছে। তখন এ শহরে বামাচরণ এসে ছিলেন এক ভাগ্যান্বেষী হিসেবে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান, পেটের দায়ে এসেছিলেন কোলকাতায়। কলকাতায়, আর দশজন শ্রমিকের মতো তিনি কাজ শুরু করেছিলেন। কলকাতায় এসে প্রথমে বামাচরণ এক পোশাক তৈরির কারখানায় শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন । এই সংস্থা মূলত ইওরোপীয় পোশাক তৈরি করত। অসম্ভব বুদ্ধিমান ও পরিশ্রমী বামাচরণ ছিলেন। তিনি ব্যবসার যাবতীয় বিষয় করায়ত্ত করলেন। পরে তিনি কলকাতার এক পোশাক প্রস্তুতকারক ইংরেজ কোম্পানির অংশীদার হয়ে বসলেন। আর এই কোম্পানীর মালিক বিলেতে ফিরে গেলেন, পুরো ব্যবসা মালিক হয়ে বসেন বামাচরণ। দক্ষ...

অষ্টনায়িকা_দুর্গা"।

Image
"অষ্টনায়িকা_দুর্গা"। বাঁকুড়া জেলার অযোধ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আমরাল গ্রামের পদ্মাসনা চতুর্ভূজা দেবী দুর্গা অষ্টসখীর সাথে বাপের বাড়ি আসেন,কোনো সন্তানকেই  তিনি আনেন না। গ্রামের গোস্বামী পরিবার এই কুমারী দুর্গার পুজো শুরু করেন বহু বছর আগে। অষ্টনায়িকা_দুর্গা  পদ্মের উপরে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য  কমলেকামিনী দুর্গা  নামে পরিচিত।  পুজোর সময় কামান দাগা হয়। এখানে মা দুর্গা অসুরকে বধ করছেন না। বিষ্ণুপুর থেকে দ্বারিকা-জয়কৃষ্ণপুরের রাস্তা ধরে পৌঁছে যাওয়া যায় এই গ্রামে । স্থান - আমরাল,বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া।

মা তাঁরা আবির্ভাব তিথি।।

Image
শুক্লা চতুর্দশী তিথি মা তাঁরার আবির্ভাব তিথি। এইদিন মা ভক্তদের পুজো গ্রহণ করেন, তারাপীঠ মন্দিরের গর্ভগৃহের বাইরে এসে  ।এই তিথিতে তারা মা কে মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বাইরে বের করে এনে মন্দির প্রবেশপথ সংলগ্ন “ বিরাম মঞ্চে বসানো হয়। এবং তাঁর ছোট বোন মলুটির মা মৌলিক্ষার মন্দির অভিমুখে পশ্চিম দিকে  মুখ করে বসিয়ে পুজো করা হয় ।   লোক কথা অনুযায়ী মলুটি গ্রামের মা মৌলিক্ষা তারা মায়ের ছোট বোন । এই দিন দুই বোনে মুখ দেখাদেখি হয়। লোক কাহিনী অনুযায়ী এইদিন মা নাটোর খান , আর নানকার এর দিকে চান । অর্থাৎ মা তারা নাটোরের রাণীর তৈরী মন্দিরে বসে সারা বছর ভোগ গ্রহণ করেন । আর বছরের এই একটি দিন নানকার রাজপাটে অবস্থিত মৌলিক্ষা মন্দিরের দিকে চেয়ে থাকেন । লোকবিশ্বাস অনুযায়ী পাল রাজত্বের সময়ে জয়দত্ত সওদাগর মায়ের আদেশে দ্বারকা নদের ধারে মহাশশ্মানের শ্বেতশিমূল গাছের তলায় পঞ্চমুন্ডির আসনের নিচে মা তারার শিলামূর্তি উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠা করেন এই ্শু্ক্লা চতুর্দশী তিথিতে। এইদিন  ভক্তরা বিরাম মঞ্চে তারাকে শুধু স্পর্শ নয় একেবারে জড়িয়ে ধরে মনোবাঞ্ছা নিবেদন করতে পারে । বিরাম মঞ্চে কোন কবাট দেওয়া দরজ...