Posts

Showing posts from January, 2022

মেচা সন্দেশ

Image
  মেচা সন্দেশ  পাওয়া যায়বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোড় গ্রামে । লোকজন বলে মেচা খেলে নাকি একটার বেশি খাওয়া যায় না কারণ এতে নাকি গলা গজগজ করে। বেলিয়াতোড়ের বাজারে একটি দোকান থেকে গাওয়া ঘি দিয়ে বানানো মেচা ধারণা বদলে যাবে। বেলিয়াতোড়ে গেলে মেচা কিনতে ভুল বেন না।বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড় ছাড়াও  শালতোড়াতে বিখ্যাত মেচা ।মেচা সন্দেশ তৈরি করছে এবং এমনকি একটি খুব রক্ষণশীল হিসাব বলছে, এটি 200 বছরেরও বেশি পুরনো। বেসন গাঠিয়ায় ভেজে  গুঁড়ো করে। তারপর ক্ষীর ও চিনি দিয়ে গলদা করে রান্না করা হয়। পিণ্ডটি ঘি এবং সবুজ এলাচ দিয়ে লাড্ডুতে তৈরি করে। লাড্ডু চিনির সিরাপে ডুবিয়ে শুকনো করে, মেচা সন্দেশ খাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

জাঁতাল উৎসব

Image
সুন্দর বনের রাজা দক্ষিণেশ্বর। বাবা দক্ষিণরায় বাবার আবির্ভাব দিবস,১ মাঘ।  ৺জাতাল উৎসব, বাবা এই দিন কল্পতুরু হন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ধপধপি দক্ষিনেশ্বর মন্দির  অনেক এর মতে ৩৫০ বছরের পুরানো ।ধপধপিতে দক্ষিনেশ্বর মন্দিরটি স্বপ্নাদেশ পেয়ে রাজেন্দ্রনাথ চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেন করেন । এখানে লক্ষণীয় সেগুন কাঠের তৈরী বিগ্রহের সিংহাসনটি প্রায় ১২ - ১৪ ফুট লম্বা এবং ৫ - ৬ ফুট চওড়া। সিংহাসনের উপর অধিষ্ঠিত বিগ্রহের উচ্চতা প্রায় ৯ থেকে ১০ ফুট। . সহজেই ধপধপি স্টেশন থেকে ভ্যান যোগে ১০-১৫ মিনিটের পথ পর মন্দির টি,  আবার বারুইপুর স্টেশন থেকেও অটোরিক্সা বা ম্যাজিক গাড়িতে ধপধপি দক্ষিনেশ্বর মন্দির যাওয়া যায়। প্রায় ৪০০ বছর আগের কথা ,তখন বারুইপুরের জমিদার ছিলেন মদনমোহন রায়চৌধুরী দেখলেন বারুইপুরের অদূরে বেশ কিছুটা এলাকা জঙ্গল হয়ে পড়ে রয়েছে। যেখান থেকে কোনও রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। তাই তিনি ওই এলাকার জঙ্গল সাফ করার মাধ্যমে ধবধবে পরিষ্কার করে ছিলেন। তাই এই জায়গার নাম ধপধপি।এই জঙ্গল সাফ করার কাজ ধীরে ধীরে এগচ্ছিল। এক জায়গাতে এসেই জমিদারের কর্মীরা বাধার সম্মুখীন ...

বৌ পুতুল

Image
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরের শিখরবালি গ্রাম, বিখ্যাত মৃৎশিল্পী মহিতপালের বাড়ি।কথায় বলে " মাটি টাকা , টাকা মাটি, " কিন্তু মৃৎশিল্প আজ মুল্য পায় না।    বারুইপুর, কাছে শাশন  নাম শুনেছেন। সেখানের কাছে ,  শিখরবালি, পালপাড়া আমাদের গন্তব্য। পথে বহু বাড়ি চোখে পরবে  যেখানে মাটির টব, মালসা, হাড়ি, প্রদীপ স্টেন্ড, ঘট, তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আমার খোঁজ বৌ পুতুল।ছাঁচ তৈরি হয় কিছু পুতুল,  তবে কিছু  পুতুলগুলি হাতে টিপে টিপে ও তৈরি, তবে আগুনে পুরিয়ে পরে রঙিন করে করা হয়। পুতুলগুলি নির্মানে গ্রামীণ ছোঁয়া আছে।  Sagar Chattopadhyay স্যারের বইতে উল্লেখ শিখরবালি গ্রাম নাম ধর্মমঙ্গলের পুঁথিতে শিহরবালি বলে উল্লেখ ছিল লেখকের গ্রাম্য ভনিতাতে৷  এখন তাঁরা গ্রামের নাম শিকারবালিও বলছেন৷  গ্রামের নালতের হাঁট গায়েন পাড়ায় পাশাপাশি তিনটি আটচালা পরিতক্ত মন্দির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ৷ গ্রামটিতে পালেদের বহুপত্রাকার খিলানসহ দুর্গাদালান এখন আর নেই ৷ আছে বিশশতকের প্রথমে তৈরী ব্যতিক্রমী শীতলা মন্দির  বারুইপুর কাছে,শিখরবালি পালপাড়ায়  এখান...

জোড়া শিবমন্দির

Image
বারুইপুর থানার শাসন গ্রামের জোড়া মন্দির   শিবমন্দির দাঁড়িয়ে আছে টেরাকোটার পুরাকীর্তির  হিসাবে। আছে একটি দূর্গা দালান।  গ্রামের পূর্বদিকে আদিগঙগা মজা গেছে তার ঠিক পশ্চিমে যুবকসমিতির পাশেই এই শিবমন্দির দুটি আছে।  শশ্মান থেকে নাম এসেছে শাশন, যদিও শাশন গ্রামটির নামকরণ ঘিড়েও অনেক মতবিরোধ আছে৷ গ্রামের কিছু দূরে কীর্তনখোলা মহাশ্মশান হিসাবে অনেক পুরনো চৈতন্য দেবের সময় নাকি এখানে খোল ভেঙে গিয়েছিল৷  বরুইপুর থানার গোবিন্দ পুর  গ্রাম থেকে আবিস্কৃত হয়েছে লক্ষনসেনের একটি তাম্রসাসন ৷ তাতে বিড্ডর শাশন ও ধর্মনগর নামের দুটি গ্রামের উল্লেখ পাওয়া যায়৷ ধর্মনগর গ্রামটিও বারুইপুরের কাছেই অবস্থিত ৷শাশন নাম এখান থেকে এসেছে বলে পন্ডিতদের ধারণা।ধর্মনগর থেকে ধামনগর হয়েছে৷ আসলে ধোপাগাছি- ধামনগর হিসেবেই পরিচিত৷ গ্রামে প্রচলিত আছে আগে কোনো ধর্মরাজের থান ছিল৷ তবে বেশকিছু  পঞ্চানন্দ ও ধর্মরাজের থান আছে। অন্যদিকে  "বিড্ডর"  বিড়াল গ্রামে পরিনত হয়েছে বলে ধারণা করা যায়৷ ধোপাগাছি গ্রামের কাছে বিড়াল গ্রাম৷ বিড্ডর পরবর্তীতে বিড়াল হয়...

জয় চন্ডী

Image
জয়নগর কিন্তু সারা দেশের প্রাচীনতম পৌরসভাগুলির মধ্যে অন্যতম।১৮৬৯ সালে বেঙ্গল মিউনিসিপাল অ্যাক্ট অনুযায়ীসাথে জয়নগর মজিলপুর পৌরসভা তৈরিহয়। দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের সভাপতিত্ব ১৮৬৪ সালে যে জয়নগর টাউন কমিটি গড়ে উঠেছিল। তবে বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রীর (১৮৪৭-১৯১৯) পিতার ভুমিকা ছিলো অন্যতম ,তার পিতা পণ্ডিত হরানন্দ ভট্টাচার্য (১৮২৭-১৯১২) ছিলেন জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার প্রথম পৌরপ্রধান। দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ (১৮১৯-১৮৮৬) শিবনাথ শাস্ত্রী র মাতুল বা মামা ছিলেন। সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সোমপ্রকাশ’এর সম্পাদক ছিলেন দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের (১৮১৯-১৮৮৬) ।১৮৫৭ সালের সিপাই বিদ্রোহের পর ভারতবর্ষের জাতীয়তাবাদী মানসিকতা ও স্বদেশপ্রেমের জন্য স্বায়ত্বশাসনের নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছে বাংলার গুনীজনরা, সেই সেই সমৃদ্ধশালী নগরী জয়নগর-মজিলপুর ও সেখানকার কৃতি সন্তানদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিতে প্রদান কেন্দ্র স্বায়ত্বশাসনের অধিকার ছিনিয়ে আনার প্রস্তুতিপর্বে ১৮৬৫ সালে প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রীর পিতা পণ্ডিত হরানন্দ বিদ্যাসাগরের সভাপতিত্বে প্রথম তৈরি হল ...

বন বিবির মেলা

Image
ঘুরে এলাম রামরুদ্রপুরের বনবিবির মেলা           বারুইপুর জয়নগর সদর রাস্তায় বেলে চণ্ডীর বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে খাকুড়দহ হাট। সেখান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার গ্রামের অলিগলি আর মেঠো রাস্তা পেরিয়ে বেলা একটার দিকে পৌঁছে গেলাম বনবিবির মন্দিরে। শুনলাম, সকাল হতেই দোকানিরা মন্দিরের চারিপাশে তাঁদের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন মেলা দর্শনার্থী তথা খদ্দেরের অপেক্ষায়। নানান ধরনের কাঠের সামগ্রী, পোড়ামাটির জিনিসপত্র, বিবিধ প্রকারের খেলনা, বেত ও বাঁশের ধামা-পালি-পাতি-কুনকি-পোয়া-কুলো-ঝুড়ি, কাঠের নাগরদোলা কী নেই সেখানে! দেখলাম, এলাকার তালের গুড় দিয়ে আড়াই প্যাঁচের জিলিপি তৈরি হচ্ছে। ওদিকে স্থানীয় গজা, চপ ফুলরি পাল্লা দিচ্ছে এগরোল, চাউমিনের সঙ্গে। মেলার অন্যদিকে গোটাকতক কাঠের নাগরদোলা যখন বনবন করে ঘুরে দুপুরের রোদ্দুরে গায়ে বাতাস লাগিয়ে বেড়াচ্ছে তখন তারই একপাশে খানদুই মিকিমাউস যাতে নিজেদের দম ফুরিয়ে না যায় সেই কারণে পিছনদিকে লাগিয়ে রেখেছে একটি করে পেসমেকার, থুড়ি জেনারেটর। এই না হলে বিশ্বায়ন!                মন্দিরের ...

নৌকা সংক্রান্ত

Image
ছবির নৌকাগুলি পূর্ববঙ্গের নদী হাওরে চলা জলযান। সুন্দরবনে ঘুঘুডিংগী , শালতি, টাবুরে, জেলে ডিঙ্গি , বাওয়ালী নৌকা - গোল, গরাণ , ঘাস  বইবার জন্য, ছিপ নৌকা , বাছারী - বাইচ খেলার বা ডাকাতির কাজে ব্যবহার হত, আর ছিল কোষা নৌকা। সুন্দরবনের নদী,জঙ্গল ও তার জনজীবনে ব্যবহৃত চলিত শব্দাবলি বাংলাদেশ সুন্দরবনেও প্রচলিত শব্দ   সুন্দরবনের নদী,জঙ্গল ও তার জনজীবনে ব্যবহৃত চলিত শব্দাবলি *বাংলাদেশ সুন্দরবনেও প্রচলিত শব্দ                           জঙ্গল সংক্রান্ত আইট / আট - জঙ্গলের মধ্যে প্রাচীন বসতির চিহ্নযুক্ত উঁচুভূমি। আঁচঘর - যেখানে বাঘ বাচ্চা প্রসব ও লালন করে। আড়া / হেলা - পুরুষ বাঘ। আড়া - ডাঙা বা উঁচু স্থান (ভিজে আড়া < ভিজেয়াড়া < বিজেয়াড়া)। ওঁত - আত্মগোপন করে শিকারের জন্য প্রস্তুত অবস্থা। কস্তুরা - বড়ো ঝিনুক,এই ঝিনুকে সুন্দরবনবাসীরা কাজল তৈরি করে। পুড়িয়ে চুন তৈরির অন্যতম উপাদান। কঁচা - নিবিড় জঙ্গলপূর্ণ অরণ্যভূমি। কালাবন/কালকবন - নিবিড় বন। খাস জঙ্গল - সংরক্ষিত অরণ্য। খোঁচ - নরম মাটিতে পায়ের ছাপ। গণ্ডি - ...

মুসিটগাজির মন্দির বা মুর্শিদতলার মুর্শিদ গাজী

Image
মুসিটগাজির মন্দির বা মুর্শিদতলার মুর্শিদ গাজী সম্পর্ক বিশ্বজিৎ হালদার, মশাই, এবং সঞ্জয় ঘোষ মহাশয় লেখা পড়ে,মাঘ মাসের পয়লা তারিখটি বেরিয়ে পড়লাম  মেলার উদ্দেশ্যে।        বারুইপুর কয়েকটি  সূর্যপুরের স্টেশন , আরো অন্তত তিন-চার কিলোমিটার ভিতরে শেষে একটা মেঠো রাস্তা পেরিয়ে একটু সামনে এগোলেই ঘুড়ির ভরা আকাশের নিচে মাঠের মাঝে একটা মেলা। এখানে একটা ভিটেতে মুর্শিদতলা।  মাঠটির চারিদিক ঘিরে আছে তেউড়হাট, নবগ্রাম, ওলবেড়িয়ার, গোপালপুর গ্রাম।  লোকজন অসংখ্য মূর্তি মাথায় করে আনছে মুর্শিদতলায়।মুর্শিদ -বনবিবি, গাজি সাহেব মূর্তি।   এনাকে বনবিবির ভাই সাজঙ্গলি দেখেছিলেন বিশ্বজিৎ বাবু । যদি সঞ্জয় ঘোষ কথায় এই গাজীর কথা উল্লেখ নেই কোথায়। একে আমি সমর্থন করি কারণ ক্ষেত্র সমীক্ষা সময়, কেউ এই গাজী কোথায় থাকে এসেছেন কেউ বলতে পারলেন না। বনবিবি-সাজঙ্গলি নিজেরা গাজি বা ধর্মযোদ্ধা এবং দক্ষিণরায়ের সাথে যুদ্ধ হয়। প্রবাদ অনুযায়ী বনবিবি ও দক্ষিণ রায়ের মা নারায়ণীর যুদ্ধ হয়েছিল আর গাজির সাথে দক্ষিণ রায়ের যুদ্ধ হয়েছিল খনিয়ার প্রান্তরে।...

পাঁচু গোপাল , পেচাপেচির পুজা

Image
বারুইপুর নিকটবর্তী সূর্যপুরের দশ কিলোমিটার দূরে একটা গ্রাম আছে, সেই তেউড় গ্রামের মসিদ গাজীর মন্দির দেখতে গিয়ে। আরো একটি লোকসংস্কৃতির নিদর্শন দেখতে পেলাম। পুঁচু ঠাকুর, এখানে উনি পাঁচু। গোপাল নামে পরিচিত হয়েছে। এখানে হরি লুট সাথে ছলন হিসেবে গোপাল ঠাকুর দেওয়া হয়। এখানে পাঁচু মূর্তি পঞ্চানন প্রভাবিত হলেও নীল রঙের ব্যবহার করা হয়েছে মূর্তি। এর উল্টো দিকে এক মৃত শিল্পী র কর্মশালা। সামান্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বিষয় টি। কিভাবে মূর্তি গুলো পরিবর্তন হয়ে যায় তা বুঝতে পেরবেন আপনি ও। তবে কলিকাতা শহরের কেষ্টপুরে পাঁচু গোপালের মন্দির আছে। পাঁচু গোপালের এই 150 বছরের পুরানো মন্দিরকে স্থানীয় সম্প্রদায় একে পেচো পচি তালা বলে। মন্দিরটি সাধারণত সকাল 8 টা থেকে সন্ধ্যা 6 টা পর্যন্ত খোলা থাকে। নিঃসন্তান মহিলারা এখানে আসেন , পূজা দিতে ভগবান পঞ্চু গোপালকে  আসলে সন্তান জন্মদানকারী ঈশ্বর হিসেবে দেখেন । এ কৃপা পেতে যাতে মহিলারা একটি শিশু গর্ভধারণ করতে পারে।বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে মাঘের 1লা দিনে প্রতি বছর একটি বিশেষ  পূজা অনুষ্ঠিত হয় ।প্রচুর লোক হাজির হয় প্রার্থনা করার জন্য । এবার আস...

কুমীর পূজা

Image
সৈকত রাজ্য এই গোয়াকে খ্রীষ্ট ধর্মের লোকজনের বাসভুমি হিসেবে জানলে ও এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস আছে। এখানে লোকসংস্কৃতি সাথে বাংলার সংস্কৃতি একটা মিল আছে। গোয়ার লোক সংস্কৃতি মানজেম থাপনি ,এই  শব্দের অর্থ হল  যদি বুৎপত্তি করা হয় তাহলে দেখা যাবে মানজেমের অর্থ  কুমির এবং  থাপনি শব্দের অর্থ হল মাটির তাল থেকে তৈরি । মাটি দিয়ে এখানে তৈরি করা হয় কুমীর এবং সেই টিকে পূজা করা হয়।এই পুজো করা  হয় পৌষ মাসে, তাঁদের গ্রামকে রক্ষা করার জন্য , ভালো ফসল আর।মাছ উৎপাদনের জন্য।  এবার আসি সুন্দর বনের কথা, কালু রায় কুমীর দেবতা। চড়ক পূজা তে ঠিক এইভাবে মাটির কুমির পূজা হয়। তবে উত্তর ২৪ পরগনা আর নদীয়া জেলাতে কুমির পূজা হয় বাস্তু পূজা হিসেবে। তবে লোক সংস্কৃতি উৎসব বলা চলে একে। গান গেয়ে ভিক্ষা করে পূজা সামগ্রী সংগ্রহ করে পূজা করা হয়। যদিও এই লোক সংস্কৃতি উৎসব টি হারিয়ে যাওয়া ।  মকর অর্থ হলো কুমীর। দুই পরগনায় বাস্তু পূজা করা হয়। বলা হয় বাস্তু দেবতার বাহন মকর। বাস্তু দেবতা সংক্রান্তিতে পূজা পান। বাস্তু পূজা মা লক্ষ্মী পূজা হয়। দেবতার...

আল্লাদী পুতুল

Image
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের রাজনগরের মৃৎশিল্পীরা একসময় তৈরি করতেন কাঁচা মাটির আহ্লাদী পুতুল। এখন নেই। যতদূর জানি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর-মজিলপুরের বিখ্যাত শিল্পী ছিলেন মন্মথ দাস। তিনি যদিও এই অঞ্চলে এক নিজস্ব ঘরানায় পুতুল তৈরি শুরু করেছিলেন। তাঁর পৌত্র শম্ভুনাথ দাস এখনও পোড়ামাটির রঙিন পুতুল বানিয়ে থাকেন। আগে মজিলপুরে টেপা পুতুল পাওয়া যেত, তবে বর্তমানে এখানকার পুতুলগুলো এক-খোল আর দু-খোল ছাঁচে প্রস্তুত করা।  এখানে মজিলপুরে নানা বিষয়ের পুতুল পাওয়া যায়, পাওয়া যায় আহ্লাদ-আহ্লাদী পুতুল ও। তবে একটি বিশেষ পুতুল কে আহ্লাদী পুতুল কেন বলা হয় জানি না।আহ্লাদি পুতুল মানে যে পুতুলগুলো সত্যি বেশি আহ্লাদি  কিনা তা জানি না। কিন্তু  সব পুতুলই   আহ্লাদে কে মন ভুলিয়ে আমাদের রেখেছে যুগের পর যুগ ধরে তা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়

মূর্তি ও পুতুল

Image
গোছানো মানুষ না আমি। বলতে পারেন চঞ্চল নদীর মতো। আমার লেখা ছন্ন ছাড়া নিজের গতি এবং মর্জিনুসারে চলি। কিছু দিন ধরে কিছু জ্ঞানি গুনী মানুষ আমাকে একটু গোছাতে বলছেন। তাঁরা ভালো বাসেন আমি তাই  বলছেন আমার ছড়ানো ছেটানো লেখা নিয়ে কয়েকটি বই প্রকাশিত করতে। বিষয় পুতুল আর দারুবিগ্রহ। দারুন বিগ্রহ মানে গোদা বাংলায় কাঠের মূর্তি। যাইহোক মোদা কথা পুতুল আর মূর্তি। হঠাৎ তাই মনে র মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে আচ্ছা #পুতুল আর #মূর্তি র মধ্যে পার্থক্য কোথায়? আচ্ছা অ্যানিকোনিজম বা ইব্রাহিমীয় ধর্মের লোক জন মূর্তি পূজা বিরোধী আপনার জানেন। কিন্তু জানেন কি হিন্দু ধর্মের এক সময় মূর্তি পূজা হতো না? গ্রিক শব্দ  "এইদলন" যার অর্থ ছবি বা পুতুল এবং লাত্রেইয়া শব্দের অর্থ পূজা"। "এইদললাত্রিয়া" শব্দের অর্থ এইভাবে "মূর্তির পূজা"। এই থেকে  এটা বলতে  প্যালিওলিথিক যুগে অর্থাৎ যিশু খ্রীষ্ট জন্মের চার হাজার বছর আগে মিশর গ্রীক মূর্তি পূজা চালু হয়েছে। তবে সিন্ধু সভ্যতাতে মূর্তি পূজা হতো।প্রকৃতির প্রতীক, উপকারী প্রাণী বা ভীত প্রাণী উভয়ই তখন পূজিত হতো । গ্রীক রা বোধহয় মানুষ রূপে ঈশ্...