Posts

Showing posts from 2023

গণপুর গ্রাম রামেশ্বর শিব মন্দির

Image
গণপুর গ্রাম রামেশ্বর শিব মন্দির কমপ্লেক্স কথা জানান কি আপনি? পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার সিউড়ি সদর মহকুমা মহম্মদ বাজার সি ডি ব্লকের একটি পুরানো গ্রাম গণপুর । গণপুর গ্রাম রামেশ্বর শিব মন্দির কমপ্লেক্স কথা অনেকটাই প্রচারে আড়ালে। বীরভূমের সিউড়ি রামপুরহাট রাস্তার ধারে গণপুর পৌঁছে যেতে পারেন আপনি। চারিদিকে শাল জঙ্গলে ঘেরা গণপুর। ডেভিড জে ম্যাককাশন তাঁর Temples of Bengal, (1972), বই লিখেছেন গণপুরে অনেকগুলি ছোট ছোট চার চালা মন্দির আছে ।যেগুলি ইঁটের তৈরি এবং তাদের সম্মুখভাগ সমৃদ্ধভাবে খোদাই করা ভাস্কর্যে। তিনি ১৭৬৯ সাল নাগাদ প্রতিষ্ঠিত একটি বিষ্ণু মন্দিরেরও উল্লেখ করেছেন ।এটি মণ্ডল পরিবারের দ্বারা নির্মিত একটি আট চালা মন্দির, এবং ইঁট দিয়ে নির্মিত। কয়েকটি পাথর দ্বারা নির্মিত মন্দির ছাড়া বীরভূম জেলার অধিকাংশ মন্দিরই ইট দ্বারা নির্মিত। যে ঐতিহাসিক পটভূমিকায় এই সমস্ত মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় সেইসময় এইগুলির নির্মাণে আশানুরূপ অর্থ সাহায্য রাজকোষ থেকে পাওয়া যায়নি। সাধারণ জমির অধিকারী, পণ্ডিত, ব্যবসায়ীদের দ্বারা অধিকাংশ মন্দিরই প্রতিষ্ঠিত হয়। আগে বীরভূম ছিলো নানা শিল্পে উন্নত। গণপুর, মল্লারপুর...

লক্ষ্মীর বাহন কি শুধু মাত্র পেঁচা?

Image
বাংলার সব পূজা উৎসবে কিছু ব্যাতিক্রম ঘটনা দেখা যায়। যেমন রামকানালী, গঙ্গাজলঘাটিতে লক্ষী পূজাতে পূজা হয় গজলক্ষ্মীর। তবে এই পুজোর প্রচলন হয়েছিল প্রায় ১৪০ বছর আগে। তখন বাঁকুড়ার বেশ কিছু জায়গায় হাতি আক্রমণ করত প্রায়শই, প্রচুর শস্যহানি হতো। তখন তাই গ্রামবাসীরা গজলক্ষ্মীর পূজা করে। এখানে লক্ষ্মীর বাহন রূপে পেঁচা নয় হাতিকে রেখে পুজো করেন। সকলের কাছে তাই তিনি গজলক্ষ্মী।  এদিকে হিন্দু পৌরাণিক গল্প, গজলক্ষ্মী সমুদ্র মন্থনের সময় আবির্ভূত হয়েছিলেন । তিনি ইন্দ্রের হারানো সম্পদ এবং ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছিলেন। তিনি দেবীর রূপ যিনি পশু সম্পদ এবং সম্পদের অন্যান্য প্রতীক যা শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সেক্ষেত্রে কিন্তু মূর্তি ফারাক আছে। দেবীর পায়ের কাছে দুটি সিংহ আছে, আবার দুটি হাতি তাকে জীবনদানকারী জল দিয়ে স্নান করাছে এবং তার বাম এবং ডান পাশে দুটি মহিলা পরিচারক চামর ধরে আছে। তবে গুপ্ত রাজা বৈষ্ণব ছিলেন এবং দেবী লক্ষ্মীকে সর্বোচ্চ সম্মান করতেন।তাদের শাসনামলে বেশিরভাগ মুদ্রায় দেবী লক্ষ্মী সিংহবাহিনী হিসাবে দেখা যায়।গুপ্ত শাসক প্রকাশ দিয়ার শাসনামলের মুদ্রায় গরুড়ধ্বজা এবং উল্টোদিকে লক্...

কলিকাতার গয়না বাড়ি

Image
কোলকাতার গহনা বাড়ি চেনেন?? বামাচরণ ভড় ঠাকুরবাড়ি গয়না বাড়ি হিসেবে পরিচিত।উত্তর কলকাতার নীলমণি সরকার লেনে বামাচরণ ভড়ের বসতবাড়িকে ব্রজকিশোর ঠাকুরবাড়ি বলে চেনে । সরু গলি, বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, কী অপূর্ব স্থাপত্য কারুকার্য অপেক্ষা করছে এই বাড়ির ভেতরে। ইংরেজ আমলে বামাচরণ ভড় এক সফল ব্যবসায়ী। বামাচরণের জন্ম ১৮৫১ সালে। তিনি কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন না। ইংরেজদের পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতা তখন উদীয়মান নগরী, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের পীঠস্থান হয়ে যখন ওঠেছে। তখন এ শহরে বামাচরণ এসে ছিলেন এক ভাগ্যান্বেষী হিসেবে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান, পেটের দায়ে এসেছিলেন কোলকাতায়। কলকাতায়, আর দশজন শ্রমিকের মতো তিনি কাজ শুরু করেছিলেন। কলকাতায় এসে প্রথমে বামাচরণ এক পোশাক তৈরির কারখানায় শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন । এই সংস্থা মূলত ইওরোপীয় পোশাক তৈরি করত। অসম্ভব বুদ্ধিমান ও পরিশ্রমী বামাচরণ ছিলেন। তিনি ব্যবসার যাবতীয় বিষয় করায়ত্ত করলেন। পরে তিনি কলকাতার এক পোশাক প্রস্তুতকারক ইংরেজ কোম্পানির অংশীদার হয়ে বসলেন। আর এই কোম্পানীর মালিক বিলেতে ফিরে গেলেন, পুরো ব্যবসা মালিক হয়ে বসেন বামাচরণ। দক্ষ...

অষ্টনায়িকা_দুর্গা"।

Image
"অষ্টনায়িকা_দুর্গা"। বাঁকুড়া জেলার অযোধ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আমরাল গ্রামের পদ্মাসনা চতুর্ভূজা দেবী দুর্গা অষ্টসখীর সাথে বাপের বাড়ি আসেন,কোনো সন্তানকেই  তিনি আনেন না। গ্রামের গোস্বামী পরিবার এই কুমারী দুর্গার পুজো শুরু করেন বহু বছর আগে। অষ্টনায়িকা_দুর্গা  পদ্মের উপরে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য  কমলেকামিনী দুর্গা  নামে পরিচিত।  পুজোর সময় কামান দাগা হয়। এখানে মা দুর্গা অসুরকে বধ করছেন না। বিষ্ণুপুর থেকে দ্বারিকা-জয়কৃষ্ণপুরের রাস্তা ধরে পৌঁছে যাওয়া যায় এই গ্রামে । স্থান - আমরাল,বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া।

মা তাঁরা আবির্ভাব তিথি।।

Image
শুক্লা চতুর্দশী তিথি মা তাঁরার আবির্ভাব তিথি। এইদিন মা ভক্তদের পুজো গ্রহণ করেন, তারাপীঠ মন্দিরের গর্ভগৃহের বাইরে এসে  ।এই তিথিতে তারা মা কে মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বাইরে বের করে এনে মন্দির প্রবেশপথ সংলগ্ন “ বিরাম মঞ্চে বসানো হয়। এবং তাঁর ছোট বোন মলুটির মা মৌলিক্ষার মন্দির অভিমুখে পশ্চিম দিকে  মুখ করে বসিয়ে পুজো করা হয় ।   লোক কথা অনুযায়ী মলুটি গ্রামের মা মৌলিক্ষা তারা মায়ের ছোট বোন । এই দিন দুই বোনে মুখ দেখাদেখি হয়। লোক কাহিনী অনুযায়ী এইদিন মা নাটোর খান , আর নানকার এর দিকে চান । অর্থাৎ মা তারা নাটোরের রাণীর তৈরী মন্দিরে বসে সারা বছর ভোগ গ্রহণ করেন । আর বছরের এই একটি দিন নানকার রাজপাটে অবস্থিত মৌলিক্ষা মন্দিরের দিকে চেয়ে থাকেন । লোকবিশ্বাস অনুযায়ী পাল রাজত্বের সময়ে জয়দত্ত সওদাগর মায়ের আদেশে দ্বারকা নদের ধারে মহাশশ্মানের শ্বেতশিমূল গাছের তলায় পঞ্চমুন্ডির আসনের নিচে মা তারার শিলামূর্তি উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠা করেন এই ্শু্ক্লা চতুর্দশী তিথিতে। এইদিন  ভক্তরা বিরাম মঞ্চে তারাকে শুধু স্পর্শ নয় একেবারে জড়িয়ে ধরে মনোবাঞ্ছা নিবেদন করতে পারে । বিরাম মঞ্চে কোন কবাট দেওয়া দরজ...

অষ্টক গান

Image
অষ্টক গান সম্পর্ক জানেন কি? লোক সংস্কৃতি এই ধারা কি সত্যি লুপ্তপ্রায়?? নীল ষষ্ঠী' বা নীল পুজো' বাংলার হিন্দুসমাজের এক লৌকিক উৎসব, যেখানে শিবের বিয়ে দেওয়া হয়। চৈত্রসংক্রান্তির চড়ক উৎসবের আগের দিন অনুষ্ঠিত হয় নীল ষষ্ঠী পুজো। মহাদেব শিবের এক নীলকণ্ঠ । সেই নীল বা শিবের সঙ্গে চণ্ডিকা বিয়ে উপলক্ষ্যে লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয় এই পূজায়। পৌরাণিক কাহিনি অনুসায়ী দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহত্যাগের পর সতী পুনরায় নীলধ্বজ রাজার বিল্ববনে সুন্দরী কন্যারূপে আবির্ভূত হন। রাজা তাঁকে নিজ কন্যারূপে লালন-পালন করে শিবের সঙ্গে বিয়ে দেন। নীলপূজা শিব ও নীলাবতীরই বিবাহ-অনুষ্ঠানের স্মারক। নীল পুজোতে শিবকে নিয়ে ,নীলসন্ন্যাসীরা ও শিব-দুর্গার সঙেরা গান করতে করতে বাড়ি বাড়ি ঘােরান এবং ভিক্ষা সংগ্রহ করেন। এ সময় তাদের মুখে শােনা যায় যে বিশেষ ধরনের গান তা ‘নীলের গান' বলেই লোক মুখে পরিচিত। তবে এই নীলের গান হল-অষ্টক গান'। চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন সারাদিন উপােস করে সন্তানবতী হিন্দু মেয়েরা । বিকেলে তারা শিবের মাথায় জল ঢালেন । নীলের ব্রত’ শুনে সন্তানের কল্যাণার্থে প্রদীপ জ্বালিয়...

সাত ভাই কালি মন্দির।।

Image
বনগাঁর সাত ভাই কালি মন্দির কেন বিখ্যাত?? উত্তর চব্বিশ পরগনায় বনগাঁর ইচ্ছামতি নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে,বিরাট বট গাছের তলায় রাস্তার ধারে সাত ভাই কালী মন্দির অবস্থিত । এখানে মা প্রায় শত বছর ধরে পূজিত । মা এখানে খুব জাগ্রত। মায়ের কাছে এসে প্রার্থনা আর মনস্কামনা পূর্ণ হয় । পৌষ মাসের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার সাত ভাই কালীমন্দিরে ধুমধাম করে বিশেষ পুজো হয় । পুজো উপলক্ষে এখানে মেলার আয়োজন হয় । এখানে প্রাচীন বটগাছে ভক্তরা লাল সুতো বাঁধে । কথিত আছে রেলওয়ে পথ তৈরি সময় গাছটি কাঁটার নির্দেশ এলেও গাছটি কাটাতে পারিনি কেউ। লোক কথা অনুযায়ী, যশোরে একজমিদার বাড়িতে কালীচরণ, কালীপ্রসাদ, কালীকিংকর, কালীপ্রসন্ন-সহ মোট সাত ভাই ডাকাতি করতে গিয়েছিলো৷ সেই সময় নাকি মা কালীর তাদের জিজ্ঞাসা করে ধনসম্পদ সাথে তাঁকে নিয়ে যাচ্ছে না কেন? তারপর দেবীর নির্দেশ মতোই তারা মাকেও নিয়ে চলে আসে । শ্মশানের পাশে ইছামতীর পাড়ে বটগাছের তলায় কালী মূর্তিকে প্রতিষ্ঠা করে। এবং দেবীর নির্দেশে কৃষ্ণনগর থেকে চক্রবর্তী বামুনদের নিয়ে আসে নিত্য সেবার জন্য ৷ এক পৌষ মাসের রাত দেবীকে প্রতিষ্ঠা করা হয়।সেই অনুযায়ী আজও প্রতি বছর পৌষ মাসের শনি ...

পুরীর মহাপ্রসাদ

Image
পুরী জগন্নাথ মন্দিরে প্রসাদকে মহাপ্রসাদ বলা হয় কেন? বিভিন্ন পুরাণ যেমন পদ্মপুরাণ, স্কন্দ পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণে জগন্নাথের প্রসাদ বা জগন্নাথের ভোগ এর অপরিসীম মাহাত্ম্য কথা বলা হয়েছে। ভগবান জগন্নাথ, দাদা বলরাম ও দেবী সুভদ্রা এই তিন মূর্তি দর্শন করলে এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণ করলে আমাদের কলুষিত মন কলুষমুক্ত হয় আর আমাদের মনে ভক্তি ভাবের উদয় হয়। আর এই ভক্তি থেকেই আসে প্রকৃত জ্ঞান। প্রকৃত জ্ঞান থেকেই আসে মুক্তি। তাই মুক্তি পেতে অবশ্যই ভক্তিভরে গ্রহণ করুন পুরীর জগন্নাথের প্রসাদ। নিজের প্রসাদ সম্পর্কে প্রভু জগন্নাথ কি বলেছেন এমনকি জগন্নাথ নিজে বলছেন যদি আমার নিবেদিত অন্ন কুকুরের মুখ থেকে পড়ে যায় এবং সেই অন্ন যদি ব্রহ্মাদি দেবগণ সৌভাগ্যবশত লাভ করেন তাহলে তাঁরা সেই অন্ন অনায়াসে ভক্ষণ করতে পারেন। কারণ এর মহত্ত্ব কখনো নষ্ট হয়না। তাহলে কিএর মাহাত্ম্য কি কোনদিন বা কোনভাবে নষ্ট হয়? না হয় না। এই মহাপ্রসাদ শুকিয়ে যাক বা পর্য্যুষিত মানে বাসি হোক অথবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হোক বা অস্পৃশ্য জাতির স্পর্শ পেয়ে এই মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য নষ্ট হয় না। প্রচলিত এক গল্প অনুযায়ী,একবার এক শাস্ত্রজ্ঞ...

চৈতন্য মহাপ্রভু প্রভাবে বাংলার জগন্নাথ

Image
চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রভাবে বাংলার জগন্নাথ কি আলাদা হয়ে গেছেন পুরীর জগন্নাথদেবের থেকে?? বাংলার রথ উৎসব খুব খুব জনপ্রিয়।বাঙালির কাছে কেন এই ভুভারতে জগন্নাথ দেব এতো জনপ্রিয় হয়েছেন কারণ বোধহয় শ্রীচৈতন্যদেব।বাংলার জগন্নাথ সংস্কৃতির প্রাণ পুরুষ। যদিও চৈতন্যদেবের আগেই মাহেশে জগন্নাথ ছিলেন।কিন্তু বাঙালির নিজস্ব জগন্নাথ গড়ে উঠেছে শ্রীচৈতন্যদেবের প্রভাবে। তাঁর প্রভাবে লোকবিশ্বাস অনুসারে বীরভূম একচক্রে গ্রামে গড়ে উঠেছে পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দির ও। এছাড়া সারা বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জগন্নাথে মন্দির এবং রথ উৎসব। কিন্তু বাংলার জগন্নাথ রূপ কিছুটা পাল্টে গেছে , কোথায় কোথায় তাঁর আছে হাত সাথে আছে দিঘল চোখ।পূর্ব বর্ধমান জেলার আউরিয়া গ্ৰামের প্রতিষ্ঠিত হাত সহ আছে জগন্নাথ। বাংলার সংস্কৃতি বাংলার দারুবিগ্ৰহ আলোচনা করলে দেখা যাবে জগন্নাথ দেবের আর তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের।বাংলাতেও অনেক জায়গায় জগন্নাথ ও লক্ষ্মী দেবীকে নিয়ে রথযাত্রায় অনুষ্ঠান হয়। সুবর্ণ বণিক পরিবারে , বৌবাজার অঞ্চলে রথ যাত্রায় জগন্নাথ ও লক্ষ্মী একসাথে দেখা যায়। আবার রামকানাই অধিকারী পরিবারের জগন্নাথ দেবের প...

অম্ববাচী কি ? কামাখ্যার ইতিহাস

Image
মা কামাখ্যা দেবীর ইতিহাস কি....???? অম্ববাচী মেলা কেন পালন করা হয়.......???? যদি না জানেন তো জেনে নিন...পুরান মতে-স্বামীর অপমান সইতে না পেরে সতী দেহত্যাগ করলেন। প্রিয় স্ত্রীকে হারিয়ে, তাঁর দেহ নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য করলেন মহাদেব। চারিদিক তখন তোলপাড়। শিবের নৃত্যে সব ভেঙে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। এই জগতকে রক্ষা করতে দেবতাদের অনুরোধে ভগবান বিষ্ণু ভগবান শিবের ক্রোধ দমন করার পন্থা বেছে নেন। বিষ্ণুর চক্রে সতীর দেহ খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায়। ৫১টি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে শরীরের এক একটি অঙ্গ। যা আজ ৫১টি পীঠস্থান। কামাখ্যা মন্দির সেই ৫১টি পীঠস্থানের একটি। সেখানে নাকি ছিটকে পড়েছিল সতীর যৌনাঙ্গ। তাই সেখানে দেবীর মূর্তি পুজিত হয় না।অসমের কামাখ্যা মন্দির, ধার্মিক কারণে তো বটেই, সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণেও জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রত্যেক বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় করে এই মন্দিরে। বিশেষকরে অম্বুবাচী মেলার সময় ভিড় হয় চোখে পড়ার মতো। সেই সময় পুজিত ভূগর্ভস্থ এলাকা লাল হয়ে থাকে। মন্দিরের নালা দিয়ে বেয়ে যায় লাল জল। এই ঘটনাকে মায়ের ঋতুস্রাব বলে অনেকেই মনে করেন। এই সময় নাকি দেবী ঋতুমতী হন। তিনদিন ধরে এমনটা চলতে থাকে। মন্দ...

বিষ সংক্রান্তি

Image
বিষ সংক্রান্তি কি জানেন?? #বিষসংক্রান্তি জৈষ্ঠ মাসের শেষ দিন বিষ সংক্রান্তি নামে পরিচিত । বাংলা জৈষ্ঠ্য মাসের শেষ দিনটি হল জৈষ্ঠ্য সংক্রান্তি বা বিষ সংক্রান্তি বা এড়িবেড়ি ।এদিনে সর্পের দেবী মা মনসার পূজা উদ্দেশ্যে কিছু নিয়ম পালন করা হয়। নিরামিষ, তেতো ও কষা দ্রব্য খাওয়া হয়।সকালে ঘুম থেকে উঠেই , মুখ হাত পরিস্কার করে,দাঁত মেজে, একটি পাত্রে মুসুর ডাল, নিম পাতা, কেলে কাঁকড়া নামক ফল রাখা হয়। সকালে স্নানের পর সকলে ওগুলি সামান্য খেয়ে তারপর অন্য কিছু খেতে হয় ।দুপুরে ভাতের সাথে কেলে কাঁকড়ার ভাজা, করলা , নিম পাতার অথবা কোন তেঁতো সব্জির ভাজা, মুসুরের ডাল, মুসুরডালের বড়ার বিভিন্ন পদ, সজনে শাক ইত্যাদি পদ রান্না করতে হয় । এদিনে আমিষ দ্রব্য, পেঁয়াজ, রসুন, ঢ্যাঁড়স মতো সব্জি খাওয়া নিষিদ্ধ।এই নিয়ম পালনের পিছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তিও আছে। আষাঢ় মাস হতে শুরু হয় বর্ষাকাল। বর্ষায় বিভিন্ন চর্মরোগ হয়। আর এই চর্মরোগ হতে বাঁচতে তেঁতো ও কষা সব্জি খাবার নিয়ম আয়ুর্বেদে অনুযায়ী। তাছাড়াও নিম-কেলে কাঁকড়ার মতো গাছের থেকে বিষ প্রভাবও কাটে। 1885 সালের 13ই জুন ( ৩২শে জৈষ্ঠ্য, ১২৯২ ) অর্থাৎ এই বিষ সংক্রান...

গুড়শুটি মেলা

Image
গুড়শুটি মেলা কোথায় হয় জানেন??? মেদিনীপুর গুড়সুটি মেলার খুব বিখ্যাত তবে সময় মাত্র কয়েক ঘন্টা।গুড়সুটির পসরা সাজিয়ে একদল বিক্রেতা হাজির হন এই মেলায় ।আসলে মেলায় ঘুরতে আসা শয়ে শয়ে ক্রেতা গুড়সুটি কেনে। গুড় মাখানো কাঠিগজা - যাকে সবাই 'গুড়সুটি' বলে ডাকেন, তা এই মেলায় প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত গুড়সুটি কেনার জন্য লোকালয়ের মধ্যের এই ছোট্ট মেলায় ভীষণ ভিড় লেগে থাকে। এই জন্য সকলে এই মেলাকে 'গুড়সুটির মেলা' বলে চেনেন ও ডাকেন। দোলের দ্বিতীয় দিন শুধু মাত্র গুড়সুটির কারণে শহরের তো বটেই শহরের বাইরের দূর দূরান্ত থেকে লোকে এখানে হাজির হন সানন্দে। সবার হাতে ঝুলতে থাকে ব্যাগ। তাতে ভর্তি গুড়সুটি। এক একজন তো এক দেড় কেজিও কেনেন। মেদিনীপুর শহরের পাটনাবাজার এলাকার সাহেবপুকুর চকে ঠিক দোল পূর্ণিমার দ্বিতীয় দিন এই মেলা বসে। । মেদিনীপুরে আসলে দু'দিন দোল খেলা হয়। আর সেই দ্বিতীয় দোলের দিনে বিকেল হলেই এই মেলা বসে। এই মেলাটি শুরু করেছিলেন সাহেব পুকুর চক এলাকার তৎকালীন বাসিন্দা এক অতি বৃদ্ধা উজ্জ্বলা সাহু। তাঁর পায়ের সমস্যার জন্য লোকে তাঁকে 'নেং...

বাদাই গান

Image
বাদাই গান শুনেছেন কখনো?? বাদাই গান সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রথমেই বলতে হয়।'বাদাই‘ শব্দটি এসেছে, বিবরণ বা বাদ–বিতণ্ডা। ব্যুৎপত্তিগত অর্থ[বি+ষ(সৎ)। আসলে বাদাই গানের চরিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়।শ্রীকৃষ্ণের জন্মকাহিনি এবং মহাভারত থেকে বিভিন্ন কটূ প্রশ্ন এক পক্ষ গানের মাধ্যমে অন্যপক্ষে করে।অন্যপক্ষ সেই প্রশ্নের জবাব দিয়ে আবার নতুন প্রশ্নের করে।এভাবেই লড়াই চলতে থাকে যতক্ষণ না একপক্ষ হার স্বীকার করছে। প্রাচীন লোকগানগুলির মধ্যে বাদাই গান অন্যতম । শ্রীকৃষ্ণের জন্ম কাহিনী নিয়ে বাদাই গান রচিত হত শুরুতে । এই গানের আসর বসত মূলত গ্রামের নাট মন্দিরে,বারোয়ারি তলায় বা কোনও অভিজাত গৃহস্থের বাড়ির উঠনে । আবার বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে অভিনয়ের করে গান গেয়ে সারা গ্রাম ঘুরে বেড়াতো শিল্পীরা।সাথে বাদ্যযন্ত্র হিসাবে থাকতো ঢোল,কাঁসি,বাঁশি,বাঁশরী, খঞ্জনি, নুপূর প্রভৃতি । কীর্তনের সুরে বাদাই গান গাওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে টপ্পা, ঝুমুর, গাজনের সুরের গান গাইতে শুরু করেন শিল্পী রা । সময়ের সাথে সাথে বাদাই গানের ভাষা ও সুরে লাগে আধুনিকতার ছোঁওয়া লেগেছিল । তাই গানের উপস্থাপনা একই থাকলেও ভাষায় ধর্মীয় কাহিনীর ...