Posts

Showing posts from 2021

সাতদেউল।

Image
মন্দির নির্মাণ বাংলার একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। দেবালয় বা দেউল নির্মাণ একটা গৌরবময় ইতিহাস আছে বাংলা র। পাথর দিয়ে মন্দির তৈরি হলেও বাংলা পোড়া মাটির ইটে তৈরি হয়েছিল বিভিন্ন মন্দির।  হাজার বেশি  বছরের পুরনো এই সব দেউল গুলো এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বাংলা র আনাচে কানাচে।লোকে বলে, বর্ধমান নামটি কিন্তু  জৈন তীর্থঙ্কর বর্ধমান মহাবীরের নাম থেকেই এসেছে।পূর্ব বর্ধমান আঝাপুর, জৈনদের মন্দির - সাতদেউল নির্মাণ হয়েছিল , আনুমানিক খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দী দিকে । নির্মাণ শৈলী দেখার মতো, রেখ দেউল স্থাপত্য এবং প্রবেশ পথ, অসম্ভব সুন্দর ,করবেল আর্চড, ক্রমবর্ধমান খিলানের মতো।  রাঢ় বাংলার একসময়  রাজাদের  শাসন ছিলো, জৈন ধর্ম প্রচার প্রসার ছিলো তার প্রমান এটি। বর্ধমান থেকে পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার অম্বিকানগর, বিশাল জায়গা জুড়ে জৈনদের দেখা যায়‌ ।বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমানের দামোদর নদের নিকটবর্তী তেলকুপি গ্রাম , তৈলকম্পি বন্দর ছিলো এক সময়।এই সময় অধিকাংশ ধনী ব্যাবসায়ীরা জৈন ধর্ম গ্রহন করেন। তাঁরাই হয়তো এই মন্দির নির্মাণ করেছিলো। রেলপথে যেতে পারেন এখানে , হাওড়া বর্ধমান কর্ড লা...

কাটুম কুটুম শিল্প

Image
ছবিতে পুতুলটা দেখে  "কাটুম কুটুম শিল্পের" এর কথা মনে পড়লো।  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই শিল্প রীতির প্রচলন করেন।অবিন্দ্রানাথ বাঁশের গাঁট থেকে উড়ন্ত পাখি, গাছের শাখা প্রশাখা থেকে চপ্পল হরিণ, এছাড়া গাছের বাকল, সুপারির খোসা,  নারকেলের ছোবড়া, আমের আঁটি তালের আঁটি, নারকেলের মালাই পাথরের টুকরো, দড়ি ইতালি থেকে গিরগিটি, কুকুর, বেড়াল, মাছ, প্রজাপতি ইত্যাদি তৈরি করলেন এবং তাদের নাম করন করলেন "কাটুম কুটুম" পুতুল।।  মানুষের ব্যবহৃত ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে যেমন-ফলের বীজ,গাছের শিকড় ছাল এসব কাজে লাগিয়ে শিল্পী তার আপন মনে  ক্যানভাসে একটা ছবি তৈরি করে  শিল্পকলা ফুটিয়ে তোলেন। বীরভূমের আদিবাসী সম্প্রদায়ের  মানুষরা শান্তিনিকেতনের এখনো এই শিল্প সংস্কৃতির বাহক ওরা যেন জন্মসূত্রেই এই পুতুল গুলো বানাতে জানে ,ওরা জানে গাছের শিকড় ছাল ফল ফলের বীজ সংগ্রহ করে কি করে এই সুন্দর শিল্প বানাতে। এ প্রসঙ্গে মনে পড়ল অন্য একটি শিল্পী গল্প।বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর এলাকার চূয়া মসিনা গ্রামের দরিদ্র উপজাতি সম্প্রদায়ে জন্ম পবন লোহারের।  পড়ালেখার সঙ্গে ছিল ছবি আঁকার অ...

মাটির লক্ষী ভান্ডার

Image
 বিখ্যাত শহর থাংশান , এই  শহরটিকে মৃৎশিল্পের শহর বলা হয়। এই শহরটি।চীনের অন্যতম প্রাচীন শহর পেইচিং থেকে ১৫০ কি.মি. উত্তর-পূর্বে অবস্থিত  এই শহরের পথে-প্রান্তরে, বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক গুলোতে মৃৎ শিল্পের বিভিন্ন শিল্পকর্ম দেখতে পাওয়া যায়।  শহরের  প্রায় ৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস  আছে, থাংশানের মৃৎশিল্পের উৎপত্তি ও বিকাশের সূত্রপাত মিং রাজবংশের ইয়ুং লে এর সময়ে,  এখানে নানা ধরনের চীনা মাটির ৫০০টিরও বেশি মৃৎশিল্প রয়েছে। এখানকার বিভিন্ন রকম মাটির মধ্যে প্রাচীন স্থাপত্য চীনামাটি, স্বাস্থ্যসম্মত চীনামাটি, শিল্পায়ন চীনামাটি, হাইটেক চীনামাটি, শিল্পকলা চীনামাটি ইত্যাদি অন্যতম। আবার শিয়া মহাদেশের মৃৎশিল্পের ইতিহাসে দেখা যায়, খ্রিস্টীয় ১৩ শতকে সং রাজবংশের সময় চীনে তৈরি হতো"সেলাডন' নামক মাটির তৈরি বাসনপত্র ও শো-পিস। এগুলোকে বলা হতো '  চীনারাই সর্বপ্রথম সেলাডন প্রস্তুত করেছিল।  চীনারা এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় সেলাডন রপ্তানি শুরু করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই সেলাডনগুলো মৌলিক সৌন্দর্যগুণে তুরস্কের শাসকসহ অন্যান্য শাসক এবং রাজাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ...

বনবিবি

Image
বনবিবির সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি বনভূমির আধিপত্য দক্ষিণ রায়ের কাছ থেকে হস্তান্তরিত হয় বনবিবিতে। এই বন বিবির বাহন হিসেবে বাঘ , কুমির হরিন কে দেখা যায়।  জল রাজ্যের অধিপতি কালু রায়ের সঙ্গে সেই অর্থে বনবিবির কোন বিরোধ ছিল না বরং বন্ধু ছিলেন। জলের দানব কুমির কল্পনায় কালু রায়েরই বাহন । বনবিবির বাহন হিসেবে মুরগি কেও দেখা যায় । বনবিবি বা বনদূর্গা দক্ষিণ রায় অর্থাৎ বাঘকে যুদ্ধে হারিয়ে ছিলেন। তাই বাঘকে বনবিবির বাহন হিসেবে দেখা যায় সব জায়গায়। কিন্তু হরিন বাহন কেন? সুন্দরবনের  বকুলতলা থানার হরিনবাহিনী বনবিবি  সম্পর্কে, গবেষক সঞ্জয় ঘোষ বলছেন "দি রেভিনিউ হিস্ট্রি অফ সুন্দরবনস, ভলিউম টু বাই এফ ডি এস্কোলি্‌ ,পৃষ্ঠা ২১৬ বলা হয়েছে নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে সুন্দরবনে হরিন ধান ক্ষেতের খুব ক্ষতি করে।মনে হয় এ  কারনে হরিনবাহিনী বনবিবি পূজা শুরু হয়।তবে এটা  পর্যন্ত জানা তথ্য।হরিন যুক্ত নাম পাওয়া যায় দক্ষিন বারাসাতে রামরুদ্রপুর মৌজায় হরিনখালির বাদায় জেলার  এ  পর্যন্ত জানা সবার বড় বাঘ বাহিনী বনবিবি পূজা ও মেলা হয়।আমার গরু খোঁজ়া অনুযায়ী বনবিবির উৎস মেদিনীপ...

ঝুলন পুতুল

Image
ঝুলন মানেইউঠোনে, সিড়ির নীচে, বারান্দার এক কোণে কাদা মাটির পাহাড় সাজিয়ে সৈন্য জড়ো করে কিংবা গুহা রাঙিয়ে সেখানে সিংহ-বাঘকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ছেলেবেলায় ঝুলনে মেতেছেন অনেকেই। সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে ছুটেছে কল্পনার উড়ান।  ঝুলন যাত্রা বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম বড় উত্‍সব রাধা কৃষ্ণের প্রেমের উদযাপন হয় এই উত্‍সবের মধ্যে দিয়ে। ছোট ছোট পুতুল দিয়ে এদিন বাচ্চারা ঝুলন সাজায়। বিভিন্ন আচার ও সাবেক প্রথা জড়িয়ে আছে বাঙালি সমাজের এই উত্‍সবটির সঙ্গে।বাঙালির যেমন ঝুলন, তেমনি অবাঙালি মারোয়াড়ি সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মাষ্টমী তে এই পুতুল সাজিয়ে নবজাতক কৃষ্ণের জন্মোৎসব পালন দেখা যায়। তবে এখন পুতুলের পসরা কমে গেছে। দুবছর আগেও প্রচুর বেনারসের কাঠের পুতুল, রাজস্থানী লোক শিল্পের পুতুল আসতো। সেই সাথে কৃষ্ণনগর থেকে কৃষ্ণলীলা র বিভিন্ন মডেল। অনেক হয়তো এখন ছেলে বেলার কথা মনে পরবে। একটা ধর্মীয় উৎসব কিন্তু পুতুল শিল্প চাঙ্গা করে তুলতে পারে। ঝুলন শুধু উৎসব নয় নিছক। ধর্ম আসলে সমাজ বিজ্ঞান। ঝুলন সাজানো সাথে সাথেই আমরা বুঝতে পারতাম বাস্তুতন্ত্র। অর্থাৎ যে সব  পশুপাখি আজকাল ব...

st Francis Xavier's church

Image
আজ ০৩/১২/২০১২, বাংলায় নিশ্চিত ক্ষুদিরাম বসু র জন্মদিন নিয়ে উৎসব অনুষ্ঠান সবাই ব্যস্ত। এখান থেকেই বোঝা যায় ভারত শুধুমাত্র একটি যুক্ত রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটা অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। জোর করে এক ভারত বানাতে একটি ধর্ম, একটি ভাষা একটি সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে পারবে না। না না আজকাল একটি ভাষা সব রাজ্যের ওপর দাদাগিরি করতে চায় তাই বললাম আর কি! ভারত প্রতিটি রাজ্য গঠিত হয়েছে ভাষা সংস্কৃতি দিয়ে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। গোয়া, আর গয়ার মধ্যে মিল পাবেন না। তাই হয়তো গোয়াতে আমার দিনটা কালো অন্য রকম। আজ দিনেটা আমি কাটালাম বম জেসুস গির্জায়।বম জেসুস অর্থাৎ পবিত্র যীশু। সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ারকে উত্সর্গীকৃত গির্জা এটি । আজ  বার্ষিক নন-ফিট কিসিং সেন্টস ডে । এই সাধুকে  গোয়ার জনপ্রিয় দেবতা গোয়েঞ্চো সাইব নামে অভিহিত করা হয় । প্রতি বছর, বহু শতাব্দী ধরে গোয়ানদের আশীর্বাদ করার জন্য সাধুকে ধন্যবাদ জানাতে আজ বিশেষ ভোজের আয়োজন করা হয়। যদিও নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় এবং জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয় এই উৎসব । ওল্ড গোয়ার প্রাচীনতম এবং খুব বিখ্যাত গির্জার একটি। অবশ...

দারু বিগ্রহ

Image
সোমা মুখোপাধ্যায় যিনি বাংলার নানা ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এর কথা তাঁর লেখা গ্রন্থের মাধ্যমে তুলে ধরেন তাঁর একটি পোস্ট দেখে , আমার এই লেখাটা লেখার  ইচ্ছে হলো। যদিও সায়ন রায়ের তৈরি তথ্য চিত্র গুলো য় অনেক গুলো দারুন বিগ্রহের কথা আমরা জানতে পারি। তার মধ্যে  ফরতাবাদ এর কাঠের কালি বিশেষ উল্লেখযোগ্য কারণ এই মন্দিরের পথ খুঁজে পাওয়া ই অনেক টা কঠীন কাজ অন্তত কোলকাতায় থাকাকালীন দুইবার তিনবার চেষ্টা করে আমি ব্যার্থ হয়েছিলাম, এবং তারাপদ সাঁতারার‌ লেখায় যদিও বহু দারু বিগ্রহের কথা আমরা জানতে পারি। শালকিয়ায় রমণী মোহন চ্যাটার্জীর বাড়িতে এক দারুময়ী জগদ্ধাত্রী আছেন তার রূপ সত্যি অসাধারণ। সোমা দেবীর কথা অনুযায়ী  রমণী বাবু একজন উদ্যোগপতি ছিলেন।তাঁর কাস্ট আয়রণের ব্যবসা ছিল।   হুগলির সঙ্গে হাওড়ার যোগসূত্রের কারণে বিগ্ৰহে তার অনেক প্রভাব আছে। আমি আমার বিভিন্ন লেখায় তিনটি চারটি দারু বিগ্রহের কথা আপনাদের বলেছিলাম। বারুইপুর অঞ্চলের রামনগর থানার আদি মহামায়া, গড়িয়ার মহামায়া, বোড়ালের ত্রিপুরার সুন্দরী  , বনহুগলির চক্রবর্তী দের জগন্নাথ দেব কথা।  দারুন বিগ্রহ...

চীনা মাটির পুতুল

Image
পরিব্রাজক গবেষক সায়ন রায়ের সংগ্রহ এর চীনা মাটির প্রদীপ, রুই মাছ দেখে মনে পরে গেলো , বাংলায় একসময় চীনামাটির পুতুল  তৈরি হতো খুব। পুতুল আসলে কি পরিস্কার করে বলে নেওয়া উচিত।পুতুল কখনও মানুষের চেহারার কাছাকাছি আবার কখন কোনো পশুর চেহারার অনুকরণে হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে বৃহত্তর দৃষ্টিতে মাটি, কাঠ, মোম, প্লাস্টিকের বানানো পশুপাখি থেকে ফল, গাছ সব কিছুকেই পুতুলের শ্রেণিভুক্ত করা যায়।  এবার চীনা মাটির পুতুল এর কথা য় আসা যাক। চীনা মাটির নাম থেকে ই বোধহয় বুঝতে পরেন এটি বাংলার মাটি নয়। চীনামাটির সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয়।চীনারা সর্বপ্রথম মাটি দিয়ে পাত্র তৈরি করে।  এটি একটি সাদা মাটি  আর এ কারণেই এ মাটিকে চীনামাটি নামে নামকরণ করা হয়। তবে ক্যাওলিং টিলা থেকে সংগ্রহ করার জন্য কোথাও কোথাও এটি ক্যাওলিন বলা হয় । চীনামাটি হচ্ছে বিশেষ ধরনের মাটি, যা বিভিন্ন দ্রব্য তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়। এই মাটিতে আছে ৪৬ শতাংশ বালু, ৪০ শতাংশ অ্যালুমিনা ও ১৪ শতাংশ জল থেকে। উচ্চ তাপে আগুনে পোড়ালে চীনামাটি সাদা, মসৃণ ও চকচকে হয়। এ বৈশিষ্ট্যের জন্যই এ মাটি দিয়ে কাপ, প্লেট, বাটি ইত্যাদ...

মাটির বাঁশি পুতুল

Image
বিতর্ক উঠবে বলে পিছনে হটে যাবো এমনটি নয়। আমি বলবো, শ্রীকৃষ্ণ এর  যে মূর্তি আপনারা দেখতে পান, তা আসলে বাঙালীদের সৃষ্টি। কারণ যে ব্রজভুমিতে শ্রীকৃষ্ণ এর জন্ম সেখানকার ব্রজবাসীরা, শ্রীনাথ জি, দাউজি, গোবর্ধন পূজা করতে বেশি পছন্দ করেন এখনো। সে হিসেবে বাঁশি বাজিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাধাকৃষ্ণ এর মূর্তি বাঙালি দের রোমান্টিক মন, এবং যন্ত্রসঙ্গীত প্রেমের প্রমান। তাছাড়া একটু চিন্তা করে দেখুন । রাধা মাখন বেচতে মথুরা যেতেন। অর্থাৎ অর্থনৈতিক ভাবে স্বাধীন ছিলেন। আজো গো বলয়ের মেয়েরা অতোটা স্বাধীনতা পায় না। এবার আসি আসল কথায়। কৃষ্ণ হাতে র বাঁশি আজকের আলোচনা বিষয়। যদিও আমার মূল বিষয় হলো  মাটির বাঁশি পুতুল । শিল্প ও সংগীত বিষয়ক সংস্কৃত গ্রন্থ নাট্যশাস্ত্রে (~২০০ খ্রিঃপূঃ থেকে ২০০ খ্রিস্টাব্দ) উল্লিখিত হয়েছে, বাঁশি সে সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ বাদ্যযন্ত্র ছিল। অনেক হিন্দু গ্রন্থে বাঁশি বা বেণুকে সংগীতকলায় ব্যবহার করার জন্য মানুষের গলার স্বর ও বীণার পরিপূরক হিসেবে দেখানো হয়েছে (বাণী-বীণা-বেণু)। ঋগ্বেদের (১৫০০-১২০০ খ্রিঃপূঃ) মতো প্রাক্‌বৈদিক ও বৈদিক গ্রন্থে একে নাদী আ...

ফেনি

Image
গোয়া নামটি অস্তিত্বের মধ্যে এসেছিল তা স্পষ্ট নয়। এটি ইউরোপীয় বা পর্তুগিজ ভাষা থেকে উৎপন্ন হতে পারে। এটিও বিশ্বাস করা হয় যে, গোয়ার নামটি বৈদিক সংস্কৃত শব্দ 'go' থেকে উদ্ভূত হতে পারে যার অর্থ 'গরু'। এখানে প্রচুর পরিমাণে কাজুবাদাম পাওয়া যায়।১৭০০ সালে ভারতে প্রথম ভারতে কাজু বাদাম গাছ নিয়ে এসেছিলেন পর্তুগিজরা। ব্রাজিল থেকে তাঁরা কাজুবাদামের গাছ নিয় এসে গোয়ায় লাগিয়েছিলেন। গোয়ার পরিবেশের সঙ্গে খাপ খেয়ে গিয়েছিল কাজুবাদামের গাছ। এই কাজু বাদামের গাছ থেকেই ফেনির উৎপত্তি। কাঁচা কাজু পচিয়ে সেখান থেকে ফেনি তৈরি করা হয়। ফেনি তৈরির জন্য কাজু গাছ রীতিমত চাষ করে থাকে গোয়ার চাষীরা। গোয়ার অর্থকরী ফসল এই কাজু। পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় করে তুলতে মশালা ফেনিও তৈরি করা হয়। তাতে মেশান হয় এলাচ, গোলমরিচল, লবঙ্গ, দারচিনি। তারপরে সেটিকে পর্যটকদের দেওয়া হয়। গোয়ায় এই মশালা ফেনি বেশ জনপ্রিয় পর্যটকদের কাছে।

হিঙ্গুল পুতুল

Image
ছোট্ট আও আও নালিশের সুরে বলল" আমাকে একটা বার্বি ডল কিনে দিলে না তুমি।"মা জিজ্ঞেস করলো "সেটা আবার কি? "আমি বললাম "পুতুল। "মা ছোট বেলায় উনুনে পুড়িয়ে মাটির পুতুল বানিয়ে দিতো । সেই স্মৃতি টা উস্কে দিলো। আমি আমার অনেক কটি পোস্ট বলার চেষ্টা করছি বাংলার বিভিন্ন স্থানে যে পুতুল পাওয়া যায় , তা তৈরিতে আমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি অনেক অবদান আছে। অথচো আধুনিকতার  চাপে বাংলার ঘরে থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার পুতুল। অথচো পুতুল কেনা বন্ধ করে নি কিন্তু বাঙালী। বাঙালি র ঘরে আসছে,জাপানের তথা বৌদ্ধ ধর্মে দারুমা।দারুমা পুতুল ঐতিহ্যবাহী জাপানি খেলনা পুতুল। এটি ছোট, বৃত্তাকার/গোলাকার, দাড়িওয়ালা মানুষ চিত্রিত, ফাঁপা ও লাল রঙের হয়। তবে অঞ্চল ভেদে দারুমা পুতুলের নকশা, ডিজাইন ভিন্ন হয়।  এই পুতুল নাকি সৌভাগ্যে ফেরাবে বাঙালি র। যাইহোক সোস্যাল মিডিয়ায় বিশিষ্ট পরিচিত নাম সায়ন রায় । সৌভাগ্য ক্রমে আমার ফোন বুকে তাঁর নাম্বার টি সেভ করা। তাঁর status দেখতে পেলাম একটা হারিয়ে যাওয়া পুতুল এর ছবি। এটা বীরভূমের পুতুল, মনে পরে গেলো,সাঁওতালি ঘরনা চাদর বাঁধনী পুতুল,বাঘরাইপুতুল , কিংবা হিঙ্গুল...

হরিনাভি

Image
আদি গঙ্গা নিয়ে কথা বলতে গেলে  দেখবেন  ষোলো শতাব্দী পর্যন্ত এর গর্ব বজায় ছিলো ধরে নেওয়া যেতে পারে। কালিঘাট বোড়াল, রাজপুর, হরিণাভি, মাহীনগর, বারুইপুর, বাহারু, জয়নগর, মজিলপুর, ছত্রভোগ ইত্যাদি পাঁচ শত বছরের পুরনো জনপদ এদাবিও করতে পারি। বিপ্রদাস পিপিলাইএর মনসবিজয়, 1495 সালে রচিত, এই অঞ্চলে অনেক জায়গার উল্লেখ করেছে। “চাঁদ সদাগর, এর বণিক চরিত্র মনসবিজয়পুরাতন ভাগীরথী এই শাখা  হয়ে কালীঘাট থেকে বারুইপুর পৌঁছেছিল। সেখান থেকে তিনি ছত্রভোগের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তারপরে হাতিগড় পরগনা হয়ে খোলা সমুদ্রে পৌঁছে গেলেন। ” চৈতন্যদেব (1486-1534) এই পথ দিয়ে গেছে। নৌকায় ভ্রমণ পুরী তিনি বারুইপুরের নিকটবর্তী আতিসারা গ্রামে থামেন। "তার শেষ স্টপেজ 24 পরগনা ছত্রভোগে ছিল, এখন এই শহরটির অধীনে একটি গ্রাম মথুরাপুর থানা পুরানো ভাগীরথী নদীর তীরে ছত্রভোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ নদ-বন্দর ছিল বলে মনে হয়। "রমা চন্দ্র খান, দ্য জমিদার ছত্রভোগের চৈতন্যদেবকে তাঁর যাত্রা চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন। কলকাতার দক্ষিণে ২৪ পরগণার অন্তর্গত হরিনাভী গ্রামে অবস্থিত ঘোষেদের জমিদার বাড়ী। ষ হরিনাভী অঞ্চলটি সেইসময়ের "...

বাবু পুতুল

Image
রানি পুতুল থেকে সাহেব মেম পুতুল  এর কথা যখন বলেছি  তখন বাবু পুতুল এর কথা বাদ যায় কেন? তবে তার আগে বলে নিতে হবে একটি অন্য গল্প।  কলকাতা গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।  এদেশে তখন ইউরোপীয় ধারার চিত্রকলার সূচনা হয়েছে। দেখা গেল  যে কালীঘাট পটচিত্রের ধারা আদরনীয় হয়ে উঠেছে তখন। বাংলা শিল্পকলা ধারায় কালীঘাট পট চিত্ররীতি শুধু জনপ্রিয়ই নয়, তার রয়েছে এমন এক নিজস্ব শৈলীকলা। তীর্থযাত্রীরা কালীঘাটে এলে তীর্থের স্মারক হিসেবে এই পট কিনে নিয়ে যেতেন সে সব দিনে। সেই চাহিদা অনুসারে আঁকা হত  শিব, কালী, রাম-সীতা, ইত্যাদিই ছবি । বালির মিলে তৈরি চৌকো আকৃতির কাগজে  আঁকা হত এই পট। তাই এই পটকে বলা হত ‘চৌকশ’।  বাংলার জড়ানো পটের থেকে আলাদা হয়ে যায় এই পট। তীর্থযাত্রীদের জন্য তৈরি বলে গোড়ায় ছবির বিষয় দেবদেবী হলেও পরবর্তীকালে সমাজ সমালোচনায় মনোনিবেশ করেন শিল্পীরা। তাই  শিব, দুর্গা, কালী-র বিষয় থেকে বেড়িয়ে গিয়ে শিল্পীরা আঁকলেন ‘আলালের ঘরের দুলাল’, ‘বাবু ও বেশ্যা’, ‘ঘরে ছুঁচোর কেত্তন আর বছরে কেঁচোর পত্তন’ জাতীয় ছবিগুলি। পাশাপাশি দেখা গেল শুধু মাত্র আঙ্গিকে নয়, রূপ...

ছলনের পুতুল

Image
ছলনের পুতুল এর শৈল্পিক মূল্য নেই তেমন, দৃষ্টি নন্দন এর গুন নেই এর মধ্যে। আমার লেখা ছোট গল্প " ছলনের পুতুল" যাঁরা পড়েছেন। তার বোধহয় সেটা আগে ভাগেই বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু গল্পে মধ্যে সেই ভাবে এর গুরুত্ব এর পরিচয় ঘটানোর সুযোগ ছিলোনা, লেখক হিসেবে সে হিসেবে আমি ব্যার্থ।  যাইহোক দক্ষিণ ২৪ পরগনার নূরপুর ঘুরতে গিয়ে, দেওয়ানা তলার  এক মেলায় প্রথম ছলনের গুরুত্ব সম্পর্কে আমি পরিচিত হই। অথচ আমার বসত বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্ব টালিগঞ্জ অঞ্চল তথা দক্ষিণ কলিকাতার এক মাত্র বনবিবির মন্দির, সেখানে এই ছলনের পুতুল বা ঘোড়া গুলো বিক্রি হলেও এ প্রতি আমি কখনো আগ্রহ দেখায় নি। কিন্তু এর গুরুত্ব আছে আমাদের কাছে অনেক খানি। কারণ ধর্ম ঠাকুর এর কাছে মানত করা ঘোড়া গুলো ই আজ বিশ্ব দরবারে তাদের শৈল্পিক সুন্দর জন্য, একটা জায়গা করে নিয়েছে। তেমনি এই পুতুল গুলো একটু শৈল্পিক ভাবনা রাঙিয়ে উঠলে, এগুলো ও সংগ্রহ যোগ্য হতে পারে।  তবে এর ধর্মী গুরুত্ব কথাই আসি। ভারত উপমহাদেশে মিশ্র ধর্মীয় সংস্কৃতিতে, কখনো কখনো , মানুষ জন  হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের পুতুল এর পূজারী বলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। তাদের বলি,...

চদর বদর পুতুল

Image
একসময় বাংলার বিনোদন জগতের গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রিয় পুতুল নাচ ছিলো চদর বদর। পরাধীন ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রামের হাতিয়ার ছিলো এই নাচ।একসময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রচার করা হতো এই নাচ গুলো। অনেকের মতে চদরবদর হল পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পুতুল নাচ৷ কিন্তু এর ইতিকথা খুব একটা জানা যায় না৷ কবে ঠিক কোন জায়গায় কোন ভূখণ্ড জনপদে এর জন্ম তার ঠিক নেই, নেই কোনও লিখিত ইতিহাস৷ কেউ কেউ বলেন ‘চদর’ কথাটা এসেছে চাদর থেকে৷ চাদরের তলায় এই নাচ দেখানো হয় বলে নাম হয়েছে চদরবদর৷  গ্রাম বাংলার এই পুতুলনাচ আজ লুপ্তপ্রায়। পুতুলনাচের তেমনই এক ধারা অন্তত ৩০ বছর আগেও বীরভূম, বর্ধমান, বাঁকুড়া-সহ কিছু জেলায় ভাল ভাবেই টিকে ছিল।   এই পুতুলনাচের পোশাকি নাম ‘চাদর বাঁধনি’। গ্রাম্য ভাষায় এরই নাম ‘চদর বদর’। এটি সাঁওতালি শব্দ। ‘চদর বদর’ নাচানো সাঁওতালি সংস্কৃতির অন্যতম নিদর্শন। ‘চদর বদর’ আদিবাসী নিজস্ব ঘরানার পুতুলনাচ, যা কোনও পশ্চিমী দেশ থেকে নকল করা নয়। নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি ধরে রাখার প্রয়াস, আদিবাসীদের সারল্য, প্রযুক্তি এই পুতুলনাচের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। বাংলার মৃতপ্রায়, সুপ্রাচীন অথচ আলোচনা-গবেষণার আড়...

শিবের মুখোশ

Image
বাংলার হস্ত শিল্প নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আগেই দেখিয়ে ছিলাম, আসলে আমাদের হিন্দু ধর্ম বিভিন্ন সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তাগিদায় তৈরি , পুতুল মুর্তি, মুখোশ , পরে ঐতিহ্য বাহী শিল্প নির্দেশন হিসেবে পরিচিত হয়েছে। শিবের মুখোশ ক্ষেত্রে ও এরচেয়ে আলাদা কিছু ই নয়। শিবের মুখোশ নবদ্বীপের লৌকিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ।চৈত্র মাসে শিবপার্বতীর বিয়ের সময় এই মুখোস তৈরি করা হয়। লৌকিক শৈব সংস্কৃতির সাথে এই মুখোশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটিকে মুখোশ বলা হলেও আসলে এটি মাটি দিয়ে তৈরি মূর্তি। বহুবর্ণশোভিত এই মুখোসটি লৌকিক শিল্পের অন্যতম নিদর্শন। কাঁচা মাটি দিয়ে ছাঁচে ফেলে এটি তৈরি করা হয়। এরপর এটিকে রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। রোদে শুকিয়ে গেলে সাদা রং করা হয় এবং চোখ নাক কান আঁকা হয়। মাথায় সোনালী রঙের টোপর পরানো হয়। টোপর বা মুকুটের উপরে ফনাযুক্ত সাপ থাকে। চৈত্র মাসে শিবের বিয়ে উপলক্ষ্যে  এই মুখোশকে চতুর্দলায় সাজিয়ে নিয়ে বাড়ি বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়ি বাড়ি থেকে ভিক্ষা করে সেই টাকা দিয়ে শিবের বিয়ের আয়োজন করা হয়। মূলত ছোট ছোট ছেলেরা শিবের বিয়ের আয়োজন করে।  তবে নবদ্বীপ শহরের কথা আলাদা। শিবে...