Posts

Showing posts from June, 2023

পুরীর মহাপ্রসাদ

Image
পুরী জগন্নাথ মন্দিরে প্রসাদকে মহাপ্রসাদ বলা হয় কেন? বিভিন্ন পুরাণ যেমন পদ্মপুরাণ, স্কন্দ পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণে জগন্নাথের প্রসাদ বা জগন্নাথের ভোগ এর অপরিসীম মাহাত্ম্য কথা বলা হয়েছে। ভগবান জগন্নাথ, দাদা বলরাম ও দেবী সুভদ্রা এই তিন মূর্তি দর্শন করলে এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণ করলে আমাদের কলুষিত মন কলুষমুক্ত হয় আর আমাদের মনে ভক্তি ভাবের উদয় হয়। আর এই ভক্তি থেকেই আসে প্রকৃত জ্ঞান। প্রকৃত জ্ঞান থেকেই আসে মুক্তি। তাই মুক্তি পেতে অবশ্যই ভক্তিভরে গ্রহণ করুন পুরীর জগন্নাথের প্রসাদ। নিজের প্রসাদ সম্পর্কে প্রভু জগন্নাথ কি বলেছেন এমনকি জগন্নাথ নিজে বলছেন যদি আমার নিবেদিত অন্ন কুকুরের মুখ থেকে পড়ে যায় এবং সেই অন্ন যদি ব্রহ্মাদি দেবগণ সৌভাগ্যবশত লাভ করেন তাহলে তাঁরা সেই অন্ন অনায়াসে ভক্ষণ করতে পারেন। কারণ এর মহত্ত্ব কখনো নষ্ট হয়না। তাহলে কিএর মাহাত্ম্য কি কোনদিন বা কোনভাবে নষ্ট হয়? না হয় না। এই মহাপ্রসাদ শুকিয়ে যাক বা পর্য্যুষিত মানে বাসি হোক অথবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হোক বা অস্পৃশ্য জাতির স্পর্শ পেয়ে এই মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য নষ্ট হয় না। প্রচলিত এক গল্প অনুযায়ী,একবার এক শাস্ত্রজ্ঞ...

চৈতন্য মহাপ্রভু প্রভাবে বাংলার জগন্নাথ

Image
চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রভাবে বাংলার জগন্নাথ কি আলাদা হয়ে গেছেন পুরীর জগন্নাথদেবের থেকে?? বাংলার রথ উৎসব খুব খুব জনপ্রিয়।বাঙালির কাছে কেন এই ভুভারতে জগন্নাথ দেব এতো জনপ্রিয় হয়েছেন কারণ বোধহয় শ্রীচৈতন্যদেব।বাংলার জগন্নাথ সংস্কৃতির প্রাণ পুরুষ। যদিও চৈতন্যদেবের আগেই মাহেশে জগন্নাথ ছিলেন।কিন্তু বাঙালির নিজস্ব জগন্নাথ গড়ে উঠেছে শ্রীচৈতন্যদেবের প্রভাবে। তাঁর প্রভাবে লোকবিশ্বাস অনুসারে বীরভূম একচক্রে গ্রামে গড়ে উঠেছে পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দির ও। এছাড়া সারা বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জগন্নাথে মন্দির এবং রথ উৎসব। কিন্তু বাংলার জগন্নাথ রূপ কিছুটা পাল্টে গেছে , কোথায় কোথায় তাঁর আছে হাত সাথে আছে দিঘল চোখ।পূর্ব বর্ধমান জেলার আউরিয়া গ্ৰামের প্রতিষ্ঠিত হাত সহ আছে জগন্নাথ। বাংলার সংস্কৃতি বাংলার দারুবিগ্ৰহ আলোচনা করলে দেখা যাবে জগন্নাথ দেবের আর তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের।বাংলাতেও অনেক জায়গায় জগন্নাথ ও লক্ষ্মী দেবীকে নিয়ে রথযাত্রায় অনুষ্ঠান হয়। সুবর্ণ বণিক পরিবারে , বৌবাজার অঞ্চলে রথ যাত্রায় জগন্নাথ ও লক্ষ্মী একসাথে দেখা যায়। আবার রামকানাই অধিকারী পরিবারের জগন্নাথ দেবের প...

অম্ববাচী কি ? কামাখ্যার ইতিহাস

Image
মা কামাখ্যা দেবীর ইতিহাস কি....???? অম্ববাচী মেলা কেন পালন করা হয়.......???? যদি না জানেন তো জেনে নিন...পুরান মতে-স্বামীর অপমান সইতে না পেরে সতী দেহত্যাগ করলেন। প্রিয় স্ত্রীকে হারিয়ে, তাঁর দেহ নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য করলেন মহাদেব। চারিদিক তখন তোলপাড়। শিবের নৃত্যে সব ভেঙে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। এই জগতকে রক্ষা করতে দেবতাদের অনুরোধে ভগবান বিষ্ণু ভগবান শিবের ক্রোধ দমন করার পন্থা বেছে নেন। বিষ্ণুর চক্রে সতীর দেহ খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায়। ৫১টি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে শরীরের এক একটি অঙ্গ। যা আজ ৫১টি পীঠস্থান। কামাখ্যা মন্দির সেই ৫১টি পীঠস্থানের একটি। সেখানে নাকি ছিটকে পড়েছিল সতীর যৌনাঙ্গ। তাই সেখানে দেবীর মূর্তি পুজিত হয় না।অসমের কামাখ্যা মন্দির, ধার্মিক কারণে তো বটেই, সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণেও জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রত্যেক বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় করে এই মন্দিরে। বিশেষকরে অম্বুবাচী মেলার সময় ভিড় হয় চোখে পড়ার মতো। সেই সময় পুজিত ভূগর্ভস্থ এলাকা লাল হয়ে থাকে। মন্দিরের নালা দিয়ে বেয়ে যায় লাল জল। এই ঘটনাকে মায়ের ঋতুস্রাব বলে অনেকেই মনে করেন। এই সময় নাকি দেবী ঋতুমতী হন। তিনদিন ধরে এমনটা চলতে থাকে। মন্দ...

বিষ সংক্রান্তি

Image
বিষ সংক্রান্তি কি জানেন?? #বিষসংক্রান্তি জৈষ্ঠ মাসের শেষ দিন বিষ সংক্রান্তি নামে পরিচিত । বাংলা জৈষ্ঠ্য মাসের শেষ দিনটি হল জৈষ্ঠ্য সংক্রান্তি বা বিষ সংক্রান্তি বা এড়িবেড়ি ।এদিনে সর্পের দেবী মা মনসার পূজা উদ্দেশ্যে কিছু নিয়ম পালন করা হয়। নিরামিষ, তেতো ও কষা দ্রব্য খাওয়া হয়।সকালে ঘুম থেকে উঠেই , মুখ হাত পরিস্কার করে,দাঁত মেজে, একটি পাত্রে মুসুর ডাল, নিম পাতা, কেলে কাঁকড়া নামক ফল রাখা হয়। সকালে স্নানের পর সকলে ওগুলি সামান্য খেয়ে তারপর অন্য কিছু খেতে হয় ।দুপুরে ভাতের সাথে কেলে কাঁকড়ার ভাজা, করলা , নিম পাতার অথবা কোন তেঁতো সব্জির ভাজা, মুসুরের ডাল, মুসুরডালের বড়ার বিভিন্ন পদ, সজনে শাক ইত্যাদি পদ রান্না করতে হয় । এদিনে আমিষ দ্রব্য, পেঁয়াজ, রসুন, ঢ্যাঁড়স মতো সব্জি খাওয়া নিষিদ্ধ।এই নিয়ম পালনের পিছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তিও আছে। আষাঢ় মাস হতে শুরু হয় বর্ষাকাল। বর্ষায় বিভিন্ন চর্মরোগ হয়। আর এই চর্মরোগ হতে বাঁচতে তেঁতো ও কষা সব্জি খাবার নিয়ম আয়ুর্বেদে অনুযায়ী। তাছাড়াও নিম-কেলে কাঁকড়ার মতো গাছের থেকে বিষ প্রভাবও কাটে। 1885 সালের 13ই জুন ( ৩২শে জৈষ্ঠ্য, ১২৯২ ) অর্থাৎ এই বিষ সংক্রান...

গুড়শুটি মেলা

Image
গুড়শুটি মেলা কোথায় হয় জানেন??? মেদিনীপুর গুড়সুটি মেলার খুব বিখ্যাত তবে সময় মাত্র কয়েক ঘন্টা।গুড়সুটির পসরা সাজিয়ে একদল বিক্রেতা হাজির হন এই মেলায় ।আসলে মেলায় ঘুরতে আসা শয়ে শয়ে ক্রেতা গুড়সুটি কেনে। গুড় মাখানো কাঠিগজা - যাকে সবাই 'গুড়সুটি' বলে ডাকেন, তা এই মেলায় প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত গুড়সুটি কেনার জন্য লোকালয়ের মধ্যের এই ছোট্ট মেলায় ভীষণ ভিড় লেগে থাকে। এই জন্য সকলে এই মেলাকে 'গুড়সুটির মেলা' বলে চেনেন ও ডাকেন। দোলের দ্বিতীয় দিন শুধু মাত্র গুড়সুটির কারণে শহরের তো বটেই শহরের বাইরের দূর দূরান্ত থেকে লোকে এখানে হাজির হন সানন্দে। সবার হাতে ঝুলতে থাকে ব্যাগ। তাতে ভর্তি গুড়সুটি। এক একজন তো এক দেড় কেজিও কেনেন। মেদিনীপুর শহরের পাটনাবাজার এলাকার সাহেবপুকুর চকে ঠিক দোল পূর্ণিমার দ্বিতীয় দিন এই মেলা বসে। । মেদিনীপুরে আসলে দু'দিন দোল খেলা হয়। আর সেই দ্বিতীয় দোলের দিনে বিকেল হলেই এই মেলা বসে। এই মেলাটি শুরু করেছিলেন সাহেব পুকুর চক এলাকার তৎকালীন বাসিন্দা এক অতি বৃদ্ধা উজ্জ্বলা সাহু। তাঁর পায়ের সমস্যার জন্য লোকে তাঁকে 'নেং...