Posts

Showing posts from January, 2023

শিব লিঙ্গ কি??

Image
শালগ্রাম শিলাকে পুরুষাঙ্গের অনুষঙ্গ বলাটা এক কাল্পনিক আবিষ্কার মাত্র। শিবলিঙ্গর সঙ্গে পুরুষাঙ্গের যোগ বৌদ্ধধর্মের পতনের পর আগত ভারতের অন্ধকার যুগে কিছু অশাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তির মস্তিস্কপ্রসূত গল্প। স্বামী যৌনাঙ্গের প্রতীক বলে স্বীকার করি না ।হিন্দু কিংবা আদি ধর্ম গুলো দেবি দেবতাদের মূর্তি সাধারণত মানুষ বা পশুর মতো হতো কিন্তু শিব লিঙ্গ একটু আলাদা।সে হিসেবে আমাদের অনেকেই স্বামী বিবেকানন্দ মতকে সমর্থন করে বলি এটি শিবলিঙ্গ ধারণাটি এসেছে বৈদিক যূপস্তম্ভ বা স্কম্ভ ধারণা থেকে। যূপস্তম্ভ বা স্কম্ভ হল বলিদানের হাঁড়িকাঠ। এটিকে অনন্ত ব্রহ্মের একটি প্রতীক মনে করা হয়। কিন্তু এটি কি শেষ কথা? বাংলার প্রাচীন মন্দির স্হাপত্য দেখুন, মানে জটার দেউলের মতো দেউল গুলোকে দেখে মনে হতেই পারে সত্যিই তো শিব লিঙ্গ ও যৌনাঙ্গের পরিবর্তী রূপ।  প্রথমেই বলি শিব বৈদিক দেবতা নয়।শিব ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন দেবতা তাঁর আরাধনার হতো মহেঞ্জোদারোতেও।সিন্ধু সভ্যতা থেকে উদ্ধার করা একটি সিলমোহরের দেখা যায়, ত্রিমুখবিশিষ্ট, মাথায় পশুর শিং ধারণ করা,চারপাশে নানান পশু পরিবেষ্টিত, যোগমুদ্রায় উপবেশনকারী,...

ঘেটু পূজা

Image
ঘেঁটু পূজা কি? ভিটা কুমার বা ঘেঁটু ঠাকুর কে ? সাধারণ ভাবে আমাদের বাংলায় শীতকাল থেকে গরম কাল হবার সময় অর্থাৎ ঋতু পরিবর্তনের সময় চুলকানি ,খোস, ঘা-পাঁচড়া-র মতো রোগের মতো আরো আবির্ভাব ঘটে। এই রোগের হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্যই অনেক গুলি লৌকিক এবং পৌরাণিক ঘেটু, ভিটাকুমার থেকে শীতলতার মতো দেবী দেবতার পুজোর উদ্ভব বলে মনে করা হয়। প্রথমেই বলি ঘেটু আমরা বন জুঁই ফুল বলি। ঘেটু কে ভাঁট গাছ বলা হয়। এর ঔষধি গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। এর পাতার রস শিশুর জ্বর দূর করে। তবে সনাতন ধর্মালম্বীরা ভাঁট ফুল দিয়ে ভাঁটি পূজা করে। গ্রাম বাংলার কৃষিজীবী মানুষেরা বিভিন্ন এলাকায় ভাঁট ফুল দিয়ে ভাঁটি পূজার আয়োজন করে ফাল্গুনের শেষ দিনটিতে। তবে এ পূজা শুরু হয় মাসের প্রথম দিন থেকেই। বাংলাদেশের বৃহত্তর যশোর-খুলনা, বরিশাল-ফরিদপুর অঞ্চলের মানুষ ভাটি পুজো করে। মূলত ভাটি অঞ্চলের পুজো বলেই একে ভাটি পুজো বলা হয়। ভিটা তৈরি করা হয়,ঘরের কাছে, তার চারদিকে গাছের কাণ্ড দিয়ে বর্গাকার ঘর তৈরি করা হয় , এর পর প্রতিদিন সন্ধ্যায় পূজা দেওয়া হয় , ভাঁট ফুল সংগ্রহ করে এবং পূজা শেষ হয় ফাল্গুনের শেষ দিনে। সেদিন সকালে শিশুরা ভাঁট ফুল সংগ্রহ করে...

সরস্বতীর বাহন কি শুধু হাঁস?

Image
সরস্বতীর বাহন কি শুধু হাঁস? সরস্বতীর বাহন হিসেবে আমরা সাধারণ হাঁস দেখতে পাই। কিন্তু শাস্ত্র দিকে তাকলে জ্ঞানের গতিময়তার জন্য ঋক বেদে তাঁকে নদী হিসাবে দেখা নো হয়েছে। সরস্বতী নদীর কথা আমরাও জানি। দেবী সরস্বতীর বাহন সাধারণত হংস হলেও ময়ূর কে দেখা যায় কোথাও কোথাও। ব্রহ্মা হংস বাহন, দেবী সরস্বতী ও তাই।পুরা্ণ অনুযায়ী সরস্বতী মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছেন।মানস সরোবরে অসংখ্য হংস বাস করে , সেখান থেকেই সরস্বতী বাহন হাঁস,বা সরস্বতী নদী তীরেই বেদ রচিত। জলের সাথে সম্পর্কের কারণেই হংস তাঁর বাহন। সেই যুক্তিতে আবার সরস্বতী নদীর তীরে ময়ূর বসবাস হওয়ায় কোন কোন ক্ষেত্রে সরস্বতী ময়ুর বাহনা, বিশেষ করে রাজস্থানে। সিন্ধু সভ্যতার নৌবাহিনী দেবীর মূর্তি খুঁজে পাওয়া গেছে। বৈদিক যুগে থেকেই তিনি বাক,মন্ত্রস্বরূপা। পৌরাণিক দেবি আদিশক্তির অন্যতম রূপ । তবে সিংহ, ময়ূর, রাজহংস ও মেষবাহনা সরস্বতী মূর্তি পাওয়া গেছে বিভিন্ন স্থানে। বৌদ্ধ তন্ত্রে ও জৈন মতেও সরস্বতী সবিশেষ উপাসিতা বা আরাধ্যা। দশ মহাবিদ্যার অন্তর্গত আদি দেবি তিনি । বিভিন্ন জীবনকাহিনী মানে শংকরাচার্য,কালিদাস প্রমুখের সরস্বতীর কৃপা লাভের কথা উল্লেখ ...

গোটা সেদ্ধ কি বা শেতল ষষ্ঠী কি?

Image
গোটা সেদ্ধ কি বা শেতল ষষ্ঠী কি? শীতলা ষষ্ঠী কথাটা অপভ্রংশে শেতল ষষ্ঠী হয়েছে।তবে গোটা সেদ্ধ নামে এটি জনপ্রিয়। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের এও এক পার্বণ। মিশ্র সংস্কৃতির গ্রাসে বিলীন হয়ে যায় নি একান্ত আপনার কিছু সনাতনি প্রথা । জাতির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে তবে সেগুলো যে দিন হারিয়ে যাবে সেদিনই সেই জাতি তার নিজস্বতা হারাবে। ভজন রসিক বাঙালির শীতল ষষ্ঠীর আসলে অরন্ধন উৎসব। উপাদান গোট মুগ, , গোট মাখন সিম, গোটা বেগুনগোটা কড়াইশুঁটি, , টোপা কুল,শিস পালং, সজনে ফুল, ওলকপি, বাঁধাকপি। সরস্বতী পুজোর সন্ধ্যে নামলে উনুন বা গ্যাস ওভেন পরিস্কার করে, বিশাল হাঁড়িতে বসে গোটা সেদ্ধ শুরু হয় রান্না। গোটা সেদ্ধ, নামকরণ থেকে বুঝতে পারছেন‌গোটা কড়াইশুঁটি, গোটা বেগুন, গোটা সিম সব গোটা সেদ্ধ হলে হাঁড়ি করতে হয় । তারপর হয় ভাতে পরে একে একে আলু-সজনে ফুল ভাজা, টোপা কুলের চাটনি। সারারাত সেসব রান্না রাখা থাকে। সরস্বতী পুজোর পর দিন সকালে তিথিগতভাবে ষষ্ঠীপুজো। প্রথা অনুযায়ী বাড়ির শীল, নোড়ার পুজো হয় ফুল, প্রসাদ দিয়ে এই দিন । শীল-নোড়া দইয়ের ফোঁটা দেওয়া হয় শীল-নোড়ার গায়ে। পুজোর শেষে সেই দই রান্না করা খাবারে ...

জোড়া ইলিশের বিয়ে

Image
নদীমাতৃক বাংলার বহুমানুষ তাদের জীবন যাপন করতেন মৎস্যজীবী হিসেবে।  বাংলার মৎসজীবিরা    এই দিনে বিশেষ মঙ্গলাচরণের মধ্যে দিয়ে ইলিশ ধরার শুরু করতেন।  লোককথা অনুযায়ী মৎস্যজীবিরা, বিজয়া দশমীর পর আর ইলিশ মাছ ধরতেন না। বসন্ত পঞ্চমীর সময় থেকে আবার মাছ ধরতেন তারা। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারী প্রথম পর্যন্ত অপরিণত ইলিশ ধরা পড়ে। আসলে বংশ বিস্তার জন্য ইলিশ একসময় সমুদ্র থেকে নদী গুলো ঢুকতে শুরু করে এবং এই সময় শিশু ইলিশদের সমুদ্রে ফেরার সময়।  বাংলার মৎস্যজীবিরা এই সময়টা ইলিশ ধরা বন্ধ করে । পরে দেবি সরস্বতী পূজার সময় পূজা মৎস উৎসর্গ করে আবার মাছ ধরা শুরু করেন। ব্রাক্ষণরা আগে  নিরামিষাশী  মাছ খেতেন না।  ধীরে ধীরে প্রচলন হল শাস্ত্রে বলা হলো,  জল তরু  মাছকে শাক সব্জির মধ্যে ফেলা যায় কারণ সমুদ্রের ফল। সরস্বতী পুজোয় এই ইলিশ রান্নাও হয় বিশেষ নিয়ম মেনে। ওই দিন জোড়া ইলিশের বিয়েও দেন। এটি মূলত বাঙালিদের লোক সংস্কৃতি।  মূলত শ্রীপঞ্চমীর দিনে খাওয়ার রেওয়াজ তৈরি হয়েছে। এ দিন সকালে কাঁচা হলুদ মেখে স্নান করে বাড়ির  ইলিশ কিনতে যেতে হয়। মহ...