মহাষ্টমীতে মাগুর মাছের ভোগ, বিসর্জন হয় না দেবীর! বৈকুণ্ঠপুরের জয়দুর্গা পুজোর পাঁচ শতকের ঐতিহ্য
পূর্ব বর্ধমান: মহাষ্টমীতে দেবীর ভোগের জন্য মাগুর মাছের ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না। সেই সময় এক বৃদ্ধার মাধ্যমে মাছ পৌঁছে যাওয়ার কাহিনি আজও লোকমুখে প্রচলিত। পরিবারের বিশ্বাস, বৃদ্ধার রূপ ধরে স্বয়ং দেবী জয়দুর্গাই ভোগের ব্যবস্থা করেছিলেন। পূর্ব বর্ধমানের বৈকুণ্ঠপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির প্রায় পাঁচ শতকের পুরোনো জয়দুর্গা পুজোকে ঘিরে রয়েছে এমনই নানা জনশ্রুতি ও স্বতন্ত্র আচার।
পঞ্চমুণ্ডির আসনে দেবী আরাধনা
পারিবারিক ঐতিহ্য ও প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, পরিবারের এক তান্ত্রিক পূর্বপুরুষ পঞ্চমুণ্ডির আসনে দেবীর আরাধনা শুরু করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বর্ধমানের মহারাজ কীর্তিচাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় পুজোর পরিসর বিস্তৃত হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সন্ধিপুজোর সময় মহারাজের নামে সংকল্প করার রীতিও এই পুজোর ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত।
দশমীতেও হয় না বিসর্জন
বৈকুণ্ঠপুরের এই জয়দুর্গা পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য, দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না। মন্দিরে দেবীর নিত্যপুজো চলে সারা বছর। দেবীর প্রতিমাও প্রচলিত দুর্গামূর্তির তুলনায় আলাদা। এখানে দেবী চতুর্ভুজা; তাঁর সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক বা গণেশের প্রচলিত পারিবারিক মূর্তিগুলি থাকে না।
মহাষ্টমীতে মাগুর মাছের ভোগ
এই পুজোয় আমিষ ভোগের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মহাষ্টমীতে মাগুর মাছ নিবেদনের রীতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই ভোগকে ঘিরে বৃদ্ধার বেশে দেবীর মাছ পাঠানোর কাহিনি পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকপরম্পরার অংশ। কাহিনিটির ঐতিহাসিক সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়; তবে পুজোর ঐতিহ্য ও ভক্তদের বিশ্বাসে এর বিশেষ স্থান রয়েছে।
বিসর্জনহীন দেবী, পঞ্চমুণ্ডির আসন এবং মহাষ্টমীর মাগুর মাছের ভোগ—এই তিন বৈশিষ্ট্যে বৈকুণ্ঠপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির জয়দুর্গা পুজো বাংলার বনেদি বাড়ির দুর্গোৎসবের মধ্যে স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই পুজো আজও ঐতিহ্য, আচার ও লোকবিশ্বাসের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র।
Comments
Post a Comment