Posts

কালিঘাট

Image
কলকাতা নামকরনের ইতিহাসের সাথে  মা কালীর নামের যোগ আছে।  মুম্বাই এর নামকরন যেমন মুম্বাদেবী থেকে হয়েছে, মনে করা হয় কালীক্ষেত্র কালিঘাট  থেকেই  এসেছে কলিকাতা নামটি।কলকাতা নগর তৈরি অনেক আগে থেকেই এই স্থানের অস্তিত্ব ছিলো বিভিন্ন বিদেশী পর্যটক বিবরণ এবং মঙ্গলকাব্য এর উল্লেখ পাই  এই কালিঘাটে তাতে কমপক্ষে ২০০০ বছরের পুরনো এই তীর্থস্থান। কারণ গ্রীক দার্শনিক টলেমির নিজের ভারতের বর্ণনায় যে কালীগ্রামের উল্লেখ করেছেন ২০০০ বছর আগের  তা  আজকের কালীঘাট। ১১০০ খ্রীষ্টাব্দে মুকুন্দরাম চক্রবর্তী তার চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে লিখেছেন সপ্ত ডীঙায় চরে ধনপতি সওদাগর তার পুত্র শ্রীমন্তকে নিয়ে আদিগঙ্গা মানে আজকের টালির নালা দিয়ে যাবার সময় এই কালীমন্দিরে পূজা দিয়েছিলেন। আবার দেখা যায় ১১৫৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১১৭৯ খ্রিষ্টাব্দ অবধি বল্লাল সেনের রাজত্বকালে এই জায়গাটি  প্রসিদ্ধি লাভ করে কালীক্ষেত্র নামে। সেই সময়ে বহু তীর্থযাত্রী গঙ্গাতীরে অবস্থিত কালীক্ষেত্রে স্নান করতে আসতেন এমন বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে আজ  কালীঘাটের যে কালীমন্দিরটি আমরা দর্শন করি সেটি ১৮০৯ সালে ...

গারসি’ বা ‘গাস্বী ব্রত’ বা ‘গারুসংক্রান্তির ব্রত’

Image
গারসি’ বা ‘গাস্বী ব্রত’ বা ‘গারুসংক্রান্তির ব্রত’ পুজো আশ্বিন সংক্রান্তিতে পালন করা হয়। গ্রাম বাংলার মেয়ে-বউরা কৃষিকাজ ও আরোগ্য লাভ ও সুস্থতার কামনায় এই ব্রত পালন করে। ব্রতের উদ্দেশ্য হেমন্তের অফলা রুক্ষ্মতাকে দূরে সরিয়ে লক্ষ্মীর আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গে মশা-মাছি, কীটপতঙ্গের হাত থেকে পরিবারকে রক্ষা। তবে একসময় বাংলায় এই দিন রাতে কিশোর যুবকেরা ভূত-প্রেত তাড়াতে মধ্য রাতে টায়ার আর মশাল জ্বালিয়ে পাড়াময় ঘুরে বেড়াত। শহর এবং গ্রাম সবজায়গায় এই উৎসব পালিত হতো মহা আনন্দে। গারসী সংক্রান্তি’ দিন থেকে কার্তিক পূজার দিন থেকে পর্যন্ত একমাস আগে গ্রাম বাংলায় প্রতি বাড়িতে ‘আকাশ প্রদীপ’দেওয়া হতো। সাধারণত উঠানের কোণে উঁচু বাঁশ পোঁতা হতো। তাতে কপিকল দিয়ে এই বাঁশের মাথায় তুলে দেওয়া হতো ‘আকাশবাতি’ পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্য। তবে এই ব্রত কে অরন্ধন উৎসব বলা যেতে পারে। আশ্বিন মাসের শেষ দিনের সকাল বাড়ির উঠোনের তুলসীতলা নিকোন করা মধ্যে দিয়ে শুরু হয় এই ব্রত। তুলসী হল এই ব্রতের আচার মূল জায়গা। কাকভোরে 'গারুর' বা 'গারসি'-র ডাল রান্না করা মধ্য দিয়েই এই ব্রতের মূল কাজ। ব্রতের শেষে...

লক্ষ্মী কতখানি পৌরাণিক দেবী??

Image
লক্ষ্মী কি লৌকিক দেবী ?  এই প্রশ্নের উত্তর আপনি প্রথমেই বলবেন না, কারণ পুরানে এর উল্লেখ আছে কিন্তু আপনি আমার আগের লেখাতেই দেখেছেন প্যেঁচা এর বাহন । কিন্তু এর বাহন কিন্তু আগে প্যেঁচা ছিলো না। কখনো ময়ুর কখনো কচ্ছপ কখনো হরিনকে এর বাহন হিসেবে পেয়েছি। সুতরাং লোক বিশ্বাস জন্য এই দেবীর রূপ পরিবর্তন হয়েছে আমরা খুব সহজেই দেখতে পাই। ইতিহাসের পাতায় গেলে দেখতে পাবেন কুনিন্দরাজ অমোঘভূতির মুদ্রায় লক্ষ্মীর সামনে হরিণ আছে । কুমারগুপ্তের মুদ্রায় আবার লক্ষ্মীদেবী একটি ময়ূরকে খাদ‍্য দিচ্ছেন আবার অন‍্য একটি মুদ্রায় দেবী পদ্মহাতে,  ময়ূরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত ও কুমারগুপ্তের স্বর্ণমুদ্রায় দেবীর বাহন সিংহ। বৃহৎ স্তোত্ররত্নাকরে মাধব ব‍্যাস আথর্বণ রহস‍্য থেকে যে লক্ষ্মীমন্ত্র উদ্ধার করেছেন তাতে লক্ষ্মীকে সিংহবাহিনীরূপে দেখাযায়। নেপালে প্রাপ্ত পটে অংকিত অর্ধ-লক্ষ্মী নারায়ণ মূর্তীতে বিষ্ণুর অর্ধদেহের পদতলে গরুড় ও লক্ষ্মীর অর্ধদেহের পদতলে কচ্ছপ।গুপ্তোত্তর যুগে শশাঙ্কের স্বর্ণমুদ্রায় দণ্ডায়মানা লক্ষ্মীদেবীর প্রসারিত দক্ষিণহস্তে পদ্ম, পিছনে পদ্মলতা ও পায়...

পেঁচা কেন দেবী লক্ষীর বাহন?

Image
উত্তর ভারতের বলা হয় । সব দেবদেবী   মতো বাহন পচ্ছন্দ করা সময় লক্ষী ঠাকুর বিপদে পড়েন কারণ তিনি খাদ্য এবং সমৃদ্ধির দেবী হওয়ায় , সবাই লক্ষীঠাকুরে বাহন হতে চায় । কিন্তু সেটাতো সম্ভব নয়। তাই তিনি শর্ত রাখলেন, কার্তিক মাসের আমবস্যায় তিনি যখন পৃথিবীতে আসবেন তখন তার কাছে যে প্রথম আসবে তাকে তিনি প্রথম বাহন করবেন। রাতের বেলায় অপেক্ষা করতে করতে বেশিরভাগ পুশুপাখিরা ঘুমিয়ে পরে।  পেঁচা শুধু নীলাচল নয়। সে রাতে দূরের জিনিসও ভালো দেখে। ফলে সে দেবীকে দূর থেকে দেখে প্রথম তার কাছে পৌঁছে যায়। হিন্দি ভাষায় পেঁচাকে উল্লু বলে। যার অর্থ বোকা। কিন্তু হিন্দু শাস্ত্র সে কথা বলা হয়না। পেঁচা আধ্যাতিক জ্ঞানের প্রতিক। সে দিব্য চোখের অধিকারি বলেই অন্ধকারে দেখতে পায়।  অজ্ঞানতার অন্ধকারে ও সে জ্ঞানে আলো খুঁজে নেয়।রাতে প্যেঁচা ডাক আসলে জ্ঞান আহরণের আহ্বান। অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে আধ্যাতিক জ্ঞান জাগরনের আর্দশ সময় হলো রাত্রির। কারণ অন্ধকার এখানে গোপন করে আপনার সাধনাকে । তবে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের। লক্ষ্মী  ফসল বা খাদ্য শস্যের  দেবী । এই খাদ্য শস্...

ব্যঙের বিয়ে

Image
কুচবিহার বা উত্তরের তরাই ডুয়ার্স এ স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিবছর অতি বৃষ্টি হতো l সবসময়  বন্যা না হলেও এতে বাড়ির মায়েরা বড় বিপদে পড়তেন, জামা কাপড় শুকনো র সমস্যা, ভেজা জ্বালানি র সমস্যা ইত্যাদি তে জেরবার হয়ে তাঁরা বৃষ্টি বন্ধ এর কামনা করতেন l আর তার জন্য  বেশ কিছু"  তুকতাক" তাঁরা পালন করতেন, যার মধ্যে কাঁচা লঙ্কা ঝাঁটার কাঠিতে গুঁজে উঠোনে রেখে আসা ছিল অন্যতম l আবার বৃষ্টি কামনায় ব্যাঙের বিয়ে দেওয়া হয় ভারত-বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেক দেশে । তবে খরা বা অনাবৃষ্টি থেকে রেহায় পেতে এই আয়োজন  সাধারণত আদিবাসীরাই সাধারণত এই বিয়ের। এরা রীতিমতো পুরুত ডেকে সাজসজ্জা পরিয়ে  বিয়ে দেয় ব্যাঙেদের ।উলুধ্বনি দিলেন মহিলারা। মন্ত্রোচ্চারণ করলেন পুরোহিত। মহা ধুমধামের সঙ্গে অনুষ্ঠিত করা হয় ব্যাঙের বিয়ে। তবে  বিয়েতে  খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাও থাকে বরপক্ষ ও কন্যাপক্ষের লোকজনের। বিশ্বাস হচ্ছে না Google জিজ্ঞেস করুন। নাম করা সংবাদ পত্রে পেয়ে যাবেন ব্যাঙের বিয়ের খবর ‌। আসলে ব্যাঙের সঙ্গে বৃষ্টির সম্বন্ধ বোধ হয় মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে  বহু দিন ধরে। প্রায় প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ-...

বাংলার মিষ্টি সবার সেরা কেন??

Image
মতিচূরের লাড্ডু‌ভারতবর্ষের সবচেয়ে প্রাচীন মিষ্টি যার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি।সন্দেশ-রসগোল্লার বয়স মাত্র দুই-আড়াই'শ বছরের মতো হবে। তবে মজার বিষয় বাঙালিরা ছানা তৈরি করতে শুরু করে প্রথম ভারতে। বাংলার পর্তুগিজদের কাছ থেকে বাঙালি ময়রারা ছানা ও পনির তৈরির কৌশল শেখে। ভাস্কো দা গামা কালিকট বন্দরে এসেছিলেন ১৪৯৮ সালে।এর কিছু দিন পর তার বাংলায় এসে উপনিবেশ স্থাপন করে। প্রথম দিকে ছানা ও ছানার মিষ্টির তৈরি চলছিলো না   ধর্মীয় কারনে । বৈদিক যুগে দুধ ও দুধ থেকে তৈরি ঘি, দধি, মাখন ইত্যাদি ছিল দেবতাদের খাদ্য। বিশেষ করে ননি ও মাখন অত্যন্ত প্রিয় ছিল শ্রীকৃষ্ণের। এ জন্য দুধ থেকে রূপান্তরিত ওই সব খাদ্য শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হলেও ছানা তৈরি হয় দুধ বিকৃত করে, এ জন্য মনুর বিধানমতে, ছানা ছিল অখাদ্য। তাই ছানা  মিষ্টির তৈরির কৌশল ভারতীয়রা শেখে  অনেক পরে। সুকুমার সেনের কলিকাতার কাহিনী বইয়ে লিখেছেন, "ক্ষীর-মাখন-ঘি-দই—এগুলো কাচা দুধের স্বাভাবিক পরিণাম, কৃত্রিম অথবা স্বাভাবিক। কিন্তু কোনোটিই দুধের বিকৃতি নয়। ‘ছানা’ কিন্তু ফোটানো দুধের কৃত্রিম বিকৃতি। বাঙালি অন্য দ্রব্য সংযোগ করে...

মহালয়া কে কেন "শুভমহালয়া " বলা হয় না ???

Image
প্র: *মহালয়া কে কেন "শুভ* মহালয়া " *বলা হয় না* ??? *মহিষাসুর মর্দিনী* *আর মহালয়া----- কি এক* *???** এর জন্য আমাদের মহাভারতের পাতা উল্টাতে হবে।মৃত্যুর পর কর্ণের আত্মা পরলোকে গমন করলেন । তখন সেখানে তাঁকে খাদ্য হিসেবে সোনা ও রত্ন দেওয়া হয়েছিলো। কর্ণ এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তাঁকে বলা হয়, তিনি সারা জীবন স্বর্ণ ও রত্ন দান করেছেন অনেক, কিন্তু প্রয়াত পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কখনও খাদ্য বা পানীয় দান করেননি। তাই স্বর্গে খাদ্য হিসেবে তাঁকে সোনাই দেওয়া হয়েছে। তবে একথা শুনে বিমর্ষ কর্ণ বলেন, তাঁর পিতৃপুরুষ কারা সেটা তো তিনি মৃত্যুর মাত্র একদিন আগেই জানতে পেরেছেন। তার দোষ কোথায়! যমরাজ তখন বোঝেন, সত্যিই তো, এতে কর্ণের কোনো দোষ নেই। এই কারণে কর্ণকে পক্ষকালের জন্য ফের মর্ত্যে ফিরে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়! এই পক্ষই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়। আর সেই থেকেই হিন্দুদের মধ্যে তর্পণের প্রথা চালু হয়। যেহেতু পিতৃপক্ষে প্রেতকর্ম (শ্রাদ্ধ), তর্পণ ইত্যাদি মৃত্যু-সংক্রান্ত আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়, সেই হেতু এই পক্ষ শুভকার্য করা হয় না। দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে গণেশ উৎসবের...