Posts

রাঙা মাটির কোলে মানভূমের গৌরব: পুরুলিয়ার ইতিহাস, ভাষা সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য​বিশেষ প্রতিবেদন

Image
​লাল মাটির পথ, শাল-পিয়ালের বন, অযোধ্যা পাহাড়ের গম্ভীর নীরবতা আর মাদলের গম্ভীর ধ্বনি— এই নিয়েই আমাদের পুরুলিয়া। কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের এক এমন জেলা যার সৃষ্টি ও আত্মপ্রকাশের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব সংগ্রামের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস। ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর বিহারের তৎকালীন মানভূম জেলা ভেঙে আনুষ্ঠানিকভাবে জন্ম হয়েছিল পুরুলিয়া জেলার। ​১. ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপট ও প্রাচীন ইতিহাস ​পুরুলিয়ার ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময়। প্রাচীনকালে এই অঞ্চল ‘বজ্রভূমি’ বা ‘ঝাড়খণ্ড’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ​জৈন ও বৌদ্ধ প্রভাব: খ্রিস্টীয় ৮ম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে এখানে জৈন ধর্মের ব্যাপক প্রভাব ছিল। চেঁয়াড়া, দেউলঘাটা, পাকবিড়রা ও বান্দোয়ানের পাথরের মন্দির এবং জৈন তীর্থঙ্করদের ভাস্কর্য আজও তার নীরব সাক্ষী। ​বিদ্রোহের রাজভূমি (জঙ্গলমহল): ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এই লাল মাটির অঞ্চলের মানুষ। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে সংঘটিত ‘চুয়াড় বিদ্রোহ’ (১৭৬৬-১৮০৯) এবং গঙ্গানারায়ণ সিংহের নেতৃত্বে ‘ভূমিজ বিদ্রোহ’ (১৮৩২-৩...

রক্তবর্ণা মা বড়দেবী: কোচবিহারের পাঁচশো বছরের রাজঐতিহ্য আজও অমলিন

Image
রাজতন্ত্র নেই, নেই রাজদরবারের সেই জৌলুস। তবু কোচবিহারের দেবীবাড়িতে আজও অটুট মা বড়দেবীর আরাধনার প্রাচীন ঐতিহ্য। রক্তবর্ণ দেবীমূর্তি, দুই পাশে জয়া ও বিজয়া এবং সিংহের পাশাপাশি বাঘের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এই দুর্গাপুজো বাংলার শারদোৎসবে এক স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। প্রায় পাঁচশো বছরেরও বেশি প্রাচীন বলে পরিচিত এই পুজো কোচ রাজবংশের ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ইতিহাসের পাতায় বড়দেবী কোচবিহার জেলা প্রশাসনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জৈনাথ মুন্সির রাজোপাখ্যান গ্রন্থের বিবরণ অনুসারে বড়দেবীর মন্দির ষোড়শ শতকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। তবে পুজোর সূচনা ঠিক কোন বছরে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কোচ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজা বিশ্বসিংহের সময় থেকেই এই আরাধনার প্রচলন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। অন্য একটি প্রচলিত কাহিনিতে মহারাজা নরনারায়ণের স্বপ্নাদেশের প্রসঙ্গও উঠে আসে।  লোককথা অনুসারে, বালক বিশ্বসিংহ খেলার ছলে ময়না গাছের ডাল ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে দেবীর রূপ কল্পনা করে পুজো করেছিলেন। সেই কাহিনির স্মৃতির সঙ্গে ময়না কাঠ ব্যবহারের ঐতিহ্যকে যুক্ত করা হ...

শরৎকালের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার, ১৬১০ থেকে আজও বহমান ঐতিহ্য

Image
কলকাতার সময় | ইতিহাস ও ঐতিহ্য বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের নাম বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। প্রচলিত ঐতিহাসিক তথ্য ও পরিবারের বিবরণ অনুযায়ী, ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার রায়চৌধুরীর উদ্যোগে এই পরিবারের দুর্গাপুজো শুরু হয়। কলকাতা অঞ্চলের প্রাচীনতম দুর্গাপুজোগুলির অন্যতম এই পুজো চার শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। ১৬১০ সালে পুজোর সূচনা কলকাতার ইতিহাসের সঙ্গে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। পরিবারের পূর্বপুরুষ লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার রায়চৌধুরী বড়িশায় দুর্গাপুজোর সূচনা করেন বলে একাধিক প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। ২০২২ সালে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া-র একটি প্রতিবেদনেও পরিবারের সদস্য তন্ময় রায়চৌধুরীর বক্তব্যের ভিত্তিতে ১৬১০ সালকে পুজোর সূচনাবর্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরিবারের পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য আটচালা মণ্ডপ এবং দেবী দুর্গার সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের আরাধনা। প্রাচীন আচার ও পারিবারিক রীতিনীতি অনুসরণ করে এই পুজো আজও অনুষ্ঠিত হয়। বাংলার প্রথম শরৎকালীন দুর্গাপুজো কি এখানেই? এই প্রশ্নে...

পাঁচ পায়রার আগমন ঘিরে রহস্যময় লোকবিশ্বাস, মুর্শিদাবাদের পেটকাটি দুর্গাপুজো

Image
পাঁচ পায়রার আগমন ঘিরে রহস্যময় লোকবিশ্বাস, মুর্শিদাবাদের পেটকাটি দুর্গাপুজো কলকাতার সময় | মুর্শিদাবাদ মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের গদাইপুর গ্রামের ব্যানার্জি পরিবারের পেটকাটি দুর্গাপুজো বাংলার প্রাচীন লোকঐতিহ্যের এক উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। শতাব্দীপ্রাচীন এই পুজোকে ঘিরে রয়েছে নানা জনশ্রুতি ও ব্যতিক্রমী আচার। তার মধ্যে অন্যতম হল পুজোর সময় পাঁচটি বুনো পায়রার আগমন, যা স্থানীয় মানুষের কাছে এক রহস্যময় ও অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত। প্রচলিত লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, পুজোর নির্দিষ্ট সময়ে পাঁচটি পায়রা এসে হাজির হয়। তাদের আগমনকে অনেকে দেবীর সঙ্গে সম্পর্কিত এক বিশেষ ঘটনা বলে মনে করেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই বিশ্বাস স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রচলিত। তবে পায়রাগুলির আগমনের সঙ্গে অলৌকিক কোনও ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তার কোনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ নেই। এই পুজোর প্রধান আকর্ষণ দেবীপ্রতিমার স্বতন্ত্র রূপ। প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, এক পুরোহিতের কন্যাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার স্মৃতি থেকেই দেবীর নাম হয় ‘পেটকাটি দুর্গা’। প্রতিমার বিশেষ গঠন ও রীতিনীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সেই লোককথা। ...

দশভুজা নন, দেবীর শুধু মুখাবয়বের পুজো! কেতুগ্রামের রায়বাড়িতে সাড়ে চারশো বছরের ঐতিহ্য

Image
কেতুগ্রাম: দেবীর নেই হাত-পা, নেই অসুরদলনরত দশভুজা রূপ। পূজিত হন শুধু দেবী দুর্গার মুখাবয়ব। পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের গোমাই গ্রামের রায়বাড়িতে দুর্গাপুজোর এই ব্যতিক্রমী রীতি আজও বহন করে চলেছে বাংলার প্রাচীন পারিবারিক পুজোর ঐতিহ্য। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, রায়বাড়ির এই পুজোর সূচনা করেছিলেন পরিবারের পূর্বপুরুষ গোবিন্দ রায়। প্রায় সাড়ে চারশো বছর ধরে চলে আসা এই পুজোকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথা। জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রথমবার দুর্গাপুজোর আয়োজনের সময় দশভুজা প্রতিমা ভেঙে গিয়েছিল। এরপর স্বপ্নাদেশে দেবীর মুখাবয়বকেই পুজো করার নির্দেশ পান গোবিন্দ রায়। আরেকটি প্রচলিত কাহিনিতে রয়েছে, গ্রামের ঠাকরুন পুকুরে স্নান করতে গিয়ে তিনি এক রহস্যময়ী নারীর মাথা ও গলা জলের উপরে দেখতে পান। পরে স্বপ্নাদেশের মাধ্যমে সেই রূপেই দেবীর আরাধনা শুরু হয় বলে কথিত রয়েছে। রায়বাড়ির পুজোর আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ বিসর্জনের রীতি। দেবীর মুখাবয়ব দোলায় চাপিয়ে গ্রাম পরিক্রমা করানোর পর ঠাকরুন পুকুরে নিরঞ্জন করা হয়। প্রচলিত প্রথায় চণ্ডীপাঠও হয় না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই পুজো শুধু একটি পরিব...

বাংলার দুর্গাদালান ও চণ্ডীমণ্ডপ: ঐতিহ্য, স্থাপত্য ও সমাজজীবনের দুই অধ্যায়

Image
 বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে দুর্গাদালান ও চণ্ডীমণ্ডপ। ইট-পাথরের এই প্রাচীন স্থাপনাগুলি শুধু ধর্মীয় উপাসনার ক্ষেত্র নয়, বাংলার সামাজিক জীবন, লোকাচার ও স্থাপত্য-ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য। তবে নাম ও ব্যবহারে কাছাকাছি মনে হলেও দুর্গাদালান ও চণ্ডীমণ্ডপের মধ্যে রয়েছে কিছু মৌলিক পার্থক্য। দুর্গাদালান: বনেদি বাংলার দুর্গোৎসবের কেন্দ্র দুর্গাদালান মূলত বনেদি বাড়ি ও জমিদারবাড়ির দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশেষ স্থাপত্য-প্রাঙ্গণ। খিলানযুক্ত স্তম্ভ, প্রশস্ত উঠোন, অলংকৃত দেওয়াল এবং প্রতিমা স্থাপনের উপযোগী বেদি এর পরিচিত বৈশিষ্ট্য। পুজোর সময় এই প্রাঙ্গণ পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় মানুষের মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠত। দুর্গাপুজোর আচার-অনুষ্ঠান, ভোগ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক পরিসরের মধ্য দিয়ে দুর্গাদালান পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক হয়ে উঠেছে। চণ্ডীমণ্ডপ: ধর্মীয় আরাধনা থেকে গ্রামীণ সমাবেশ চণ্ডীমণ্ডপের পরিচয় মূলত চণ্ডী বা দেবীর আরাধনার সঙ্গে যুক্ত। বাংলার বহু গ্রামে এই ধরনের মণ্ডপ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সমাবেশের ক্ষেত...

বিলুপ্তির পথে দুই বাংলার সুপ্রাচীন ঐতিহ্য ‘আলপনা’ শিল্প

Image

বীরভূমের ঘোষগ্রামে সুপ্রাচীন দারুবিগ্রহে পূজিতা মা লক্ষ্মী, শস্যসমৃদ্ধির কামনায় বিশেষ আরাধনা

Image
বীরভূম: বাংলার গ্রামীণ লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক উল্লেখযোগ্য নিদর্শন বীরভূমের ময়ূরেশ্বরের ঘোষগ্রামের মা লক্ষ্মীর মন্দির। এখানকার আরাধ্যা দেবী সুপ্রাচীন দারুবিগ্রহে পূজিতা। ধনসম্পদের দেবী হিসেবে নয়, শস্যদায়িনী মাতৃকা হিসেবেও দেবীর আরাধনা এই মন্দিরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। স্থানীয় জনশ্রুতি ও প্রচলিত কাহিনিতে জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। কথিত আছে, কৃষক দয়াল ঘোষের জমিতে চাষ করার সময় একটি পদ্মফুলকে কেন্দ্র করে দেবীর আরাধনার সূত্রপাত হয়। সাধক কামদেব ব্রহ্মচারীর সাধনা এবং দেবীর স্বপ্নাদেশের কাহিনিও এই মন্দিরের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। নিমকাঠের দারুবিগ্রহে দেবীর পুজোকে ঘিরে আজও ভক্তদের মধ্যে রয়েছে গভীর শ্রদ্ধা। ঘোষগ্রামের লক্ষ্মী আরাধনায় কৃষিজীবনের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বাংলার গ্রামীণ সমাজে লক্ষ্মী কেবল ধনসম্পদের প্রতীক নন, তিনি শস্য, উর্বরতা ও গৃহস্থের মঙ্গলকামনারও প্রতীক। সেই বিশ্বাস থেকেই ভক্তেরা দেবীর কাছে ফসলের প্রাচুর্য, সংসারের সমৃদ্ধি ও পরিবারের কল্যাণ প্রার্থনা করেন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ডাক সংক্রান্তির দিন এখানে শস্যদায়িনী মাতৃকা হিসেবে মা লক্ষ্ম...

মহাষ্টমীতে মাগুর মাছের ভোগ, বিসর্জন হয় না দেবীর! বৈকুণ্ঠপুরের জয়দুর্গা পুজোর পাঁচ শতকের ঐতিহ্য

Image
পূর্ব বর্ধমান: মহাষ্টমীতে দেবীর ভোগের জন্য মাগুর মাছের ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না। সেই সময় এক বৃদ্ধার মাধ্যমে মাছ পৌঁছে যাওয়ার কাহিনি আজও লোকমুখে প্রচলিত। পরিবারের বিশ্বাস, বৃদ্ধার রূপ ধরে স্বয়ং দেবী জয়দুর্গাই ভোগের ব্যবস্থা করেছিলেন। পূর্ব বর্ধমানের বৈকুণ্ঠপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির প্রায় পাঁচ শতকের পুরোনো জয়দুর্গা পুজোকে ঘিরে রয়েছে এমনই নানা জনশ্রুতি ও স্বতন্ত্র আচার। পঞ্চমুণ্ডির আসনে দেবী আরাধনা পারিবারিক ঐতিহ্য ও প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, পরিবারের এক তান্ত্রিক পূর্বপুরুষ পঞ্চমুণ্ডির আসনে দেবীর আরাধনা শুরু করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বর্ধমানের মহারাজ কীর্তিচাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় পুজোর পরিসর বিস্তৃত হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সন্ধিপুজোর সময় মহারাজের নামে সংকল্প করার রীতিও এই পুজোর ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত। দশমীতেও হয় না বিসর্জন বৈকুণ্ঠপুরের এই জয়দুর্গা পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য, দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না। মন্দিরে দেবীর নিত্যপুজো চলে সারা বছর। দেবীর প্রতিমাও প্রচলিত দুর্গামূর্তির তুলনায় আলাদা। এখানে দেবী চতুর্ভুজা; তাঁর সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক বা গণেশের ...

কলকাতার হারিয়ে যাওয়া কাঠ খোদাই শিল্প

Image
হারিয়ে যাওয়া। কাঠ খোদাই গুরুত্ব জানেন?? আজ বলবো পুরাতন কোলকাতার গল্প। আজ আপনার মোবাইলে বই পেয়ে যান pdf আকারে। কিন্তু সেই সময়টা ছিলো আলাদা।ছাপাখানায়। একটি একটি অক্ষর সাজিয়ে , ছাপিয়ে তুলে ধারা হতো বই। হ্যারিসন রোড হয়ে চিৎপুর , এখানেই চাপা পরে আছে বই ছাপানোর রূপকথা গল্প জিয়োন কাঠি। হ্যা এখানেই থেকেই উনিশ শতকের কাঠ খোদাই বা wood carving কাজ হতো। ছোটো ছোটো ঘুপচি ঘরতে এক নাগাড়ে কিছু মানুষ কাঠের উপর কাঠ রেখে বাটালি আর হাতুড়ির ঘা মেরেই চলতো রাত দিন। চারপাশের কি চলছে তা নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা ছিলো না। এখানে খদ্দেরের ভিড় তেমন নেই,। কাঠের উপর উল্টো অক্ষর কাটচলেছে, কোনও ঘরে আবার কাপড় ছাপার নকশা তোলা হচ্ছে। কোন ঘরে আবার সন্দেশের জন্য কাঠের ছাঁচ কাটার কাজ হতো। উত্তর কলকাতার এই রাস্তার স্মৃতি মনে পড়ে কি আপনার ? সেই সময় বাড়িতে যে পঞ্জিকা আসত, তা এই কাঠের ব্লক থেকেই ছাপা । দারুণ সব ছবি, বিশেষ করে মনে করে দেখুন ফুল ফলের এমনকি বীজের বিজ্ঞাপন থাকতো। নিখুঁত ছবি,বড় লাল মূলা তার মধ্যে একটি ফুল, আবার ফুলকপি, বাঁধাকপির ছবি,, এসবই ছিল কাঠের ব্লক থেকে তৈরি করা। আর ওইসব অন্ধকার ছোটো ছোট...

গণপুর গ্রাম রামেশ্বর শিব মন্দির

Image
গণপুর গ্রাম রামেশ্বর শিব মন্দির কমপ্লেক্স কথা জানান কি আপনি? পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার সিউড়ি সদর মহকুমা মহম্মদ বাজার সি ডি ব্লকের একটি পুরানো গ্রাম গণপুর । গণপুর গ্রাম রামেশ্বর শিব মন্দির কমপ্লেক্স কথা অনেকটাই প্রচারে আড়ালে। বীরভূমের সিউড়ি রামপুরহাট রাস্তার ধারে গণপুর পৌঁছে যেতে পারেন আপনি। চারিদিকে শাল জঙ্গলে ঘেরা গণপুর। ডেভিড জে ম্যাককাশন তাঁর Temples of Bengal, (1972), বই লিখেছেন গণপুরে অনেকগুলি ছোট ছোট চার চালা মন্দির আছে ।যেগুলি ইঁটের তৈরি এবং তাদের সম্মুখভাগ সমৃদ্ধভাবে খোদাই করা ভাস্কর্যে। তিনি ১৭৬৯ সাল নাগাদ প্রতিষ্ঠিত একটি বিষ্ণু মন্দিরেরও উল্লেখ করেছেন ।এটি মণ্ডল পরিবারের দ্বারা নির্মিত একটি আট চালা মন্দির, এবং ইঁট দিয়ে নির্মিত। কয়েকটি পাথর দ্বারা নির্মিত মন্দির ছাড়া বীরভূম জেলার অধিকাংশ মন্দিরই ইট দ্বারা নির্মিত। যে ঐতিহাসিক পটভূমিকায় এই সমস্ত মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় সেইসময় এইগুলির নির্মাণে আশানুরূপ অর্থ সাহায্য রাজকোষ থেকে পাওয়া যায়নি। সাধারণ জমির অধিকারী, পণ্ডিত, ব্যবসায়ীদের দ্বারা অধিকাংশ মন্দিরই প্রতিষ্ঠিত হয়। আগে বীরভূম ছিলো নানা শিল্পে উন্নত। গণপুর, মল্লারপুর...

লক্ষ্মীর বাহন কি শুধু মাত্র পেঁচা?

Image
বাংলার সব পূজা উৎসবে কিছু ব্যাতিক্রম ঘটনা দেখা যায়। যেমন রামকানালী, গঙ্গাজলঘাটিতে লক্ষী পূজাতে পূজা হয় গজলক্ষ্মীর। তবে এই পুজোর প্রচলন হয়েছিল প্রায় ১৪০ বছর আগে। তখন বাঁকুড়ার বেশ কিছু জায়গায় হাতি আক্রমণ করত প্রায়শই, প্রচুর শস্যহানি হতো। তখন তাই গ্রামবাসীরা গজলক্ষ্মীর পূজা করে। এখানে লক্ষ্মীর বাহন রূপে পেঁচা নয় হাতিকে রেখে পুজো করেন। সকলের কাছে তাই তিনি গজলক্ষ্মী।  এদিকে হিন্দু পৌরাণিক গল্প, গজলক্ষ্মী সমুদ্র মন্থনের সময় আবির্ভূত হয়েছিলেন । তিনি ইন্দ্রের হারানো সম্পদ এবং ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছিলেন। তিনি দেবীর রূপ যিনি পশু সম্পদ এবং সম্পদের অন্যান্য প্রতীক যা শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সেক্ষেত্রে কিন্তু মূর্তি ফারাক আছে। দেবীর পায়ের কাছে দুটি সিংহ আছে, আবার দুটি হাতি তাকে জীবনদানকারী জল দিয়ে স্নান করাছে এবং তার বাম এবং ডান পাশে দুটি মহিলা পরিচারক চামর ধরে আছে। তবে গুপ্ত রাজা বৈষ্ণব ছিলেন এবং দেবী লক্ষ্মীকে সর্বোচ্চ সম্মান করতেন।তাদের শাসনামলে বেশিরভাগ মুদ্রায় দেবী লক্ষ্মী সিংহবাহিনী হিসাবে দেখা যায়।গুপ্ত শাসক প্রকাশ দিয়ার শাসনামলের মুদ্রায় গরুড়ধ্বজা এবং উল্টোদিকে লক্...

কলিকাতার গয়না বাড়ি

Image
কোলকাতার গহনা বাড়ি চেনেন?? বামাচরণ ভড় ঠাকুরবাড়ি গয়না বাড়ি হিসেবে পরিচিত।উত্তর কলকাতার নীলমণি সরকার লেনে বামাচরণ ভড়ের বসতবাড়িকে ব্রজকিশোর ঠাকুরবাড়ি বলে চেনে । সরু গলি, বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, কী অপূর্ব স্থাপত্য কারুকার্য অপেক্ষা করছে এই বাড়ির ভেতরে। ইংরেজ আমলে বামাচরণ ভড় এক সফল ব্যবসায়ী। বামাচরণের জন্ম ১৮৫১ সালে। তিনি কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন না। ইংরেজদের পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতা তখন উদীয়মান নগরী, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের পীঠস্থান হয়ে যখন ওঠেছে। তখন এ শহরে বামাচরণ এসে ছিলেন এক ভাগ্যান্বেষী হিসেবে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান, পেটের দায়ে এসেছিলেন কোলকাতায়। কলকাতায়, আর দশজন শ্রমিকের মতো তিনি কাজ শুরু করেছিলেন। কলকাতায় এসে প্রথমে বামাচরণ এক পোশাক তৈরির কারখানায় শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন । এই সংস্থা মূলত ইওরোপীয় পোশাক তৈরি করত। অসম্ভব বুদ্ধিমান ও পরিশ্রমী বামাচরণ ছিলেন। তিনি ব্যবসার যাবতীয় বিষয় করায়ত্ত করলেন। পরে তিনি কলকাতার এক পোশাক প্রস্তুতকারক ইংরেজ কোম্পানির অংশীদার হয়ে বসলেন। আর এই কোম্পানীর মালিক বিলেতে ফিরে গেলেন, পুরো ব্যবসা মালিক হয়ে বসেন বামাচরণ। দক্ষ...

অষ্টনায়িকা_দুর্গা"।

Image
"অষ্টনায়িকা_দুর্গা"। বাঁকুড়া জেলার অযোধ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আমরাল গ্রামের পদ্মাসনা চতুর্ভূজা দেবী দুর্গা অষ্টসখীর সাথে বাপের বাড়ি আসেন,কোনো সন্তানকেই  তিনি আনেন না। গ্রামের গোস্বামী পরিবার এই কুমারী দুর্গার পুজো শুরু করেন বহু বছর আগে। অষ্টনায়িকা_দুর্গা  পদ্মের উপরে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য  কমলেকামিনী দুর্গা  নামে পরিচিত।  পুজোর সময় কামান দাগা হয়। এখানে মা দুর্গা অসুরকে বধ করছেন না। বিষ্ণুপুর থেকে দ্বারিকা-জয়কৃষ্ণপুরের রাস্তা ধরে পৌঁছে যাওয়া যায় এই গ্রামে । স্থান - আমরাল,বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া।

মা তাঁরা আবির্ভাব তিথি।।

Image
শুক্লা চতুর্দশী তিথি মা তাঁরার আবির্ভাব তিথি। এইদিন মা ভক্তদের পুজো গ্রহণ করেন, তারাপীঠ মন্দিরের গর্ভগৃহের বাইরে এসে  ।এই তিথিতে তারা মা কে মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বাইরে বের করে এনে মন্দির প্রবেশপথ সংলগ্ন “ বিরাম মঞ্চে বসানো হয়। এবং তাঁর ছোট বোন মলুটির মা মৌলিক্ষার মন্দির অভিমুখে পশ্চিম দিকে  মুখ করে বসিয়ে পুজো করা হয় ।   লোক কথা অনুযায়ী মলুটি গ্রামের মা মৌলিক্ষা তারা মায়ের ছোট বোন । এই দিন দুই বোনে মুখ দেখাদেখি হয়। লোক কাহিনী অনুযায়ী এইদিন মা নাটোর খান , আর নানকার এর দিকে চান । অর্থাৎ মা তারা নাটোরের রাণীর তৈরী মন্দিরে বসে সারা বছর ভোগ গ্রহণ করেন । আর বছরের এই একটি দিন নানকার রাজপাটে অবস্থিত মৌলিক্ষা মন্দিরের দিকে চেয়ে থাকেন । লোকবিশ্বাস অনুযায়ী পাল রাজত্বের সময়ে জয়দত্ত সওদাগর মায়ের আদেশে দ্বারকা নদের ধারে মহাশশ্মানের শ্বেতশিমূল গাছের তলায় পঞ্চমুন্ডির আসনের নিচে মা তারার শিলামূর্তি উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠা করেন এই ্শু্ক্লা চতুর্দশী তিথিতে। এইদিন  ভক্তরা বিরাম মঞ্চে তারাকে শুধু স্পর্শ নয় একেবারে জড়িয়ে ধরে মনোবাঞ্ছা নিবেদন করতে পারে । বিরাম মঞ্চে কোন কবাট দেওয়া দরজ...

অষ্টক গান

Image
অষ্টক গান সম্পর্ক জানেন কি? লোক সংস্কৃতি এই ধারা কি সত্যি লুপ্তপ্রায়?? নীল ষষ্ঠী' বা নীল পুজো' বাংলার হিন্দুসমাজের এক লৌকিক উৎসব, যেখানে শিবের বিয়ে দেওয়া হয়। চৈত্রসংক্রান্তির চড়ক উৎসবের আগের দিন অনুষ্ঠিত হয় নীল ষষ্ঠী পুজো। মহাদেব শিবের এক নীলকণ্ঠ । সেই নীল বা শিবের সঙ্গে চণ্ডিকা বিয়ে উপলক্ষ্যে লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয় এই পূজায়। পৌরাণিক কাহিনি অনুসায়ী দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহত্যাগের পর সতী পুনরায় নীলধ্বজ রাজার বিল্ববনে সুন্দরী কন্যারূপে আবির্ভূত হন। রাজা তাঁকে নিজ কন্যারূপে লালন-পালন করে শিবের সঙ্গে বিয়ে দেন। নীলপূজা শিব ও নীলাবতীরই বিবাহ-অনুষ্ঠানের স্মারক। নীল পুজোতে শিবকে নিয়ে ,নীলসন্ন্যাসীরা ও শিব-দুর্গার সঙেরা গান করতে করতে বাড়ি বাড়ি ঘােরান এবং ভিক্ষা সংগ্রহ করেন। এ সময় তাদের মুখে শােনা যায় যে বিশেষ ধরনের গান তা ‘নীলের গান' বলেই লোক মুখে পরিচিত। তবে এই নীলের গান হল-অষ্টক গান'। চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন সারাদিন উপােস করে সন্তানবতী হিন্দু মেয়েরা । বিকেলে তারা শিবের মাথায় জল ঢালেন । নীলের ব্রত’ শুনে সন্তানের কল্যাণার্থে প্রদীপ জ্বালিয়...

সাত ভাই কালি মন্দির।।

Image
বনগাঁর সাত ভাই কালি মন্দির কেন বিখ্যাত?? উত্তর চব্বিশ পরগনায় বনগাঁর ইচ্ছামতি নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে,বিরাট বট গাছের তলায় রাস্তার ধারে সাত ভাই কালী মন্দির অবস্থিত । এখানে মা প্রায় শত বছর ধরে পূজিত । মা এখানে খুব জাগ্রত। মায়ের কাছে এসে প্রার্থনা আর মনস্কামনা পূর্ণ হয় । পৌষ মাসের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার সাত ভাই কালীমন্দিরে ধুমধাম করে বিশেষ পুজো হয় । পুজো উপলক্ষে এখানে মেলার আয়োজন হয় । এখানে প্রাচীন বটগাছে ভক্তরা লাল সুতো বাঁধে । কথিত আছে রেলওয়ে পথ তৈরি সময় গাছটি কাঁটার নির্দেশ এলেও গাছটি কাটাতে পারিনি কেউ। লোক কথা অনুযায়ী, যশোরে একজমিদার বাড়িতে কালীচরণ, কালীপ্রসাদ, কালীকিংকর, কালীপ্রসন্ন-সহ মোট সাত ভাই ডাকাতি করতে গিয়েছিলো৷ সেই সময় নাকি মা কালীর তাদের জিজ্ঞাসা করে ধনসম্পদ সাথে তাঁকে নিয়ে যাচ্ছে না কেন? তারপর দেবীর নির্দেশ মতোই তারা মাকেও নিয়ে চলে আসে । শ্মশানের পাশে ইছামতীর পাড়ে বটগাছের তলায় কালী মূর্তিকে প্রতিষ্ঠা করে। এবং দেবীর নির্দেশে কৃষ্ণনগর থেকে চক্রবর্তী বামুনদের নিয়ে আসে নিত্য সেবার জন্য ৷ এক পৌষ মাসের রাত দেবীকে প্রতিষ্ঠা করা হয়।সেই অনুযায়ী আজও প্রতি বছর পৌষ মাসের শনি ...

পুরীর মহাপ্রসাদ

Image
পুরী জগন্নাথ মন্দিরে প্রসাদকে মহাপ্রসাদ বলা হয় কেন? বিভিন্ন পুরাণ যেমন পদ্মপুরাণ, স্কন্দ পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণে জগন্নাথের প্রসাদ বা জগন্নাথের ভোগ এর অপরিসীম মাহাত্ম্য কথা বলা হয়েছে। ভগবান জগন্নাথ, দাদা বলরাম ও দেবী সুভদ্রা এই তিন মূর্তি দর্শন করলে এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণ করলে আমাদের কলুষিত মন কলুষমুক্ত হয় আর আমাদের মনে ভক্তি ভাবের উদয় হয়। আর এই ভক্তি থেকেই আসে প্রকৃত জ্ঞান। প্রকৃত জ্ঞান থেকেই আসে মুক্তি। তাই মুক্তি পেতে অবশ্যই ভক্তিভরে গ্রহণ করুন পুরীর জগন্নাথের প্রসাদ। নিজের প্রসাদ সম্পর্কে প্রভু জগন্নাথ কি বলেছেন এমনকি জগন্নাথ নিজে বলছেন যদি আমার নিবেদিত অন্ন কুকুরের মুখ থেকে পড়ে যায় এবং সেই অন্ন যদি ব্রহ্মাদি দেবগণ সৌভাগ্যবশত লাভ করেন তাহলে তাঁরা সেই অন্ন অনায়াসে ভক্ষণ করতে পারেন। কারণ এর মহত্ত্ব কখনো নষ্ট হয়না। তাহলে কিএর মাহাত্ম্য কি কোনদিন বা কোনভাবে নষ্ট হয়? না হয় না। এই মহাপ্রসাদ শুকিয়ে যাক বা পর্য্যুষিত মানে বাসি হোক অথবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হোক বা অস্পৃশ্য জাতির স্পর্শ পেয়ে এই মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য নষ্ট হয় না। প্রচলিত এক গল্প অনুযায়ী,একবার এক শাস্ত্রজ্ঞ...

চৈতন্য মহাপ্রভু প্রভাবে বাংলার জগন্নাথ

Image
চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রভাবে বাংলার জগন্নাথ কি আলাদা হয়ে গেছেন পুরীর জগন্নাথদেবের থেকে?? বাংলার রথ উৎসব খুব খুব জনপ্রিয়।বাঙালির কাছে কেন এই ভুভারতে জগন্নাথ দেব এতো জনপ্রিয় হয়েছেন কারণ বোধহয় শ্রীচৈতন্যদেব।বাংলার জগন্নাথ সংস্কৃতির প্রাণ পুরুষ। যদিও চৈতন্যদেবের আগেই মাহেশে জগন্নাথ ছিলেন।কিন্তু বাঙালির নিজস্ব জগন্নাথ গড়ে উঠেছে শ্রীচৈতন্যদেবের প্রভাবে। তাঁর প্রভাবে লোকবিশ্বাস অনুসারে বীরভূম একচক্রে গ্রামে গড়ে উঠেছে পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দির ও। এছাড়া সারা বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জগন্নাথে মন্দির এবং রথ উৎসব। কিন্তু বাংলার জগন্নাথ রূপ কিছুটা পাল্টে গেছে , কোথায় কোথায় তাঁর আছে হাত সাথে আছে দিঘল চোখ।পূর্ব বর্ধমান জেলার আউরিয়া গ্ৰামের প্রতিষ্ঠিত হাত সহ আছে জগন্নাথ। বাংলার সংস্কৃতি বাংলার দারুবিগ্ৰহ আলোচনা করলে দেখা যাবে জগন্নাথ দেবের আর তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের।বাংলাতেও অনেক জায়গায় জগন্নাথ ও লক্ষ্মী দেবীকে নিয়ে রথযাত্রায় অনুষ্ঠান হয়। সুবর্ণ বণিক পরিবারে , বৌবাজার অঞ্চলে রথ যাত্রায় জগন্নাথ ও লক্ষ্মী একসাথে দেখা যায়। আবার রামকানাই অধিকারী পরিবারের জগন্নাথ দেবের প...

অম্ববাচী কি ? কামাখ্যার ইতিহাস

Image
মা কামাখ্যা দেবীর ইতিহাস কি....???? অম্ববাচী মেলা কেন পালন করা হয়.......???? যদি না জানেন তো জেনে নিন...পুরান মতে-স্বামীর অপমান সইতে না পেরে সতী দেহত্যাগ করলেন। প্রিয় স্ত্রীকে হারিয়ে, তাঁর দেহ নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য করলেন মহাদেব। চারিদিক তখন তোলপাড়। শিবের নৃত্যে সব ভেঙে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। এই জগতকে রক্ষা করতে দেবতাদের অনুরোধে ভগবান বিষ্ণু ভগবান শিবের ক্রোধ দমন করার পন্থা বেছে নেন। বিষ্ণুর চক্রে সতীর দেহ খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায়। ৫১টি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে শরীরের এক একটি অঙ্গ। যা আজ ৫১টি পীঠস্থান। কামাখ্যা মন্দির সেই ৫১টি পীঠস্থানের একটি। সেখানে নাকি ছিটকে পড়েছিল সতীর যৌনাঙ্গ। তাই সেখানে দেবীর মূর্তি পুজিত হয় না।অসমের কামাখ্যা মন্দির, ধার্মিক কারণে তো বটেই, সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণেও জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রত্যেক বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় করে এই মন্দিরে। বিশেষকরে অম্বুবাচী মেলার সময় ভিড় হয় চোখে পড়ার মতো। সেই সময় পুজিত ভূগর্ভস্থ এলাকা লাল হয়ে থাকে। মন্দিরের নালা দিয়ে বেয়ে যায় লাল জল। এই ঘটনাকে মায়ের ঋতুস্রাব বলে অনেকেই মনে করেন। এই সময় নাকি দেবী ঋতুমতী হন। তিনদিন ধরে এমনটা চলতে থাকে। মন্দ...